গানের বাজারে নেই বৈশাখের আমেজ

0

এফএনএস বিনোদন: আর ক’দিন পরই পহেলা বৈশাখ। এই দিবসকে ঘিরে চলে নানা আয়োজন। বিশেষ করে কয়েক বছর আগেও পহেলা বৈশাখকে ঘিরে জমে উঠত গানের বাজার। বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তারকা থেকে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের একক, দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশ করতো। বাঙালির সবচাইতে বড় এই উৎসবকে ঘিরে বর্ণিল হয়ে উঠত গানের বাজার। কিন্তু এখন আর সেদিন নেই। ‘মামা মামি সব আছে, দুধ ভাত নাই’-এর মতো হয়ে গেছে বর্তমান সময়ের গানের অবস্থা! কারণ গায়ক, গায়িকা, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, অডিও কোম্পানি এসবই আছে, কিন্তু গানের সেই বাজারটা আর নেই। আর তাইতো পহেলা বৈশাখ এতটা সন্নিকটে হওয়া সত্ত্বেও সংগীতাঙ্গনে উৎসবের কোনো আমেজ নেই।

কেবলমাত্র স্টেজ শোর ভেতরই সীমাবদ্ধ পহেলা বৈশাখ। হাতে গোনা কিছু শিল্পীর গানের প্রস্তুতি চলছে। সার্বিক দিক থেকে গানের অবস্থা ভয়াবহ। গত কয়েক উৎসব ধরেই গানের সংখ্যা কেবল ক্রমাগত কমছে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। সিনিয়র অনেক শিল্পীই পহেলা বৈশাখকে ঘিরে কোনো গান প্রকাশ করছেন না। তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগ শিল্পীরই বৈশাখে গান প্রকাশের কোনো তাড়াহুড়ো নেই। একেবারেই ঢিমেতালে চলছে বৈশাখের প্রস্তুতি। আর সেই প্রস্তুতিতে এবার হাতেগোনা কিছু শিল্পী নিজেদের গান প্রকাশ করবেন। এর মধ্যে স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ পহেলা বৈশাখে নতুন একটি গান নিয়ে আসছেন। বিপ্লব সাহার কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তারকাবহুল উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হবে শিগগিরই। গানটির শিরোনাম ‘নতুন দিনের নতুন রঙে’। এর বাইরে মমতাজ ও এসডি রুবেলের একটি করে গান প্রকাশ হবে এই বৈশাখে। বৈশাখে একাধিক গান প্রকাশের কথা রয়েছে জনপ্রিয় সংগীত তারকা আসিফ আকবরের। এর বাইরে বড় আয়োজনে ইমরানের একটি গানও প্রকাশের কথা রয়েছে। এসব শিল্পীর বাইরে ন্যান্সি, কাজী শুভ, ইলিয়াস হোসেইনসহ আরো কিছু শিল্পীর গান প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করলে সংখ্যার দিক দিয়ে খুবই কম গান প্রকাশ পাচ্ছে, যা একটি রেকর্ডও বটে। এদিকে পহেলা বৈশাখে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো গানের চাইতে নাটক প্রকাশেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। গান দিয়ে ইউটিউব থেকে আয় কম, আর নাটক থেকে বেশি। তাই দিন দিন কেবল নাটক কিংবা ওয়েব সিরিজের দিকেই বেশি ঝুঁকছে কোম্পানিগুলো। যার ফলে গান প্রকাশ কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে। এ বিষয়ে এমআইবি সভাপতি ও লেজারভিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, গানের সংখ্যা আমরাও কমিয়ে দিয়েছি। কারণ ব্যবসা সত্যি বলতে তো হচ্ছে না। আসলটা উঠিয়ে আনাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সে কারণে এবারের পহেলা বৈশাখ নিয়েও তেমন আয়োজন আমাদের নেই। কয়েক দফা মোবাইল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বসেও কাজ হয়নি। ওয়েলকাম টিউন থেকে আয় একদম শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। অ্যাপস এবং ইউটিউবের আয় দিয়ে অফিস চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার। দেখা যাক কি হয়। এ বিষয়ে জনপ্রিয় সংগীত তারকা এসডি রুবেল বলেন, একটা সময় এই বৈশাখকে ঘিরে যে শিল্পীদের কত গান প্রকাশ হতো তার সাক্ষী আমি নিজে। প্রত্যেকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শিল্পীর নানা ধরনের অ্যালবাম তৈরির কাজ করতো অনেক আগে থেকেই। অন্যরকম একটা আবহ কাজ করতো। তাই উৎসাহটাও ছিলো সেরকম। কিন্তু এখন তার কিছুই নেই। গান করে ইউটিউবে প্রকাশ করে দিচ্ছে যে যার মতো। তাছাড়া গানের সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ হয়তো সম্ভব। তবে সবার মিলিত উদ্যোগ ও চেষ্টা দরকার।

 

Share.

Leave A Reply