মেসেঞ্জারে সন্ধান করলেই মিলবে রক্ত

0

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীর এক আত্মীয়ের বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। তখন ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে রক্তের জন্য পোস্ট করেও রক্ত পাওয়া যায়নি। পরে নানা ঝামেলা করে চড়া দাম দিয়ে ব্লাডব্যাংক থেকে রক্ত কিনতে হয়েছে।

ঘটনার কয়েকদিন পর অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী দেখলেন একজন ডোনার ফেসবুকে পোস্ট করে রক্ত দেয়ার জন্য রোগী খুঁজছেন। ডোনার চার মাস পর পর রক্ত দিয়ে থাকেন। কিন্তু রোগী না পাওয়ায় তখন দিতে পারছিলেন না।

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী ভেবে দেখলেন সঠিক যোগাযোগের অভাবে রোগীরা রক্তদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এই সমস্যা সমাধানে তিনি তৈরি করলেন ‘ব্লাড বট’। এই ব্লাড বট উন্মুক্তের কয়েক সপ্তাহের মাঝে ৭ হাজারের অধিক রক্তদাতা ব্লাড বটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ৭০০ জনের অধিক মানুষ রক্ত চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।

ব্লাড বট কি?

ব্লাড বট ফেসবুকের মেসেঞ্জার ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন। রক্তদাতা এবং গ্রহীতাদের মধ্যে যোগাযোগের একটি প্লাটফর্ম। যারা রক্ত দিতে ইচ্ছুক তারা বটকে রক্তের গ্রুপ, লোকেশন দিয়ে বার্তা পাঠালেই হবে। যখন কেউ রক্ত চেয়ে বটকে বার্তা পাঠাবে তখন বট স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্তদাতাকে তা জানিয়ে দেবে। সহজ কথায় বলা যায়, জরুরি প্রয়োজনে রক্ত দরকার হলে আমরা যেভাবে ফেসবুক বন্ধুদের নক করে রক্ত চাই। ঠিক একইভাবে বটের সাহায্যে রক্ত চাওয়া ও দেয়া যাবে।

যেভাবে বট কাজ করে

যখন কেউ এই ঠিকানায় গিয়ে রক্ত চেয়ে বার্তা দেন তখন ‘ব্লাড বট’ রক্তের গ্রুপ, যে নম্বরটিতে রক্তের জন্য যোগাযোগ করবেন সে নম্বরটি, যে হাসপাতালে রক্ত লাগবে তার লোকেশন জানাতে বলে। নম্বরটিতে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হয়। কোডটি বটকে জানিয়ে নম্বর ভেরিফাই করে নেয়ার পর বট হাসপাতালের লোকেশনের আশপাশে ২ কিলোমিটার রেডিয়াসের কাক্সিক্ষত রক্তের গ্রুপের ডোনারদের মেসেঞ্জারে নোটিফিকেশন পাঠিয়ে দেয়।

ডোনারকে ‘ফবঃধরষং, পধহ হড়ঃ মড়, ধষৎবধফু ফড়হধঃবফ’ বাটন পাঠায় বট। রক্ত দিতে যেতে চেয়ে ‘ফবঃধরষং’ চাপলে লোকেশন, ফোন নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দেখাবে। রক্ত ইতিমধ্যে দিয়ে থাকলে ‘ধষৎবধফু ফড়হধঃবফ’ বাটন চাপলে কোনো মাসে রক্ত দিয়েছেন বট তা জানতে চায়। জেনে নিয়ে পরবর্তী চার মাস আর কোনো নোটিফিকেশন দেবে না ওই রাক্তাদাতাকে।

ব্লাড বটের পেছনে যারা আছেন

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিংয়ের কম্পিউটার বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারে পড়ুয়া অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী ছাড়াও ব্লাড বট তৈরি কাজ করেছেন ওমরান জামাল, নওফেল মাশনূর, সুমনা চক্রবর্তী , জেরিন তাসনিম সাকিসহ আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী।

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীর ভবিষৎ পরিকল্পনা ৫০ লাখ রক্তদান একটি ডাটাবেজ সমৃদ্ধ করা। যেন ব্লাড বটে কেউ রক্ত চেয়ে দ্রুত সময়ে পেতে পারেন এবং রক্ত নিয়ে স্বজনদের দুশ্চিন্তা কমানো যায়।

Share.

Leave A Reply