ভোট ‘আনফেয়ার’, ফলটা ‘ফেয়ার’: গয়েশ্বর

0

এনএনবি : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল ‘ফেয়ার’ হলেও ভোট ছিল ‘আনফেয়ার’।

কুমিল্লার ভোটের পরদিন গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এদিন রাজধানীতে আলাদা দুটি অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানও প্রায় একই ধরনের কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় গয়েশ্বর বলেন, “কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জনগণ প্রাণপণ চেষ্টা করে নৌকার ব্যাজ বুকে লাগিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। আমরা জয়লাভ করেছি। তবে এ কথা বলতে হবে, যদি ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হত, তাহলে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ পরাজিত হত।”

বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সাক্কু ৬৮ হাজার ৯৪৮টি ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আর ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।

গয়েশ্বর বলেন, ভোটে তাদের প্রার্থীর জয় হলেও নির্বাচনকে তারা অবাধ বা সুষ্ঠু বলতে পারছেন না। নির্বাচনে জয় হলেই ভোট সুষ্ঠু বা অবাধ বলার ‘থিওরি’ থেকেও বেরিয়ে আসা উচিৎ বলে মন্তব্য তার।

তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণ বিনা বাধায় ও বিনা আতঙ্কে ভোট দিতে না পারবে, ততক্ষণ একটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ বলা যায় না। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ফলাফল ফেয়ার, কিন্তু ইলেকশন আনফেয়ার হয়েছে- এই কথাটা স্বীকার করতে হবে।

অতীতে কুমিল্লা আওয়ামী লীগের কয়েকটি গ্রুপ থাকলেও এবার ‘কোনো বিবাদ ছিল না’ বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, “তারা (আওয়ামী লীগ) শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছেন, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে পরাজিত হয়েছে।”

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে গয়েশ্বরের পরামর্শ, “এখান থেকে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেবেন, তার একটা প্র্যাকটিস থাকা দরকার। প্রচেষ্টা থাকা দরকার।”

অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফজাল এইচ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ ও এলবার্ট পি কস্টা এ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে স্ত্রী হাসনা মওদুদের লেখা কবিতার বই প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষে কুমিল্লা নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের দুঃশাসনের কারণে’ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় ঘটেছে। ‘ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই করে অবাধে সিলমারা এবং জাল ভোট প্রদানের ঘটনা না ঘটলে’ সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী সাক্কু আরও বেশি ভোটে জয়ী হতেন।

আগামীতে দেশের অন্যান্য জায়গায় নির্বাচন হলে ফলাফল কুমিল্লার মতই হবে বলে মনে করেন মওদুদ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে ‘ক্ষমতাসীনদের ব্যালট পেপার ছিনতাই ও কেন্দ্র দখলের খবর’ শুক্রবার সংবাদপত্রেও এসেছে। এখন বলতে পারেন সিল মারার পরও কীভাবে ধানের শীষ জিতল। সিল মারার পরও জেতা যায়, কৌশলে জেতা যায়। নৌকার মার্কা বুকে নিয়ে সেখানে ধানের শীষে ভোট দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এই কৌশলেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণ ধানের শীষ প্রার্থীকে জিতিয়েছে।”

কুমিল্লা নির্বাচনের মতো ‘একই কৌশলে’ বিএনপি ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন নোমান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কুমিল্লা নির্বাচন নিয়ে প্রতিশ্র“তি রাখতে পারেননি দাবি করে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “নির্বাচনে আমরা জিতেছি, সেটা ঠিক। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা ৩০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিততে পারতাম।”

Share.

Leave A Reply