সাধারণ নির্বাচনের ভোট হচ্ছে স্পেনে

0

এফএনএস আর্ন্তজাতিক: কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক বিভক্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে স্পেনে সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে।

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোটাররা তাদের রায় জানানোর সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এ নিয়ে চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বার ইউরোপের এ দেশটিতে  সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে। প্রতিবার নির্বাচনের পরই দেশটির রাজনৈতিক চালচিত্র আগের তুলনায় আরও টালমাটাল হয়ে পড়ছে।

রোববারের নির্বাচনও স্পেনকে একটি বহুধাবিভক্ত পার্লামেন্ট উপহার দেবে বলে অনুমান পর্যবেক্ষকদের।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফিরে আসার পর এবারই প্রথম দেশটির সংসদে কট্টর ডানপন্থিদের শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা যাবে বলেও আশঙ্কা  তাদের।

এবারের নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় পরিচয়, লৈঙ্গিক সমতার মতো আবেগি বিষয়ের প্রাধান্য ছিল। এসব ইস্যুতে বিভিন্ন দলের অবস্থান এতটাই দূরে দূরে যে জোট সরকার গঠনের চুক্তি হতে কয়েক সপ্তাহ এমনকি মাসও গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতি ইউরোপের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকেই আরও প্রকট করে তুলবে।

নির্বাচনের পর বিভিন্ন ঘরানার অন্তত ৫টি দলের জোট সরকারে থাকার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে সম্ভাব্য যা যা ঘটতে পারে, তার মধ্যে ফের নির্বাচনের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফলাফল নিয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত না মিললেও জনমত জরিপ ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ভেতরকার তথ্য অনুযায়ী এবার কোনো দলই যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না সে আভাস পাওয়া গেছে।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সোশালিস্ট পার্টিই সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কট্টর ডানপন্থি ভোক্স পার্টির কয়েকজনকেও সাংসদ হিসেবে পার্লামেন্টে দেখা যাবে।

জনমত জরিপে সোশালিস্টরা এগিয়ে থাকলেও সানচেজই যে ফের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, তা নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রীত্ব ধরে রাখতে তাকে আর কয়টি দলের সমর্থন জোগাড় করতে হয়, তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।

সরকার গঠনে সোশালিস্টদের কৃচ্ছ্রতাবিরোধী কট্টর বাম পোদেমস এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোর পাশাপাশি কাতালান বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরও সমর্থন লাগতে পারে।

এক্ষেত্রেও সরকার গড়তে পক্ষগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন পড়বে; শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হবে তাও অনিশ্চিত।

সিউদাদানোস, কনজারভেটিভ পিপলস পার্টি ও ভোক্স- ডানপন্থি এ তিন দল মিলে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে সোমবার শেষ হওয়া বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলগুলোর মধ্যে ব্যবধান এতটাই কম যে জরিপের ত্রুটি-বিচ্যুতি বিবেচনায় এ অনুমানও উল্টে যেতে পারে, বলছে রয়টার্স।

১৯৭৫ সালে স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর স্পেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফিরলেও ওই প্রজন্মের জীবিত ব্যক্তিদের কাছে স্বৈরশাসনের দগদগে ঘা এখনও বাস্তব।

যে কারণে গত কয়েক দশক ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী ও পপুলিস্ট পার্টিগুলোর উত্থান দেখা গেলেও স্প্যানিশদের সে পথে হাঁটতে দেখা যায়নি।

প্রচলিত দলগুলোর প্রতি অনাস্থা এবং কাতালোনিয়ায় স্বাধীনতাপন্থিদের তৎপরতা ভোটারদের মধ্যে ভোক্সের মতো কট্টর দলের জনমর্থন বাড়িয়ে দিয়েছে।

নারীর ওপর সহিংসতা রোধে দেশটিতে নতুন যে আইন হয়েছে তাকে পুরুষদের প্রতি বৈষম্য হিসেবেও দেখছেন মূলধারার বাইরের অনেকে।

ভোক্সের ঘাঁটি চিহ্নিত করতে না পারায় কট্টর ডানপন্থি এ দলটি পার্লামেন্টে কতটি আসন পেতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে জনমত জরিপে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

কোনো কোনো জরিপে দেশটির প্রতি ১০ জন ভোটারের চারজনই এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন বলেও বলা হয়েছে।

 

Share.

Leave A Reply