মারজানের পর এবার তার বোন খাদিজার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় বিস্মিত স্বজন ও এলাকাবাসী

0

বিশেষ প্রতিনিধি : গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় হামলার মাস্টার মাইন্ড জঙ্গি মারজান নিহত হওয়ার ৯ মাস পর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলো তারই আপন ছোট বোন খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে। সোমবার যশোরের নোয়াপাড়ার একটি বাসায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্তানসহ আত্মসমর্পন করেন তিনি। এ খবর গণমাধ্যমে জানার পর বিস্মিত পাবনায় খাদিজার গ্রামের বাড়ির স্বজন ও এলাকাবাসী। ভাই জঙ্গী হিসেবে নিহত হবার পর তার বোন কিভাবে সে পথে পা দিলেন তা জানেন না কেউ। এলাকাবাসীর দাবি, জঙ্গী সংশ্লিষ্টতা থাকলে প্রচলিত আইনে বিচার হোক খাদিজার।

ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় হামলার মাস্টার মাইন্ড মারজানের পরিচয় মেলে গেলো বছরের ১৫ আগষ্ট। মারজানের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামে। এরপর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারী রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর বেঁড়ীবাধ এলাকায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় মারজানসহ দু’জন। মারজান মারা যাওয়ার ৯ মাস পর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলো তার আপন ছোট বোন খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে যশোরের ঘোপ নোয়াপাড়ার একটি বাসায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আত্মসমর্পনের আহবান জানালে সোমবার দুপুরে বাবা-মা’র উপস্থিতিতে সেই বাসা থেকে তিন সন্তানসহ আত্মসমর্পন করেন খাদিজা আক্তার। গণমাধ্যমে এই খবর জানার পর বিস্মিত খাদিজার নিজ এলাকা পাবনার আফুরিয়া গ্রামের স্বজন ও এলাকাবাসী।

স্বজনরা জানান, নিজাম উদ্দিন-সালমা সুলতানা দম্পতির ১০ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় খাদিজা। পাবনার বালিয়াহালট আমজাদ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় তার বিয়ে হয় জয়পুরহাটের হাদিসুর রহমানের সাথে। সর্বশেষ এক বছর আগে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন খাদিজা। তারপর আর তার কোনো খোঁজ ছিলনা। সোমবার সকালে তার বাবা-মাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে যাওয়ার পর জানতে পারেন খাদিজার জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার বিষয়। কিন্তু এ অভিযোগ মানতে পারছেন না স্বজনরা।

খাদিজার ছোট বোন আয়শা খাতুন জানায়, সোমবার সকালে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি বাবা-মা নেই। পরে শুনেছি, পুলিশ আমার বাবা-মাকে যশোর নিয়ে গেছে। সেখানে আমার বড় বোন খাদিজাকে আত্মসমর্পন করাতে বাবা-মাকে সেখানে নিয়ে গেছে। জয়পুরহাটে বিয়ে হলেও তার বোন কিভাবে যশোর গেলো তা জানে না আয়শা।

এলাকাবাসীর কয়েকজনের সাথে কথা হলে জানান, ছোটবেলায় খাদিজা ভাল ও মেধাবী মেয়ে হিসেবে পরিচিতি ছিল সবার কাছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় বিস্মিত তারা। কিভাবে এই পথে পা বাড়ালেন খাদিজা, তা জানেন না এলাকাবাসীর কেউ। তবে তারা বলছেন, খাদিজা জঙ্গী হলে প্রচলিত আইনে বিচার হোক তার।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম জানান, জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে যশোরের নোয়াপাড়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে জঙ্গী মারজানের বোন খাদিজা অবস্থান করায় তাকে আত্মসমর্পন করার আহবান জানান অভিযানে নেতৃত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। কিন্তু খাদিজা আত্মসমর্পন করতে তার বাবা-মা’র উপস্থিতির শর্ত দেয়। সে লক্ষ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পাবনা থেকে তার বাবা-মাকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে যশোর পাঠানো হয়। তবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

Share.

Leave A Reply