ব্রেক্সিট না হওয়ার ঝুঁকিই বাড়বে, সমঝোতায় দেরি হলে: মে

0

এফএনএস আর্ন্তজাতিক: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বলেছেন, ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে বিরোধী লেবার পার্টির সঙ্গে সমঝোতায় যত দেরি হবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদের সম্ভাবনাও ততই কমতে থাকবে।

ব্রেক্সিট নিয়ে একটি সমঝোতায় উপনীত হতে বিরোধীদলীয় নেতা জেরমি করবিনের সঙ্গে চলমান আলোচনার মধ্যেই শনিবার মে এ মন্তব্য করেন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কনজারভেটিভ পার্টি ও তাদের সঙ্গে জোট সরকারে থাকা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টির কিছু সাংসদদের বিরোধিতার কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে হওয়া ব্রেক্সিট নিয়ে তার চুক্তিটি পার্লামেন্টে অনুমোদন করাতে পারেননি।

চুক্তিসহ ব্রেক্সিট কার্যকরে পার্লামেন্টের বাধা উৎরাতে মে পরে বিরোধী দল লেবার পার্টির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।

বিরোধীদের ‘হ্যাঁ’ করাতে প্রধানমন্ত্রীকে এখনো যথেষ্ট ছাড় দিতে দেখা যায়নি মন্তব্য করে শনিবার করবিন বলেছেন, তিনি ব্রেক্সিট নিয়ে মে-র বেঁধে দেওয়া ‘লাল দাগগুলো সরিয়ে নেওয়ার’ অপেক্ষায় আছেন।

“ব্রেক্সিট নিয়ে কিছুকিছু ক্ষেত্রে দুই প্রধান দল একমত হয়েছে। আমরা দুইপক্ষই অবাধ যাতায়াত বন্ধ করতে চাই, চাই ভালো একটি চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে, চাই চাকরিগুলোর সুরক্ষা দিতে। এগুলোর উপর ভিত্তি করে হওয়া সমঝোতাই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে; ওই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনই ব্রেক্সিট কার্যকরের একমাত্র পথ,” ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

মে বলেছেন, “এটি (সমঝোতা) করতে যত দেরি হবে, যুক্তরাজ্যের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) না ছাড়ার ঝুঁকিও ততই বাড়তে থাকবে।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে আটাশ দেশের জোট থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানিয়ে ইউরোপের নেতাদের চিঠি লিখেছেন।

আগের দফা মে-র অনুরোধে সাড়া দিয়ে ব্রেক্সিট দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেয় ইইউ। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনদফা প্রত্যাখ্যাত হওয়া মে-কে বিচ্ছেদ প্রস্তাবনা নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা হাজির করার জন্য চাপ দিচ্ছে তারা।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্রেক্সিট কার্যকরে ব্রিটিশ সাংসদরা সম্মত হবেন বলে শনিবার ফের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন টেরিজা মে।

“আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যাতে দেশে আমরা একমত হওয়ার পর ছয় সপ্তাহের মধ্যেই ইইউ ছাড়তে পারি,” বলেছেন তিনি।

Share.

Leave A Reply