যথাযথ মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত

0

স্টাফ রিপোর্টার : যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়েছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। এদিন ভোরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ দুর্জয় পাবনায় পুস্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পাবনা প্রেসক্লাব, পাবনা চেম্বার অব কমার্স,  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জেলা আইনজীবী সমিতি, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী, বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র, ললিত কলা কেন্দ্র ইফা, জেলা ইলেক্ট্রনিক্স এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সকালে শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে সালাম গ্রহন করেন জেলা প্রশাসক। সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দৃষ্টিনন্দন ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। পাবনা রাইফেল ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত শ্যুটিং প্রতিযোগিতা। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাবনা কালেক্টরেট মডেল স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় মহিলাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। শহীদ আমিন উদ্দিন ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা একাদশের মাঝে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি শিবজিত নাগ, অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর মহাসচিব আব্দুল মতীন খান প্রমূখ। অনুষ্ঠানে বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক  ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিজয় দিবস পালন করে তা বিবৃতির মাধ্যমে প্রেলন করেন গণমাধ্যমে।

পাবিপ্রবি :  বিজয় দিবস উপলক্ষে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকালে প্রশাসনিক ভবন থেকে বিজয় র‌্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উপাচার্য প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরীর পক্ষে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আনোয়ার পারভেজ খসরু।

ফুল দিয়ে আরো শ্রদ্ধা জানান- শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট, অফিসার্স এসোসিয়েশন, কর্মচারী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু হল কর্তৃপক্ষ, শেখ হাসিনা হল কর্তৃপক্ষ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড,ছাত্রলীসহ বিশ^বিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। শ্রদ্ধার্ঘ্য শেষে দোয়া করা হয়।

 

এরপর   সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায়  উপাচার্য প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরী এক বাণীতে বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্বাধীনতার রুপকার। ০৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ। শহীদদের স্বপ্নকে-চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর সোনারবাংলা গড়তে হবে।

 

উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া। বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে এক কাতারে এনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের হাল ধরেছেন জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে শক্তিশালী করতে হবে।

কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ বলেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখতেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে হলে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যাতে মাথা তুলে দাড়াতে না পারে সেজন্য আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে এক হতে হবে।

 

মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের শিক্ষক ইউনিটের আহবায়ক  ড. মোঃ হাবিবুল্লাহ’র সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রক্টর আওয়াল কবির জয় , ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন মোঃ সাইফুল ইসলাম, রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ড. এম আব্দুল আলীম, ছাত্র উপদেষ্টা ড. হাসিবুর রহমান, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার বিজন কুমার বহ্ম, অফিসার্স এসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ ডন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওলিউল্লাহ ও কর্মচারী পরিষদের সভাপতি জামসেদ পলাশ প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজনেস ষ্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. আমিরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোষ্ট ড. মীর খালিদ ইকবাল চৌধুরী, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ কামরুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কিসলু নোমান, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান এনামুল হক, ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান আশীষ কুমার সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক এসএম গোলজার হোসেন, উপ-রেজিস্ট্রার কামরুল হাসান ও তাওহিদা খানম, সহকারী পরিচালক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের আহবায়ক ফারুক হোসেন চৌধুরীসহ শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসিজদে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্যাটমিন্টন প্রতিযোগীতা শুরু হয়।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স :  যথাযোগ্য মর্যাদায় পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি‘র উদোগে শনিবার ভোরে পাবনায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন হয়েছে। সকাল ৮টায় পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সভাপতি সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি ও সহসভাপতি ফোরকান রেজা বাদশা বিশ্বাসের নেতৃতে শহরে বিশাল বিজয় শোভাযাত্রা বের করা হয়।

পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘দুর্জয় পাবনা’ ফুলের তোরা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চেম্বার নেতৃবৃন্দ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পাবনা চেম্বারের পরিচালক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা চেম্বারের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন, উত্তম কুমার কুন্ডু, ফারুক উজ জামান চৌধুরী, মাসুদুর রহমান মিন্টু, আশরাফ উজ জামান মিঠু, এএইচএম রেজাউন জুয়েল, ফরিদুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন জামিম, মিরাজুল আলম রুবেল ও এবিএম ফজলুর রহমান।

