বেপরোয়া টাকা পাচার পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

0

দেশ থেকে বেপরোয়াভাবে মোটা অঙ্কের টাকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। গত দশ বছরেই কেবল ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে।

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার এ সময়ে অর্থ পাচার রোধে আমাদের সতর্ক পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্প নেই। মোটা দাগে যেসব কারণে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দুর্বল নজরদারি এবং বেপরোয়া দুর্নীতি।

এ কারণে অর্থ পাচার রোধ করতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা ও দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান গ্রহণের বিকল্প নেই।

উদ্বেগের বিষয়, দেশ থেকে অর্থ পাচার নতুন কোনো বিষয় না হলেও টাকা পাচার রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি কখনও। এমনকি এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই বলে বিশেষজ্ঞরা যে অভিযোগ করছেন, তাও উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।

সরাসরি ট্র্যাংকে ভরে প্রভাবশালী মহলের ডলার পাচার, আমদানি-রফতানির নামে ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে, অথচ দেশে আসছে না কোনো পণ্য, এমনকি সর্বশেষ টাকা পাচারের কৌশল হিসেবে পাচারকারীরা বেছে নিয়েছে রেমিটেন্স সংগ্রহের পথ। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যদি কঠোরভাবে মনিটরিং করে, তবে অর্থ পাচার কমানো যে সম্ভব, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

সুইস ব্যাংক, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি- জিএফআই এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজের বিভিন্ন গবেষণায় আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এলেও এ সংক্রান্ত সরকারি কোনো গবেষণা কেন নেই, এমন প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে।

এর থেকেই প্রতীয়মান হয় টাকা পাচারের বিরুদ্ধে সরকার ও সরকারি সংস্থাগুলোর আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। আমরা মনে করি, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে অর্থ পাচার রোধে দ্রুত বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে নির্বাচনের বছর অর্থ পাচার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। এ জন্য বছর শেষে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থ পাচার রোধে বাড়তি সতর্কতা দরকার।

দেশের শক্ত আর্থিক ভিত নির্ভর করে স্থিতিশীল বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণকে পেছনে ফেলে, এমনকি বাজেটকেও ছাড়িয়ে গেছে অর্থ পাচারের অঙ্ক।

পাচারের কুফল বিবেচনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাতে আর্থিক খাতকে স্পর্শ করতে না পারে এবং ইতিবাচক বিনিয়োগবান্ধব পরিস্থিতি নিশ্চিত করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। সবকিছুর ওপরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে অর্থ পাচার রোধসহ আর্থিক অনিয়ম কমিয়ে আনা যাবে বলে আশা করা যায়।

মানি লন্ডারিং রোধে দেশি ও আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন মেনে চলার পাশাপাশি এগমন্ড গ্রুপের সদস্য হিসেবে ১৪৭টি দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে ভালো ফল আসতে পারে। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে এগিয়ে এলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে বাধ্য।

Share.

Leave A Reply