যুক্তরাষ্ট্র ৫৭ শতাংশ গ্রিন কার্ড দেবে মেধার ভিত্তিতে

0

এফএনএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঢেলে সাজাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেন থেকে এ-সংক্রান্ত এক ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা বদলে নতুন ‘মেধা ও পয়েন্টভিত্তিক’ অভিবাসন নীতি চালু করবেন। পরিকল্পনাটির রূপকার ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, তাঁকে অভিবাসন প্রশ্নে অপেক্ষাকৃত উদার বলে ভাবা হয়। তাঁর সঙ্গে এই প্রকল্পে একযোগে কাজ করেছেন অভিবাসন প্রশ্নে অত্যন্ত কঠোর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার। বেশির ভাগ পর্যবেক্ষকই বলেছেন, রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেটিক কোনো পক্ষই এই প্রস্তাবিত নীতিমালায় সন্তুষ্ট নয়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর স্থায়ী অভিবাসনের জন্য যে পরিমাণ গ্রিন কার্ড প্রদান করে থাকে, তার কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে পারিবারিক সম্পর্কের বদলে এই গ্রিন কার্ড অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এমন আবেদনকারীকে প্রদান করা হবে, যিনি দক্ষ, শিক্ষিত, বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ, ইংরেজি বলায় সক্ষম এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে চাকরির নিশ্চয়তা পেয়েছেন। এই গ্রিন কার্ডের নাম হবে ‘বিল্ড আমেরিকা’ ভিসা। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে যে গ্রিন কার্ড প্রদান করা হয়, এর দুই-তৃতীয়াংশ যায় পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে। এই ব্যবস্থায় কোনো বহিরাগত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের পর তাঁর পরিবারের সদস্যরাও স্থায়ী অভিবাসনের সুবিধা ভোগ করে থাকেন। নতুন ব্যবস্থায় ৫৭ শতাংশ গ্রিন কার্ড বরাদ্দ করা হবে মেধার ভিত্তিতে। দুই ধাপবিশিষ্ট পয়েন্ট বণ্টন কর্মসূচি এবং নাগরিক শিক্ষা ও নিরাপত্তা তদন্তের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে কে এই গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব তাঁর নিজের দলের ভেতরেই প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। এতদিন ট্রাম্প নিজেকে একজন কঠোর অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিক হিসেবে উপস্থিত করেছেন। সেই কট্টর অবস্থা থেকে সরে এসে অব্যাহত অভিবাসনের পক্ষে যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন, রিপাবলিকান দলের অতি রক্ষণশীল অংশ তাতে আপত্তি তুলেছে। খ্যাতনামা ভাষ্যকার অ্যান কুলটার অভিযোগ করেছেন, এই পরিকল্পনায় সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীর বহিষ্কারের কোনো কথাই নেই। ট্রাম্পের নিকট বন্ধু হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনাই নেই। অপেক্ষাকৃত নরম সুরে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্পের আরেক সমর্থক কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাকার্থি। তাঁর ভাষায়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নয়, একটি প্রস্তাবনা মাত্র। অন্যদিকে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা পরিবারভিত্তিক অভিবাসন বন্ধের তীব্র আপত্তি তুলেছে। তারা বিশেষভাবে আপত্তি তুলেছে সোয়া কোটি বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসী, যাঁরা এ দেশে দীর্ঘদিন থেকে বাস করছেন। তাঁদের বৈধকরণের কোনো কথা এতে নেই। ‘ডাকা’ কর্মসূচিতে যে প্রায় ১০ লাখ তরুণ অভিবাসী এখনো বৈধকরণের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের কথাও পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এতেও প্রবল আপত্তি তুলেছে ডেমোক্র্যাটরা। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রশ্ন করেছেন, মেধাভিত্তিক অভিবাসনের মানে কি এই, যাঁরা এতদিন অভিবাসন পেয়েছেন, তাঁদের কোনো মেধা নেই?

Share.

Leave A Reply