এনজিও খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে

0

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবার এনজিও খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বৃহস্পতিবার সংস্থাটির কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাতে বলা হয়েছে দেশের এনজিওবিষয়ক ব্যুরো ও এনজিওগুলোর নজরদারি করছে যেসব প্রতিষ্ঠান, সেগুলোর একাংশ জড়িয়ে আছে দুর্নীতিতে।

এনজিও খাতের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা বলে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তার বক্তব্যে সেগুলোকে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, এনজিও ব্যুরোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দুর্নীতি, সংশ্লিষ্ট আইনে দুর্বলতা, দুর্বল পরিচালনা পর্ষদ গঠন, সমন্বয়-পরীক্ষণ-মূল্যায়ন-নিরীক্ষার ঘাটতি এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের একাংশের অযাচিত হস্তক্ষেপ ইত্যাদি এনজিও খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ।

টিআইবি দেশের এনজিও খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছে, সেটাকে যথার্থই মনে হয়। দেখা গেছে, এনজিওগুলোর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও মূল্যায়নকারী পরামর্শকদের নিয়ে শুধু সফল কর্ম-এলাকা পরিদর্শন করানো হয়।

আরও দেখা গেছে, নীতিনির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত পরিচালনা পরিষদের সভায় অনুমোদনের বিধান থাকলেও প্রায় ক্ষেত্রেই প্রধান নির্বাহী এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ভুয়া ক্রয় রসিদ বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, তদারকি প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ প্রদান এবং কর্মসূচি বাজেট থেকে তা পূরণসহ এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে প্রকল্পের মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে রয়েছে আরও নানা ধরনের অভিযোগ। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এগুলোর অভ্যন্তরে সংঘটিত দুর্নীতি-অনিয়মের প্রতিকার করার কথা যার, সেই এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো সেই দায়িত্ব পালন না করে বরং নিজেরাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে এনজিও ব্যুরোসহ এনজিওগুলোর কাজ সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান, সেগুলোও দায়িত্ব পালন করছে না, বরং সমন্বয় সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রবণতাও রয়েছে তাদের মধ্যে।

এনজিওগুলো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছে বলে ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই উন্নয়ন কর্মকা- কতটা হচ্ছে অথবা উন্নয়ন কর্মকা-ের ছদ্মাবরণে কতটা পকেটপূর্তি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।

এনজিও ব্যুরো ও তার তদারকি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে টিআইবি যেসব অভিযোগ এনেছে, সেগুলোর ভিত্তিতে এনজিও ব্যুরো ও এনজিওগুলোর অভ্যন্তরে প্রকৃতই কী ঘটছে তার তদন্ত সাপেক্ষে সমস্যাটির বিহিত হওয়া দরকার।

Share.

Leave A Reply