সরকারি মহিলা কলেজ : পাবনা সরকারি মহিলা কলেজে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পূর্তিতে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে কলেজ প্রশাসন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। কর্মসুচির মধ্যে ছিল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কলেজচত্ত্বরের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল ১০ টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল, দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব প্রফেসর শফিকুল ইসলাম, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ছাবেদ আলী ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক শাহাদাৎ ইকবাল। এর পূর্বে শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকেও কলেজচত্ত্বরের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাতিয়ার রহমান, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আকতারুজ্জামান। ছাত্রীদের মধ্যে বক্তব্য রাখে একাদশ বিজ্ঞান শাখার জারিন তাসনিম। একাদশ বিজ্ঞান শাখার তাসনিম ইসলাম জিনিয়ার পবিত্র কোরান তেলওয়াতের পরপরই স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে একটি মিলাদ ও দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিষয়ে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সব প্রতিযোগিতায় যারা পুরস্কার পেয়েছে তাদের মধ্যে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেছে দ্বাদশ বিজ্ঞান শাখার তানজিলা পূণম প্রজ্ঞা, ২য় স্থান অধিকার করেছে একাদশ বিজ্ঞান শাখার মুঞ্জিলা পারভীন, ৩য় স্থান অধিকার করেছে Ñদ্বাদশ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার আলিফা খাতুন, দেশাত্মবোধক গান প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেছে দ্বাদশ বিজ্ঞান শাখার তানজিলা পূণম প্রজ্ঞা, ২য় স্থান অধিকার করেছে একাদশ বিজ্ঞান শাখার মুঞ্জিলা পারভীন, “মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ” শিরোনামে প্রবন্ধ রচনা লিখন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেছে একাদশ বিজ্ঞান শাখার রোকসানা আক্তার, ২য় স্থান অধিকার করেছে একাদশ বিজ্ঞান শাখার মনিরা মওলা, ৩য় স্থান অধিকার করেছে একাদশ মানবিক শাখার রুকাইয়া রহমান। অনুষ্ঠান শেষে কলেজের ছাত্রীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এ অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খালেক মিঠু।

 

বর্ণমালা কিন্ডারগার্টেন : ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণমালা কিন্ডারগার্টেন আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নুরুল হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাজী সরোয়ার রহমান মুকুট। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারী ছাইদুল হাসান কিরণ, শামসুজোহা টপর, ফরহাদ উল্লাহ, নিরু শামসুন্নাহার, আঞ্জুমান আরা শিখা প্রমূখ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিরিনা জেসমিন, রাবেয়া খাতুন, মাহফুজা আফরোজ, হোসনে আরা, রেশমা আক্তারসহ স্কুলের অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শায়লা শারমিন। আলোচনার আগে বিজয় র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতের শহীদদের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

চিকনাই কল্যান সমিতি : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চিকনাই কল্যান সমিতির উদ্যোগে সকাল ৭ ঘটিকায় সমিতির কার্যলয় হতে এক বর্নাঢ্য র‌্যালী শহর প্রদক্ষিণ শেষে বিজয় স্বরনীতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। র‌্যালী নেতৃত্ব দেন সমিতির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-  সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাষ্টার এবং উপদেষ্টা বিশিস্ট ব্যবসায়ি আলহাজ্ব মহাসিন আলী। আরো উপস্থিতি ছিলেন সমিতির সহসভাপতি অধ্যক্ষ তুরাব আলী, সাধারন সম্পাদক আবু বকর, সহ সাধারন সম্পাদক ওসমান গনি, কোষ্যদক্ষ ডা: হাফিজুর রহমান হেলাল উদ্দিনসহ সমিতির সকল সদস্যবৃন্দ ও গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ র‌্যালীতে অংশ গ্রহন করেন।

রোটারী ক্লাব অব রূপকথা: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রোটারী ক্লাব অব রূপকথা পাবনা আলোচনা সভা ও বিজয় র‌্যালীর আয়োজন করে। সকালে ক্লাব প্রাঙ্গণ হতে বিজয় র‌্যালী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান করা হয়। পরে রোটারী ক্লাব অব রূপকথা পাবনা কার্যালয়ে ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান খায়রুজ্জামান আহমেদ অরুণের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন রোটা. শহিদুল ইসলাম, রোটা. আতাউর রহমান, রোটা. সাইফুল আলম, রো. তাহমিনা ইয়াসমিন, রো. আব্দুল আলিম, রো. সাজেদুর রহমান প্রমূখ। সভায় শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেক্রেটারী রোটা. কে.এম. ফয়সল মুর্শেদ টিটু।

