ব্যাংকিং খাত সংস্কারের সিদ্ধান্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা ফেরানোর বিকল্প নেই

0

ব্যাংকিং খাত সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারের এ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য চলছে, তা রোধ করতে হলে সংস্কারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

যথাযথ সংস্কার হলে এ খাতে বিরাজমান সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে সংকট চললেও বিগত কয়েক বছরের এ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ খাতে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ব্যাংক নতুন নতুন অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে।

ব্যাংকিং খাতে অরাজকতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমানতকারীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার পাশাপাশি এ খাতে আদর্শ ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস বইবে।

সময়ের প্রয়োজনে বিস্তৃত হচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। এ খাতকে অবশ্যই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আমরা মনে করি, ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে একটি কমিশন গঠন করা উচিত। আশঙ্কার বিষয় হল, ব্যাংকগুলোয় যোগ্য ও সৎ লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। ফলে তারা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করছে, যা পরে খেলাপি ঋণে পরিণত হচ্ছে। অসৎ ব্যাংকারদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা জালিয়াত চক্র ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করছে। ব্যাংকগুলোয় বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে গ্রাস করে ফেলছে। গত মার্চে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত ‘আর্টিকেল ফোর মিশন’ সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ মিশনের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে সংস্থাটি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনটি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হল, শক্তিশালী প্রবিধান, কঠোর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত করা। বিরাজমান দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে সরকার প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে একে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

Share.

Leave A Reply