৬৭ বছরের তরুণ শিবজিত নাগের সমৃদ্ধ জীবন

0

সামগ্রিক সাংস্কৃতিক কাঠামোয় এবং মূল্যবোধে প্রফেসর শিবজিত নাগ সহযোগিদের নিয়ে ঐতিহ্যের নোভর ধরে রেখেছেন। কোন্ কোন্ সংস্কৃতি কী কী ধরে রাখে, কেমন প্রাণ ভ্রমর খুঁজে পায়, তা নিরূপণ করা ইতিহাসবিদদের কাজ। অতীতের দর্পণে দেখা ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ নিয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক চিন্তা নায়কের সামান্য কিছু সময় ভাষ্য দেওয়া হলো। ৭০ ও ৮০ দশকের সাংবাদিক প্রফেসর শিবজিত নাগ স্থানীয় ভাবে কারও কারও স্বপ্নের নায়ক ছিলেন। কারও কারও কাছে আদর্শ। কারও কাছে হয়তো বা আইডল। মাত্র এক যুগের সাংবাদিকতার কর্মকান্ডেই নিজের নামে একটি যুগকে চিহিৃত করে দিয়েছেন তিনি। আজকের ডিজিটাল প্রজন্মের কাছে তিনি আবছা হলেও অসংখ্য ভক্ত রয়েছে। তাঁর অমোঘ প্রভাব নানা আঈিকে প্রভান্বিত করে। ৬৭ বছরের চৌকাঠ পেরিয়ে যাওয়া নিয়ে এক ফালি নাগ চর্চা- ইছামতির নির্বাহী সম্পাদক মোসতাফা সতেজের কলমে।

ইতিহাসে ঘোরাঘুরি/ মোসতাফা সতেজ
(প্রফেসর শিবজিত নাগকে)

পেছনে না তাকালে আমার চলে না
তাকালেই দেখতে পারে তার ইতিবৃত্ত
পেতে পারি স্মৃতিময় চানাচুর মুড়ি
তাই আমি ইতিহাসে করি ঘোরাঘুরি।
শিবুদা ডাকছেন ‘আরব তুমি আর
সমজিৎ চলে যাও নাজিরপুরের মধ্যে

গুণে এসো চৌকিহীন ঘুম কত জনের
থালা আর শানকি ব্যবহারের হার।’
বদলে গেছে শহরেরও ঘিঞ্চি কলরব
প্যাডেল মারা রিকশা চলে যন্ত্রে

দৌড়ে বেড়ায় গতির পাশে পাশে
সময় স্্েরাতে হারিয়ে ফেলি ঘুুম।
স্মৃতি আমার পড়াতে চাই যাদের
তারা আজকাল ফেইসবুকে মাতে

নেশায় নেশায় ঘাটতি এখন দমে
পড়ার হারও অনেক গেছে কমে
প্রজন্ম সব এয়ার ফোনে শোনে
যায় না মানা চ্যানেল ভ্রমণে।

বড় হৃদয়ের মমতানিবিড় মানুষ প্রফেসর শিবজিত নাগের ৬৭তম জন্মবার্ষিক চলে গেল অত্যন্ত নিরবে। শুভার্থীদের সুযোগ দেননি শুভ কামনা জানাবার। অথচ তিনি নিজেই অগ্রজ এবং অনুজদের জন্মদিনে একগুচ্ছ রজনী ডাঁটা নিয়ে ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ জানাতে উপস্থিত হন। গত ১৫ ডিসেম্বর ছিল তাঁর জন্মবার্ষিক। এ বয়সে তাঁকে তরতাজা দেখাটা নয়নসুখকর অভিজ্ঞতা। বর বেশ-এ দেখতে পারলে আরও ভাল লাগত।
নিজস্ব বিশ্বাস ও মতামতের ক্ষেত্রে অসম্ভব দৃঢ় ও আপোসহীন এই চিরকুমার মানুষটি সমাজের জন্যে কাজ করে যাওয়াকেই কিছুটা তাঁর ধর্ম বলে মনে করেন। তিনি অবশ্য ক্লাব কেন্দ্রিক সেবাতেই আবদ্ধ থাকেন না, তা ব্যাপৃত হয়েছে বৃহত্তর সামাজিক সেবা কর্মে। মানুষকে জানাই বোধ হয় নিজেকে জানা। এই জানার অভাবেই নিজের মধ্যে আত্মন্ধতা আসে। কিন্তু তাঁর মধ্যে এসব নেই। তাই তিনি নিজের দীপ্তিরে উজ্জল।
পাবনা শহরে তিনি ১৯৫০ সালের ১৫ ডিসেম্বরে স্বচ্ছল ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে ভূমিষ্ঠ হন। পিতা মনীন্দ্রনাথ নাগ। মা প্রতিমা নাগ। ৫ ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তাঁর তিন ভাই ও একমাত্র বোন প্রয়াত।

