আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা হংকংয়ের প্রতিবাদকারীদের

0

এফএনএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিচারের জন্য বাসিন্দাদের চীনের মূলভূখ-ে পাঠানোর সুযোগ রেখে করা বহিঃসমর্পণ বিল পাসের পরিকল্পনা থেকে হংকংয়ের সরকার সরে এলেও প্রতিবাদকারীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববারের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বহাল রাখার কথা জানানোর পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা বিতর্কিত ওই বিলটি প্রত্যাহার এবং হংকংয়ের শীর্ষ নির্বাহী ক্যারি লামের পদত্যাগও চেয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। প্রস্তাবিত ওই বহিঃসমর্পণ বিল নিয়ে হংকং গত সপ্তাহে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ ও সহিংসতা দেখেছে। আন্দোলনকারীরা হংকংয়ের ওপর বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় উদ্বেগ জানিয়েছে। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য চীনের কাছে হংকংকে হস্তান্তর করলেও, বেশ কিছু ক্ষেত্রে শহরটির স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেয়। সাবেক এ ব্রিটিশ কলোনির কারণেই চীনকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থাপনার’ নীতিতে চলতে হচ্ছে। রোববারের বিক্ষোভ কর্মসূটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই হবে বলে জানান আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া অন্যতম সংগঠন সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্টের জিমি শাম। বিতর্কিত ওই বিলটিকে ‘ছুরি’র সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি। “এটি প্রায় আমাদের হৃদয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। সরকার এখন বলছে তারা এ নিয়ে আর অগ্রসর হবে না, কিন্তু তারা এটিকে সরিয়ে নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে,” বলেন তিনি। এর আগে লাম তার সরকারের প্রতি জনগণের ‘বিরতি দাও ও চিন্তা কর’ আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রস্তাবিত বিলটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। “কাজের ঘাটতি ও বিতর্ক সৃষ্টি করা অন্যান্য বিষয়ের জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত,” বলেন তিনি। বিলটির ব্যাখ্যা ও জনগণকে বোঝাতে তার সরকারের কাজ ‘যথেষ্ট’ ছিল না বলেও লাম স্বীকার করে নেন।

আইন পরিষদে জুলাইয়ের আগে বিলটি পাসের যে তৎপরতা ছিল, ‘সম্ভবত তা এখন আর বিদ্যমান নেই’ বলেও আশ্বস্ত করেন এ শীর্ষ নির্বাহী। তবে বিলটি স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

প্রস্তাবিত ওই বিলে তাইওয়ান, ম্যাকাউ বা চীনের মূলভূখ-ে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হংকংয়ের বাসিন্দাদের আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বহিঃসমর্পণের সুযোগ রাখা হয়েছিল। একে ব্যবহার করে চীন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি রাজনীতিকদের ওপর দমনপীড়ন চালাতে পারে বলে আশঙ্কা সমালোচকদের। বেইজিংপন্থি রাজনীতিকদের মতে, বহিঃসমর্পণের সুযোগ না থাকায় হংকং চীনের অন্যান্য অংশের অপরাধীদের স্বর্গে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার লংঘন রুখতে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে হংকংয়ের আদালতকেই মামলা ধরে ধরে বহিঃসমর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ারও বিলে দেওয়া হয়েছে, ভাষ্য তাদের। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, বিলটি কার্যকর হলে হংকংয়ের বেইজিংবিরোধী হিসেবে পরিচিতরা কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রণাধীন চীনের বিচারব্যবস্থার জালে আটকা পড়বেন।

বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গত গতকাল শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য, শিক্ষকসহ লাখো বাসিন্দা হংকংজুড়ে বিক্ষোভ দেখায়। মঙ্গলবার আইন পরিষদের বাইরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীরা সংঘর্ষেও জড়ায়। বিক্ষোভকারীদের সরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে হয়।

লাম সেসময় বিলটি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখালেও পরে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটি স্থগিতে হংকংয়ের শীর্ষ নির্বাহীর ঘোষণায় সমর্থন জানায়। “হংকংয়ের সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান ও সমর্থন জানাচ্ছে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার,” এক বিবৃতিতে বলেছেন মুখপাত্র গেং শুয়াং। চীনের এ ‘বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল’ বিষয়ে বিদেশিদের আগ্রহের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন তিনি। “এটি পুরোপুরিই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়; এতে অন্য কোনো রাষ্ট্র, সংগঠন বা ব্যক্তির হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না,” বলেছেন তিনি।

 

Share.

Leave A Reply