তিন শিশুসহ জঙ্গি মারজানের বোনের ‘আত্মসমর্পণ’

0

এনএনবি : যশোরের ঘোপ নওয়াপাড়ায় পুলিশের অভিযানের মুখে বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছেন নব্য জেএমবির জঙ্গি নুরুল ইসলাম মারজানের বোন খাদিজা।

ওই বাড়ি থেকে তিনটি সুইসাইড ভেস্ট উদ্ধারের পর সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামন খাঁন কামাল গতকাল সোমবার বিকাল সোয়া ৩টায় ঢাকায় নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, “এই মাত্র আমার কাছে খবর এসেছে, জঙ্গি মারজানের বোন খাদিজা তিন শিশুসহ আত্মসমর্পণ করেছে। তিন শিশুর বয়স যথাক্রমে সাড়ে ৪ বছর, তিন বছর ও দুই বছর।”

জঙ্গি অবস্থানের খবর পেয়ে রোববার গভীর রাতে পুলিশ ঘোপ নওয়াপাড়া রোড মসজিদের পেছনে চারতলা একটি ভবন ঘিরে ফেলে। ওই ভবনের দোতালার একটি ফ্ল্যাটে বছরখানেক ধরে ভাড়া থাকছিলেন খাদিজা ও তার স্বামী মশিউর রহমান।

সকাল থেকে মাইকিং করে খাদিজাকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হলেও তাতে তিনি সাড়া না দেওয়ায় পাবনা থেকে তার বাবা মো. নিজাম উদ্দিন ও মা সালমা খাতুনকে যশোরে নিয়ে আসা হয়। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে তারা ওই বাসায় ঢোকার পরপরই আত্মসমর্পণ করেন তাদের মেয়ে খাদিজা।

পরে যশোরের পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, খাদিজা ও মশিউর দুজনেই মারজানের মত নব্য জেএমবির সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। বাবা-মা আসার পর বেলা ৩টা ৫ মিনিটে খাদিজা তার তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করে। তারপর তাদের জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে খাদিজার স্বামী মশিউরকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একরামুল হাবিব এক ব্রিফিংয়ে বলেন, তাদের এ অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন মেলটেড আইস’।

তিনি জানান, খাদিজার আত্মসমর্পণের পর ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তিনটি সুইসাইড ভেস্ট পাওয়া যায়। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেগুলো নিস্ক্রিয় করেছে। খাদিজা ও তার সন্তানরা পুলিশ হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অভিযান প্রাথমিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হচ্ছে। ওই বাড়িতে প্রয়োজনে আরও তল্লাশি চালানো হবে।

মারজানের ভাগ্নিপতি মশিউর রহমান চার তলা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন বছরখানেক আগে। সে সময় তিনি একটি ‘হারবাল কোম্পানিতে চাকরি করেন’ বলে বাড়ির মালিক হায়দার আলীকে জানিয়েছিলেন।

যশোর জেলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক হায়দার আলী সপরিবার স্কুলের স্টাফ কোয়ার্টারেই থাকেন। নিজের বাড়ির সব ফ্ল্যাট তিনি ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি এক আত্মীয়ের কাছে খবর পান, পুলিশ তার ঘোপ নওয়াপাড়ার বাড়ি ঘিরে রেখেছে। সকালে তিনি এলেও আর বাড়িতে ঢুকতে পারেননি।

ঢাকা থেকে আসা সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়।

ওই বাড়ির কাছে এনে রাখা হয় একটি অ্যাম্বুলেন্স; ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি এনে রাখা হয় কাছের একটি মাঠে।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের পুলিশ সরিয়ে নেয়। সেই সঙ্গে খাদিজাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে মাইকিং চলতে থাকে।

যশোরে খাদিজার বাসা ঘিরে পুলিশের এই তৎপরতার মধ্যেই পাবনার হেমায়েতপুরের আফুরিয়া গ্রামে মারজানদের বাড়িতে যায় পুলিশ। পাবনা জেলা পুলিশের একটি দল মারজানদের বাবা নিজাম উদ্দিন ও মা সালমা খাতুনকে নিয়ে রওনা হয় যশোরের পথে।

খাদিজা সকালে পুলিশের আহ্বানে সাড়া না দিলেও দুপুরের আগে আগে দোতালার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বাড়িওয়ালা হায়দার আলীর সঙ্গে কথা বলেন।

হায়দার আলী সে সময় বলেন, “তার মা-বাবা এসে পৌঁছালে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন আত্মসমর্পণ করবেন কিনা। বাড়িতে তার তিন ছেলেমেয়ে থাকলেও স্বামী মশিউর নেই বলে জানিয়েছেন।”

বিকাল পৌনে ৩টার দিকে পুলিশের একটি গাড়িতে করে খাদিজার বাবা-মা যশোরের ওই বাড়িতে পৌঁছান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি গাড়ি সেখানে নেওয়া হয় এবং মিনিট পনের পর দ্বিতীয় গাড়িতে করে খাদিজা ও তার সন্তানদের নেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে।

Share.

Leave A Reply