সংক্ষিপ্ত শিক্ষা ও কর্ম জীবন

শিবজিত নাগ স্কুল জীবন পার করেন পাবনা জেলা স্কুল থেকে। এইচ.এস.সি এডওয়ার্ড কলেজ, বি.এস.সি (অনার্স) গণিত ও এম.এস.সি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মজীবনে-পাবনার শহীদ বুলবুল কলেজ, জামালপুরের সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজ, খুলনার সরকারি বি.এল কলেজ, সরকারি রাজশাহী কলেজ। পদ উন্নতি পেয়ে প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ও বগুড়ার আযিযুল হক কলেজ। ১৯৭৪ সালে কর্মজীবন শুরু করে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ। বর্তমান বেসকারি পাবনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম অধ্যক্ষ। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর এর সিনেট সদস্য। পাবনা প্রেসক্লাব, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ গণশিল্পী ও সংস্থার সভাপতি। অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর নির্বাহী সদস্য। এডওর্য়াড কলেজের শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের তিনি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেসরকারী জেল ভিজিটরের দায়িত্ব পালন করছেন।

কল্যাণ তহবিল বাস্তবায়ন

সংস্কৃতির সার্বিক কল্যাণের অঙ্কটা কষতে ভুল করেন নি প্রফেসর শিবজিত নাগ। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার পর তিনি কল্যাণ তহবিল চালু করে যুগান্তকারী ঘটনা ঘটান। দুইজন প্রয়াত সদস্যকে (শফিকুল ইসলাম শিবলী ও আব্দুল মজিদ দুদু) এক লাখ টাকা অনুদান দেন। ২০১১-২০১৩ সালে প্রফেসর শিবজিত নাগ ও আহমেদুল হক রানা পরিষদ বিজয়ী হয়ে কল্যাণ তহবিল কার্যকর করতে সময় দিতে থাকেন। ২০১৭ সালে তা কার্যকরী হয়। এই কল্যাণকে যদি গরিষ্ঠ সাধারণ গুনিতক ধরা হয় আর ভাজক হিসেবে সভাপতি-সম্পাদককে ধরে নিয়ে ওই গুণিতক দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগ ফল মিলে যায় সেটা তারা সিঁড়ি ভেঙে নয়, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে সদস্যদের চমৎকার ভাবে দেখিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়ন নাট্য। এই সুত্রে তারা কল্যাণ তহবিল বাস্তবায়নে একটা তাৎক্ষনিক বাহাদুরি পেয়ে যাবার যোগ্য। প্রতিকূল অবস্থায় যে পদ্ধতিতে অঙ্কটি তারা কষেছেন সেখানেই বিপরীত প্রেক্ষিত থেকে কিছুই অমূলক প্রশ্ন থাকতেই পারে। শিবজিত নাগ অঙ্কবিদ। তাই তিনি হিসেব করেই প্রেসক্লাবকে প্রবহমান রাখতে নেতৃত্ব দিয়ে অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছেন। তাঁর বা তাঁদের যাবার পথটি এতই মসৃণ এবং এতই জটিল যে, এর মধ্য দিয়েই কর্মতৎপরতা খানিক দর্শনে পরিণত হয়েছে। অভিনবত্বে এবং অবদানে তাঁর সমকক্ষ ক্লাবে কেউ নেই।

