কুলুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি গাছ বিক্রিসহ নানা অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার : বিনা টেন্ডারে বা উন্মুক্ত দরপত্র আহবান না করেই বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার টাকার গাছ। এছাড়া নানাবিধ কারন উল্লেখ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ। এসব ঘটনা সদরের দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া ৯৩ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এলাকাবাসী বলছেন, দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে এই বিদ্যালয়। এলাকার প্রায় দুইশো মানুষ বিষয়টি আবেদন আকারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে জানিয়েছেন। আবেদনকারীদের মাঝে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদসহ নানা পেশার মানুষ। এলাকাবাসীর আবেদনে উঠে আসে নানা অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের পূর্বে ঐ জায়গাটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ টি বড় মেহগনি গাছ ছিলো, বিদ্যালয়ে ২০ হাজার টাকা মূল্যমানের ২ টা আমের গাছ ছিলো, ৫ হাজার টাকা মূল্যের ১ টা কাঁঠাল গাছ ছিলো, ৬ হাজার টাকা মূল্যের ৩ টা নারিকেল গাছ ছিলো। এখন একটি গাছও নেই। বিনা টেন্ডারে বা উন্মুক্ত দরপত্র আহবান না করে এগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য ছাড়া এবিষয়ে কেউ কিছুই জানে না। প্রতি বছর শিশু শ্রেনীতে ভর্তির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বাধ্যতামূলক ৫০ টাকা করে গ্রহন করা হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছর ৬০ টাকা হিসেবে বিদ্যুৎ বিলের নামে বাধ্যতামুলক বিপুল পরিমান টাকা আদায় করা হয়। সরকারিভাবে বিদ্যুৎখাতে বিদ্যালয়ে কতো টাকা দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিলের নামে আদায়কৃত মোট টাকা হিসেব করলে কতো টাকা দাড়ায়, তার একটা হিসাব তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করছেন আবেদনকারীরা। বিদ্যালয়ে একজন আয়া রয়েছে, এই আয়ার জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গ্রহন করা হয় ৫০ টাকা করে। সে হিসেবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হিসেব করে মোট আদায়কৃত টাকা এবং উক্ত আয়াকে কতো টাকা দেওয়া হয় ও এ হিসেবটি কিভাবে সংরক্ষন করা হয়,তা একমাত্র প্রধান শিক্ষক ছাড়া আর কেউ বলতে পারে না। প্রতি বছর বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোন রকম রশিদ ছাড়া মৌখিকভাবে জন প্রতি ৬০ টাকা করে আদায় করা হয়। সরকার নির্ধারিত পরীক্ষা ফি আদায় না করে এই বিদ্যালয়ে শ্রেনী মোতাবেক প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৫ টাকা থেকে ৪৫ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করেন এলাকার অভিভাবকেরা। প্রধান শিক্ষক শ্রেনী মোতাবেক গাইড বই বাধ্যতামূলকভাবে কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। সমাপনী সনদপত্র প্রদানের সময়ে টাকা নেওয়ার বিধান না থাকলেও এখানে টাকা গ্রহন করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। আবেদনকারীরা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেই একটা তদন্ত টিম গঠনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের ক্যাশ সংক্রান্ত জমা খরচের হিসাব, রেজুলেশন বই, ব্যাংক হিসাব জব্দ করে পর্যালোচনা করলে উল্লেখিত সকল অভিযোগের অকাট্য প্রমান ও সত্যতা মিলবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ও শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের এমন অর্থনৈতিক শোষনের হাত থেকে রক্ষা করতে আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share.

Leave A Reply