সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা : রাশিয়ার অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ

0

এফএনএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাসায়নিক অস্ত্র গুদামজাত করে রাখা হয়েছে সন্দেহে সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ার যুক্তরাষ্ট্র ‘হতাশ তবে বিস্মিত নয়’। এতে বিমান ঘাঁটিটি ধ্বংসের পাশাপাশি অন্তত ছয় জন নিহত হন বলে খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিবিসি। একতরফা এ হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসীদের’ উস্কে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ভোররাত ৪টা ৪০ মিনিটে ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ থেকে সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হমস প্রদেশের শায়রাত বিমান ঘাঁটিতে ৫৯টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, “এই প্রতিক্রিয়ায় আমি হতাশ। এতে আসাদ সরকারের প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আর প্রকৃতপক্ষে তারা এমন এক সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যারা তাদের নিজেদের জনগণের ওপর এ ধরনের ভয়ঙ্কর হামলা চালিয়ে থাকে। এটি বেশ হতাশাজনক, কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো। এর পাশাপাশি সিরিয়ার আকাশে দুটি দেশের যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় গৃহীত সরাসরি আলোচনার পথও বন্ধ করে দিয়েছে মস্কো।

বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ফের যেন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতেই যুক্তরাষ্ট্র হামলাটি চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আরো কিছু করতে প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু আশা করছি, তার প্রয়োজন হবে না। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার ও এর ছড়িয়ে পড়া রোধ করা অত্যাবশ্যক।

ইরান ও রাশিয়াকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, “আসাদকে শক্তিশালী করার একমাত্র ফল হবে আরো খুন। অপরদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার সহকারী রাষ্ট্রদূত ভøাদিমির সাফরোনকোভ সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, যখন আপনি নিজের পথ গ্রহণ করবেন, তখন এটি ওই এলাকায় ভয়ঙ্কর ট্রাজেডির সৃষ্টি করবে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্টিভ মেনওচিন।

গত মঙ্গলবার সকালে সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশের খান শেইখৌন শহরে বিমান হামলা চালায় সিরীয় বিমানবাহিনী। ওই হামলায় বিষাক্ত রাসায়নিক সারিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিদ্রোহী পক্ষগুলো।

ইদলিবের সরকার বিরোধীদের পরিচালিত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ৮৯ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ৩৩টি শিশু ও ১৮ জন নারী রয়েছেন। বিমান হামলা কথা স্বীকার করলেও বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস সারিন ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে সিরিয়া সরকার।

Share.

Leave A Reply