প্রেসক্লাবে পুরস্কার প্রবর্তন

পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির স্মৃতি জাগরূক করতে ২০১১ সাল থেকে এ কে এম আজিজুল হক স্মৃতি পুরস্কার প্রবর্তন শিবজিত নাগের কৃতিত্ব। বছর দুয়েক এ পুরস্কার দেবার পর নানা রকম মন্তব্য সৃষ্টি হওয়ায় তিনি এ প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দেন। এ দুবছরের প্রথম বছরে মোসতাফা সতেজ ও হাবিবুর রহমান স্বপন এবং ২য় বছরে মোসতাফা সতেজ ও আহমেদ হুমায়ুন কবীর তপু পুরস্কৃত হন। প্রায় সকল গুণ শিবজিত নাগের আছে। তাই তিনি গণশিল্পী সংস্থার ধরে আছেন ৩৫ বছর। প্রেসক্লাবে আছেন তারও বেশি। সময়ের নবতরঙ্গ বুঝে নিতে পারেন বলেই তিনি অভিনন্দনযোগ্য। পারিবারিক শিক্ষা ও সংস্কার তাঁকে বিনয়ী করেছে। তাই তিনি স্বপ্ন শূন্যের মধ্যে পার্থক্য ধরেছেন কর্মে। অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর শতবর্ষ স্মরনিকা ১৯৯০ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন শিবজিত নাগ।

কক্সবাজার সফর

২য় রেকর্ড গড়েন ৪ দিনের কক্সবাজার সফর। ক্লাবের সদস্যরা পরিবার নিয়ে চারদিন সফর করেন গত বছর নভেম্বরে। যাবতীয় খরচের ৭৫ ভাগ অর্থ সহায়তা নিজের অর্থে থেকে দেন শিবজিত নাগ। যা প্রেসক্লাবের ৫৫ বছরের ইতিহাসে ব্যতিক্রম। তাঁর এই উদার অবদানের কথা, ভালবাসার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন অনেক সদস্য। এই মজাদার সফরের অভিজ্ঞতা-অবদান সদস্যদের মধ্যে একটা অন্যরকম ব্যঞ্জনা সঞ্চার করতে থাকে। যে ব্যঞ্জনায় পরবর্তী রেকর্ডও ঝলকে ওঠে সামনে।

