আবাহনীকে গুঁড়িয়ে দিলেন শুভাশিস-শহীদ-নাবিল

0

এফএনএস স্পোর্টস: মুখোমুখি পয়েন্ট তালিকার দুই শীর্ষ দল। অপেক্ষা ছিল আগুনে লড়াইয়ের। কিন্তু ম্যাচ হলো একপেশে। নতুন বলে শুভাশিস রায় ও মোহাম্মদ শহীদের বোলিংয়ে বিধ্বস্ত হলো আবাহনীর টপ অর্ডার। মিডল অর্ডার ধুঁকল নাবিল সামাদের স্পিনে। অনায়াস জয়ে রূপগঞ্জ ধরে রাখল অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রা।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই জয় তাদের তুলে নিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার আবাহনীকে ১২২ রানে গুটিয়ে দিয়ে রূপগঞ্জ জিতে গেছে ২৬.৫ ওভারেই।

দুর্দান্ত প্রথম স্পেলে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা শুভাশিস রায়। ১০ ওভারে ৪ মেডেন নিয়ে মাত্র ১৫ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন নাবিল। ২ উইকেট নেওয়া শহীদ ৪ মেডেন নিয়েছেন ৮ ওভারে।

শুভাশিস ও শহীদের প্রথম স্পেলই অনেকটা নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। আগের রাতের বৃষ্টিতে উইকেট সকালে ছিল স্যাঁতস্যাঁতে। আর্দ্রতাও ছিল যথেষ্ট। দুই পেসার বোলিং করেছেন দারুণ। সঙ্গে যোগ হয়েছিল আবাহনীর বাজে ব্যাটিং।

ম্যাচের প্রথম বল থেকেই শুরু হয় আবাহনীর দুর্দশা। শুভাশিসের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম।

শুভাশিস পরে ফিরিয়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকারকে। সতীর্থের বোলিংয়ে উজ্জীবিত শহীদের শিকার প্রিয়াঙ্ক কিরিত পাঞ্চাল ও সাব্বির রহমান।

আগের মাচে ১০ বলে শূন্য রানে ফেরা ভারতীয় ব্যাটসম্যান প্রিয়াঙ্ক এবার ২১ বলে করেছেন ১। সাব্বির পাননি রানের দেখা। দ্বাদশ ওভারে আবাহনীর রান তখন ৫ উইকেটে ২৯।

মোহাম্মদ মিঠুন ও মোসাদ্দেক হোসেন চেষ্টা করেন দলকে উদ্ধারের। দারুণ চাপেও মিঠুনের ব্যাট ছিল সাবলীল। খেলেছেন দারুণ কয়েকটি শট। কিন্তু তার বাধা হয়ে দাঁড়ান নাবিল। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার বোলিং করেছেন প্রায় নিখুঁত। ব্যাটসম্যানদের দম ফেলার ফুরসত দিচ্ছিলেন না। মিঠুন চেষ্টা করছিলেন বারবার বেরিয়ে এসে রান করার চেষ্টা করতে। সেটির ফায়দা নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে নাবিল ফিরিয়ে দেন ৩৮ রান করা মিঠুনকে।

এরপর লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে খানিকটা লড়েছেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক। শেষ দিকে মাশরাফি বিন মুর্তজার ২ ছক্কায় কিছুটা বাড়ে দলের রান। সঙ্গীর অভাবে মোসাদ্দেক অপরাজিত থেকে যান ৪০ রানে।

রান তাড়ায় রূপগঞ্জ অর্ধেক পথ পেরিয়ে যায় উদ্বোধনী জুটিতেই। মেহেদি মারুফ ও মোহাম্মদ নাঈম গড়েন ৬২ রানের জুটি।

২০ বলে ২২ রান করে আউট হন নাঈম। আলগা ব্যাটিংয়ে আরও তিনটি উইকেট হারায় রূপগঞ্জ। ৫৯ রানে ফেরেন মারুফ। কিন্তু জিততে কোনো বেগ পেতে হয়নি রূপগঞ্জকে।

১০ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে রূপগঞ্জ উঠল শীর্ষে। সমান ম্যাচে দুটি হারে আবাহনীর পয়েন্ট ১৬।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী: ৩৯.১ ওভারে ১২২ (জহুরুল ০, সৌম্য ১৪, শান্ত ৬, প্রিয়াঙ্ক ১, মিঠুন ৩৮, সাব্বির ০, মোসাদ্দেক ৪০*, সাইফ ১, মিরাজ ৫, মাশরাফি ১৫, অপু ১; শুভাশিস ৮-০-৩৭-৩, শহিদ ৮-৪-১১-২, ধাওয়ান ৬.১-০-১৭-১, নাবিল ১০-৪-১৫-২, মুক্তার ৭-০-৪২-১)।

রূপগঞ্জ: ২৬.৫ ওভারে ১২৫/৪ (মারুফ ৫৯, মোহাম্মদ নাঈম ২২, মুমিনুল ১৭, জাকের ২, নাঈম ইসলাম ৩*, শাহরিয়ার ১২*; মাশরাফি ৩-০-১৫-০, মিরাজ ৪-১-২০-০, অপু ৪-০-৩৩-১, সাইফ ৬-০-১৬-১, সৌম্য ৪-০-১৮-০, মোসাদ্দেক ৪-০-১০-০, সাব্বির ১.৫-০-১৩-১)।

ফল: লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: শুভাশিস রায়

 

Share.

Leave A Reply