বিসিবি মুস্তাফিজের চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায়

0

এফএনএস স্পোর্টস: মাঠে চলছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ও খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতির ম্যাচ। খেলাঘরের ইনিংসটা শেষ হওয়ার পর ভর দুপুরে মিরপুর স্টেডিয়ামে হঠাৎই হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা তড়িঘড়ি করে দোতলা থেকে নিচে নেমে আসেন। বিসিবির ফটকের সামনে অপেক্ষায় থাকা গাড়ির দরজা খুলে দিলেন কেউ একজন। ডান পায়ে ভর দিয়ে ২-৩ বার লাফিয়ে লাফিয়ে সেই গাড়িতে উঠলেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রবল সতর্কতা ছিল ফুলে থাকা, ব্যান্ডেজ করা বাঁ পায়ে যেন কোনো ভর না লাগে।

এই দৃশ্যের পর শুধু বিসিবির অন্তরাল নয়, এক লহমায় যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনই কেঁপে উঠল। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীকে দেখানোর পর গতকাল এভাবেই মিরপুর স্টেডিয়াম ত্যাগ করেছেন মুস্তাফিজ।

গত বুধবার দুপুরের পর বিসিবি একাডেমি মাঠে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা পেয়েছেন বাঁ-হাতি এই পেসার। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে শাইনপুকুরের হয়ে গতকালকের খেলাঘরের বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলার জন্যই ওয়ার্ম-আপ করার সময় এই চোট পান কাটার মাস্টার খ্যাত এই তরুণ।

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ইনজুরির তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন মুস্তাফিজ। ইতোমধ্যে তার পায়ের এক্স-রে করানো হয়েছে। কোনো ধরনের চিড় ধরা পড়েনি। দুই সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাকে। আগামি ২২ এপ্রিল শুরু হতে চলা বিশ্বকাপ ক্যাম্পের শুরুতে চলবে তার রিহ্যাব। ক্যাম্পের শুরুতে তাই স্কিল ট্রেনিং করতে পারবেন না মুস্তাফিজ।

গতকাল এমনটাই বলেছেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। মুস্তাফিজ চলে যাওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ বুধবার অনুশীলনের সময় বাঁ পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পায়। এরপর আমরা ওর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করি। আজকে (গতকাল) ওর একটা এক্স-রে করা হয়। এক্স-রেতে তেমন খারাপ কিছু ধরা পড়েনি। আজকে (গতকাল) আমরা একটা রিভিউ করেছি। পরবর্তী দুই সপ্তাহ বিশ্রাম নেবে। দুই সপ্তাহ পর আমরা ওকে আবার রিভিউ করবো।’

জাতীয় দলের নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু অবশ্য বলেছেন, চোট গুরুতর নয়। পা মচকে গেছে মুস্তাফিজের। তার আশা ক্যাম্পের শুরু থেকেই পাওয়া যাবে এই পেসারকে। গতকাল প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘বড়ো কিছু নয়। হালকা ব্যথা। পা মচকে গেছে। ১০ দিনের মতো লাগবে। আশা করি ক্যাম্পের শুরুতে ফিট হয়ে যাবে।’মুস্তাফিজের চোটের বিস্তারিত জানাতে গিয়ে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক বলেছেন, ‘এক্স-রেতে হাড়ে কোনো চোটের অস্তিত্ব ধরা পড়েনি। ফ্র্যাকচারজনিত কোনো সমস্যা নেই। লিগামেন্টে হালকা চোট আছে, ল্যাটারেল অ্যাঙ্কল স্প্রেইন। এই ধরনের স্প্রেইন ওর আগেও ছিল। এগুলো পূর্বানুমান করা খুব কঠিন। তবে সাধারণত সপ্তাহ দুয়েক পরে ব্যথার তীব্রতা কমে আসে। তাই আমরা আশা করছি দুই সপ্তাহ পর ও স্কিল ট্রেনিং শুরু করতে পারবে।’

বিশ্বকাপ ক্যাম্পের শুরুতে রিহ্যাব চলবে মুস্তাফিজের। তবে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘ক্যাম্প যখন শুরু হবে, তখন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকবে। শুরুতে হয়তো স্কিলে অংশগ্রহণ করতে পারবে না; কিন্তু দুই সপ্তাহ পর আমরা যখন ওকে রিভিউ করবো, তখন যদি দেখি যে ও স্কিল ট্রেনিং করার মতো অবস্থায় আছে তখন অবশ্যই ও সেটা শুরু করবে।’

 

Share.

Leave A Reply