হাট ব্যবস্থাপনায় এবারও নৈরাজ্য

0

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে যেসব অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেয়া হয় সেসব হাট স্থাপনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনোরকম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ না ওঠে এজন্য কর্তৃপক্ষ নানা রকম উদ্যোগ নিয়ে থাকে। তারপরও এসব হাট স্থাপনে যেসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যায় তা বহুল আলোচিত।

এবার রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটকে কেন্দ্র করে যেসব নৈরাজ্য চলছে তার কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে রোববারের এশটি জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনে।

বস্তুত রাজধানীর ইজারা দেয়া এবং ‘খাস কালেকশন’-এর জন্য বরাদ্দ দেয়া সব হাটেই চলছে নানারকম অব্যবস্থাপনা। প্রতি বছরই লক্ষ করা যায়, পশুর হাটের আশপাশে খালি জায়গা, হাঁটাচলার পথ, এমনকি কোথাও কোথাও প্রধান সড়ক দখল করেও উঠানো হয় পশু।

যানজটের কারণে রাজধানীবাসীকে কী অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। অস্থায়ী পশুর হাটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

পশুর হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা যদি তৎপর থাকেন, তাহলে হাটের আশপাশের যাত্রী দুর্ভোগ বাড়বে না। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন, তার জন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা রাখার বিকল্প নেই। কোথাও কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে তা সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিটি হাটে অর্থ-লেনদেনের সময় যাতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়, এদিকেও কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। অনেক দূরের বিক্রেতাও রাজধানীর এসব হাটে এসে থাকেন। তাদের থাকা-খাওয়াসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডিএসসিসির কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাট খাস কালেকশনের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। এগুলো থেকে নামমাত্র কালেকশনের টার্গেট দেয়া হয়েছে। এই নামমাত্র কালেকশনের টার্গেট নির্ধারণ থেকেই দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট।

খাস কালেকশন আদায়ের ক্ষেত্রে যাতে কোনো রকম দুর্নীতি না হয়, এটা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া ইজারার সময় যেসব কারসাজি চলে তা বন্ধ করার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

যেসব মাঠে পশুর হাট বসানো হয় সেসব মাঠকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যাতে কোনো রকম গড়িমসি করা না হয়, সেদিকেও কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে হবে।

Share.

Leave A Reply