সামাজিক সুস্থতা ও নারীর নিরাপত্তা আবারো প্রশ্নবিদ্ধ

0

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আবারো গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল। এবার শিকার হয়েছে ছয় সন্তানের এক জননী। উপজেলা নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ায় স্বামীকে আটকে রেখে গণধর্ষণ ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেয়ায় গণধর্ষণ ও মারধরের শিকার হয়েছিলেন একই উপজেলার এক গৃহবধূ। তিনি বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেন। বারবার এ ধরনের ঘটনা আমাদের সামাজিক সুস্থতা এবং নারীর নিরাপত্তা দুটোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হওয়ায় রোববার ছিল পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট। প্রার্থী ছিলেন আবদুর রশিদ (টিউবওয়েল), তাজউদ্দিন বাবর (চশমা) ও ফরহাদ হোসেন বাহার চৌধুরী (তালা)।

নির্বাচনে ওই নারী ও তার স্বামী চশমা প্রতীকের হয়ে কাজ করেন। নির্বাচনের আগে থেকেই তালা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক ইউসুফ মাঝি, বেচু মাঝিসহ কয়েকজন তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। হুমকির কারণে তখন তারা ভোটকেন্দ্র থেকে বাড়িতে না গিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান।

সন্ধ্যায় তিনি ও তার স্বামী মোটরসাইকেলে নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার পথে তালা প্রতীকের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন বাহারের সমর্থক ইউসুফ মাঝির নেতৃত্বে ১০-১২ জন উত্তর বাগ্গা গ্রামের রুহুল আমিনের মৎস্য খামারের কাছে তাদের মোটরসাইকেলের পথরোধ করে।

এ সময় বেচু মাঝি, বজলু ও আবুল বাসার তাকে মৎস্য প্রজেক্টের পার্শ্ববর্তী কলাবাগানে নিয়ে মারধর করে ধর্ষণ করে। আর বাকিরা তার স্বামীকে অন্যদিকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে। নির্যাতিত নারীর স্বামী গণমাধ্যমকে জানান, রাত ৮টার দিকে ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে হামলাকারীরা সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তার স্ত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীই ছিলেন আওয়ামী লীগের সমর্থক। তারা ছিলেন চশমা প্রতীকের পক্ষে।

তালার পক্ষে না থাকায় তাদের ওপর এ ভয়ঙ্কর অত্যাচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বলছেন এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ন্যূনতম ছাড় দেয়া হবে না। তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আমরা সেই বিচার দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

সাধারণত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে গড়িমসি লক্ষ করা যায়; সুবর্ণচরের ঘটনায় মূল আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করেছে। এখন তাদের বিচার করার জন্য যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।

অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের বিচারাধীন করায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষত রাজনৈতিক সহিংসতা এড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা কোনোভাবেই আর যাতে ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

Share.

Leave A Reply