স্মরণিকা সম্পাদনা

১৯৮৭ সালের মে মাসে প্রেসক্লাবের রজত জয়ন্তী উৎসব পালন উপলক্ষে শিবজিত নাগ সম্পাদনা করেন প্রেসক্লাব স্মরণিকা। তখন তিনি ক্লাব সম্পাদক ছিলেন। সভাপতি ছিলেন আনোয়ারুল হক। এ স্মরনিকা একটি কাল পর্ব ধরে আছে। কিন্তু ক্লাবের ৫০ পূর্তিতে কিছুই করা হয়নি। তবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
১৯৮৭ সালের অক্টোবরে গণশিল্পী পাবনা আঞ্চলিক সম্মেলন উপলক্ষে একটি সংকলন প্রকাশ করে। স্মরণিকা উপপরিষদের আহবায়ক আবুল হোসেন খোকন সম্পাদিত এ পত্রিকায় ‘সচেতন সাংস্কৃতিক কর্মী’ শিরোনামে শিবজিত নাগ একটি প্রবন্ধ লেখেন সংক্ষিপ্ত আকারে। তাতে তিনি সাহসের সাথে উল্লেখ করেন, ‘শত শত বছরের শোষণ এবং দেশী-বিদেশী শোষক শ্রেণীর কর্মকান্ডের ফলে আমাদের সংস্কৃতি সমুদ্রে জঞ্জাল এত বেশী জমেছে যে এর মধ্য থেকে কাঙ্খিত মুক্তো বাছাই করে আনা খুবই দুরূহ কাজ।’ পাবনা পৌরসভার শতবার্ষিক স্মরণিকায় শিবজিত নাগ লিখেছিলেন একটি নিবন্ধ। যার শিরোনাম ‘শিক্ষা সমীক্ষা’। তখন তিনি ২৬ বছরের যুবক। সততার সংকল্পকে পূঁজি করেই বর্তমান সভাপতি সম্পাদকসহ সফর কর্মসূচি পালন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ক্লাবের সার্বিক লাবণ্য দান ভাবনায় আর সহযোগিদের বিপদ আপদে পাশে থাকার সমীকরণ সঠিক বলে সদস্যরা শিবজিত নাগ কক্সবাজার সফর করিয়ে জীবনকে দেখা, আর অনুভব করার চোখ কিছুটা বদলে দিতে পেরেছেন। অর্থ সহায়তা দিয়ে আহ্লাদে আস্ফালন করেন না তিনি। ১৯৮৭ সালে অক্টেবরে প্রকাশিত সুভেনিরে সম্পাদকীয় কলামে লেখেন: চারদিকের নানা ঘাত প্রতিঘাত ও সামাজিক বিপর্যয় আমাদেরকে প্রচন্ড হুমকি দিয়েছে সত্য, তবু আমাদের অগ্রযাত্রা রয়েছে অব্যাহত। নিরন্তর গণতন্ত্রহীন মধ্যে রাজনীতির নিস্ক্রিয়তা আর কেবল্য স্বাভাবিক। তার তাই কালান্তক প্রলয়ের সংকেত তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন। দমে যান নি। একের পর এক নাটক-পোস্টারিং কাটুন প্রদর্শন করিয়েছেন সংস্থার কর্মীদের দিয়ে। গণশিল্পীতে বা প্রেসক্লাবে তিনি যেন ক্লোরোফিল। ক্রমাগত সবুজ সংকেত দিয়ে যাচ্ছেন। আজীবন সংস্কৃতি উন্নয়নের ব্রত বহন করা কেবল কঠিন কাজ নয় কঠিন পরীক্ষাও বটে।

সাংবাদিক জীবন

১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক বার্তার পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। পত্রিকা প্রতিষ্ঠা কাল থেকে প্রথম পর্বে প্রকাশনা চালু থাকা পর্যন্ত। ১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট থেকে বিবৃতির অবৈতনিক সম্পাদকের দায়িত্ব নেন প্রফেসর শিবজিত নাগ। দাপটের সাথে চালিয়ে যেতে থাকেন সম্পাদনা। ১৯৮১ সালের এপ্রিলে শ.ই.শিবলীর হাতে সাপ্তাহিক বিবৃতি আতœপ্রকাশের দুই বছর পর শিবজিত নাগ পত্রিকার শক্তপোক্ত একটা বুনিয়াদ তৈরি করেন। পরবর্তী কালে তাঁর অনুজেরা সেই বুনিয়াদকে বড় সড় একটা লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যেতে পেরেছেন। সেই প্রকাশনার বহমান গতিকে গতিশীল করতে বিবৃতি আজ দৈনিকে রূপান্তর হয়েছে। তাঁর সময় কালে এ পত্রিকার প্রথম পৃষ্টায় ছড়াকার্টুন চালু করা হয়। নিয়মিত লিখতে থাকেন স্থানীয় ছড়াকাররা। শিল্প ও সাংস্কৃতিক প্রসারে সংগঠনগুলোকে অণুপ্রাণিত করা এই মানুষটির কাছে স্থানীয় কিছু ছড়াকার ঋণী। তিনি ছড়া বাছাই করে বিবৃতির প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপতেন। পত্রিকা ঘিরে তারা লেখা প্রকাশের তৃষ্ণা মেটাতে থাকে। ১৯৮৩ সালের প্রথম মে। শিবজিত নাগের উদ্যোগে সাপ্তাহিক বিবৃতির তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিক জমজমাট ভাবে পালন করা হয় বনমালী ইন্সটিটিউটে। নিরীক্ষার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামাল লোহানী, দৈনিক বাংলার কলামিস্ট খোন্দকার আলী আশরাফ, প্রেস ইন্সটিটিউটের প্রশিক্ষণ পরিচালক শামসুল হুদা, দৈনিক বার্তার বার্তা সম্পাদক ওয়াজেদ মাহমুদ ও সহ সম্পাদক আনিসুজ্জামান নান্নু উপস্থিত ছিলেন। কিছু পৃষ্ঠপোষক স্বেচ্ছাসেবক চিরকালই ছায়া দিয়ে থাকেন যারা নিজের পান্ডিত্য ও রস বৈদগ্ধে প্রেরণা যুগিয়ে যান, অনুপ্রাণিত করেন মনে প্রাণে। অনুজদের উৎকর্ষে আনন্দিত হন। এরকম একজন মানুষ প্রফেসর শিবজিত নাগ। একাধারে তিনি যেমন শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, সংগঠক তেমনি ছিলেন সাংবাদিকও। অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত থেকেও ভিন্ন মাত্রার এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ধারাবাহিক ভাবে রক্ষা করা খুব সহজ ব্যাপার নয়। তবু তিনি হাল ছাড়েন নি। তাঁর কীর্তির ব্যাপ্তি এমন বিশাল এবং তাঁর গুণাবলীর মধ্যে এমন সব দেদীপ্যমান বৈশিষ্ট্য যে একাধারে তাঁকে ধরে রাখা অসম্ভব ব্যাপার। চিরকুমার এই মানুষটির কৃতিকর্ম, আত্মত্যাগ, সংস্কৃতির প্রতি তাঁর অনুরাগ অনেককেই মোহিত করে। অনেক গুণ থাকায় এ শহরে তিনি ক্লিনম্যান হিসেবে পরিচিত।
অধ্যাপনা পেশার পাশাপাশি সমাজ সেবা আর সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা নি:সন্দেহে তাঁর চেতনাকে স্বচ্ছতর করেছে। সমাজে তিনি একজন অক্লান্ত যোদ্ধা। উর্বর মগজধারীদের রীতিমত উৎসাহিত করেন।

