কক্সবাজারে ‘বন্দুকযদ্ধে’ নিহত ৩

0

এনএনবি : কক্সবাজারেরে কথিত বন্দুকযুদ্ধের দুই ঘটনায় এক রাতে তিনজন নিহত হয়েছেন; যারা একাধিক মামলার আসামি ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

গতকাল শুক্রবার রাতে কক্সবাজার শহরের খুরুশকূল রাস্তারমাথা সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় এবং টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকায় গোলাগুলির এসব ঘটনা ঘটে।

খুরুশকূল এলাকায় অভিযানের বর্ননায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. হুমায়ূন কবির বলেন, ছিনতাইয়ের খবরে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ছিনতাইকারী রাত পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে।

“এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

নিহত কোরবান আলী (২৫) কক্সবাজার শহরের মোহাজের পাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।

কোরবানকে ‘চিহ্নিত ছিনতাইকারী দাবি করে ওসি বলছেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কক্সবাজার শহরের গোলচক্কর এলাকায় আবু তাহের সাগর নামের এক পর্যটক হত্যা মামলার আসামি সে।

“এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল।”

এছাড়া কোরবানের তার বড় ভাই মোহাম্মদ নিখিলও একজন তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী। তারা কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করতো বলে ওসি হুমায়ূনের ভাষ্য।

এ গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন; এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের গুলিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, শুক্রবার রাত ২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- টেকনাফ পৌরসভার নাজির পাড়ার এজাহার মিয়ার ছেলে নূর মোহাম্মদ (৪০) এবং জালিয়াপাড়ার আব্দুর শুক্কুরের ছেলে নুরুল আমিন (৩৫)।

পুলিশ বলছে, নিহত দুজনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ‘ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়ী’।

তাদের মধ্যে নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং ও সাংবাদিকদের উপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। আর নুরুলের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত তিনটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়ার পাহাড়ি এলাকায় মাদক কারবারিরা জড়ো হয়েছে খবর পেয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

“পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়িরা গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে ইয়াবা ব্যবসায়িরা পিছু হটে যায়। পরে ঘটনাস্থলে দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।”

গুলিবিদ্ধ দুইজনকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা, আটটি বন্দুক ও ২০টি গুলি উদ্ধার হয়েছে।

এ অভিযানে পাঁচ পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে ওসির ভাষ্য।

তিনি বলেন, টেকনাফ থানার এএসআই সঞ্জিব দাশ, কনেস্টেবল আল আমিন, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ এরশাদুল ও মোহাম্মদ সাব্বিরকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

Share.

Leave A Reply