হাজী জসীম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ: হাজী জসীম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে উদযাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। শনিবার দিবসটি উপলক্ষে কলেজ মিলনায়তনে কবিতা আবৃতি, উপস্থিত বক্তব্য, রচনা প্রতিযিাগীতা ও আলোচনা সভা সহ নানা কর্মসুচী পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে কলেজ মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের  অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হোসেন বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অংশ গ্রহন করেন- কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস, ্উপাধ্যক্ষ লুৎফর রহমান, সুজাউদ্দিন মিয়া, রেজাউল করিম, মো. হাতেম আলী, কোমল চন্দ্র দাস, ইউনুস আলী প্রমুখ। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ী ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ। দোগাছি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ : দোগাছি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে উৎযাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। শনিবার দিবসটি উপলক্ষে কলেজ মিলনায়তনে কবিতা আবৃতি, উপস্থিত বক্তব্য, রচনা প্রতিযোগীতা ও আলোচনা সভা সহ নানা কর্মসুচী পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে কলেজ মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের  সভাপতি এ্যাড. খন্দকার অব্দুল জাহিদ রানা এর সভাপতিত্বে  আলোচনা সভায় অংশ গ্রহন করেন- অধ্যক্ষ  মেনহাজ উদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন মন্টু, সমাজ সেবক আলতার হোসেন, প্রধান আলোচক, জনাব ডা. মোখলেছ মুকুল, আওামীলীগ নেতা বেলাল  হোসেন, ডা. ওয়াহিদুল ইসলাম টুনু, কলেজের সহ:অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম এবং দোগাছী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম আমিনুল হক এবং ছাত্র/ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ছাব্বির হোসেন প্রমুখ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদাদ্ধে শহীদদের  রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক মাওলানা মো. শামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠান রিচালনা করেন প্রভাষক আজমত আলী। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ী ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ফরিদপুর প্রতিনিধি : দু’দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ফরিদপুরে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়। ১৫ ডিসেম্বর চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা। ১৬ ডিসেম্বর ৬ টা ৩০ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন সকাল ৭টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পন, ৮ টা ৩০ মিনিটে সমবেত কন্ঠে জাতযি সংগীত পরিবেশন, আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন সালাম গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন। সালাম গ্রহণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তোফায়েল হোসেন এবং ওসি শরিফুল আলম। উপজেলা চেয়ারম্যান সালাম গ্রহণ অনুষ্ঠানে জাতীয় উন্নয়ন ও এলাকার উন্নয়নসহ বর্তমান সরকারের কর্মকান্ড তুলে ধরেন। ১০ টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ১০ টা ৩০ মিনিটে শরীর চর্চা ও ডিসপ্লে প্রদর্শন। ডিসপ্লে প্রদর্শনে খাগরবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭ জন বীর শ্রেষ্ঠ স্মরণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে প্রথম স্থান অধিকার করে। বাদযোহর সুবিধাজনক সময়ে জাতির শন্তি, সমৃদ্ধ ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা দুপুরে হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন। বিকেলে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান অংশ গ্রহণকারী সর্বস্তরের মানুষের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। ৫ টা ৪৫ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে ফরিদপুর পৌর সভার উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানুষকে মুগ্ধ করে।

বেড়া প্রতিনিধি : বেড়ায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিকএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কান, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগীতা ও “সুখী সমৃদ্ধ, ক্ষুদা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী পালন করে। বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে। বেড়া পৌর বিএনপির উদ্যোগে আলমদিনা চাল মিল চত্বরে ফজলুর রহমান ফকিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস ছামাদ লাল, সাধারন সম্পাদক সালাউদ্দিন ইকবাল, সাজেদুল ইসলাম দীপু, আব্দুস ছামাদ সামু, নজরুল ইসলাম, সামসুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল বাসেদ প্রমূখ।

জান্নাতবিবি জুবিলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় :  বিজয় দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয় জান্নাতবিবি জুবিলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭.৩০মি: শরীরচর্চা শিক্ষক আখতার আফসিন হোসেন বিদ্যালয়ের ২৬ জন ছাত্রীকে নিয়ে ষ্টেডিয়ামে নিয়ে যান এবং ছাত্রীরা সেখানে পি টি প্যারেট ও কুজকাওয়াজ অংশ গ্রহন করে। সকাল ১০টায় ষ্টেডিয়ামে থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ফিরে আনা হয়। এ বিষয়ে সহযোগীতা করেন সহ: শিক্ষক মৌসুমী আক্তার, ফাতেমা তুজ জোহরা ও শিশির কুমার মন্ডল। বিজয় দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যামে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান, সহঃ শিক্ষক শারমিন পারভীন, ফাতেমা তুজ জোহরা। স্বাধীতা সংক্রান্ত কবিতা  আবৃত্তি করেন সহঃ প্রধান শিক্ষক মোহা: আতাউর রহমান , প্রধান অতিথি উপস্থিত থেকে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস সম্পর্কে বক্তব রাখেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সম্মানিত সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব আব্দুল হোসেন খান মোহন। সভাপতি হিসাবে বিজয় দিবস ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন। সর্বশেষে শহীদদের আতœার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও তবারক বিতরন করা হয়। দোয়া পরিচারনা করেন বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক জামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আতাউর রহমান।

Share.

Leave A Reply