মাথায় গুলি করে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীকে হত্যা

0

এফএনএস ডেস্ক: ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মানবতা বিরোধী অপরাধের আলামত পেলেও থেমে নেই ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নিপীড়ন। গত শুক্রবারও গাজা উপত্যকার সীমান্ত বেড়ায় বিক্ষোভরত এক ফিলিস্তিনিকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এদিন গত শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনীর আঘাতে আহত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। দখলদারিত্বের অবসান ও নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকারের দাবিতে গত বছরের ৩০  মার্চ থেকে গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিরা নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করে। ওই বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে বিপুল মানুষের প্রাণহানির কারণে প্রতি গত শুক্রবার ধারাবাহিক বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনিরা। গত মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের তদন্ত কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনের নামে ২০১৮ সালে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ৩০০ জনেরও বেশি ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার এবং ড্রোনের ভিডিও ফুটেজসহ প্রায় আট হাজার প্রমাণ সংগ্রহ করে কমিটি জানায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা যেতে পারে। তবে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

০৮ মার্চের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা জানিয়েছেন, শুক্রবারের সাপ্তাহিক বিক্ষোভের ৫০তম দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়ে নিহত হয় তামের আরাফাত (২৩)। তিনি জানান, এদিন ইসরায়েলি বাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে ৪৮ ফিলিস্তিনি আহত হয়। আহতদের মধ্যে চার চিকিৎসাকর্মী, দুই নারী ও ১৫ শিশু রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত শুক্রবার আট হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও বিস্ফোরক ছুঁড়েছে। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ সীমান্ত বেড়া ভেঙে ইসরায়েলে প্রবেশের চেষ্টা করে বলেও দাবি তাদের। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে আইনসঙ্গত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ওই সেনা মুখপাত্র। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার গ্রুপ আল মিজান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস-এর তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ৩০ মার্চ বিক্ষোভ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ২৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বিক্ষোভের সময়ে ৪০ শিশু, দুই নারী, দুই সাংবাদিক, তিন চিকিৎসাকর্মী ও আট প্রতিবন্দ্বিসহ নিহত হয়েছে ১৯০ জন।  একই সময়ের মধ্যে তিন হাজারেরও বেশি শিশুসহ আহত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার মানুষ। সাপ্তাহিক বিক্ষোভের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি। তবে কেউ কেউ ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক বা বিমান হামলাতেও নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের আড়াল নিয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের গ্রুপ হামাস তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে মানবাধিকার গ্রুপ ও ফিলিস্তিনিদের দাবি বিক্ষোভকারীরা কোনও হুমকি তৈরি করছে না।

Share.

Leave A Reply