তাঁর ব্যক্তিত্ব অভিভূত

শিবজিত নাগের স্মৃতির মধ্যে যে ব্যঞ্জনা লুকিয়ে আছে তা সম্পূর্ণ উন্মোচিত করা অনেক খানি দুসাধ্য কর্ম। এ সব লেখার প্রবল অনুভব শক্তি দরকার। দশক কেন্দ্রিক বিশ্লেষণ ধর্মী ভাষা দরকার। সন্ধানী দৃষ্টি আর মনন শক্তিও দরকার। এরকম বিষয় নিয়ে লিখতে গেলে কিছু স্পর্শ কাতর জায়গা শূন্য রেখে যেতে হয়। তারপরেও আলো আঁধারের সেতু বেয়ে এগিয়ে যাওয়া। প্রখর সাংস্কৃতিক প্রেমী এই শিক্ষাবিদের তারিফ করেন স্বচ্ছ মনের মানুষেরা। সর্বজনিন সংস্কৃতির মধ্যে তিনি প্রাণ সঞ্চার করতে জানেন। বিচার বুদ্ধি তাঁর স্বচ্ছ। আদর্শবাদী। শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার যোগ্যতা রাখেন। স্পষ্টভাষী। তাই তাঁর ব্যক্তিত্ব অভিভূত করে অনুজদের। শিবজিত নাগ সেবক জীবনের রকমারি উত্থান-পতন, ঝড় ঝঞ্ঝা, আনন্দ-বেদনা সব কিছুকেই জয় করেছেন মানসিক ক্ষমতায়।
শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্র যাদের যথার্থ ভূমিকা ও হিতকারী অবদান রাখার কথা তাঁরা কেউ কেউ ভেতর থেকে উৎসাহ পান না বলে পিছিয়ে যেতে থাকেন। উদীচি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন শিবজিত নাগ। এসময় গণশিল্পী সংস্থার আদর্শ উদ্দেশ্য তাঁকে অণুপ্রাণিত করে। স্বপ্নভরা জেলায়, যেখানকার সমতল ভূমিতে বেকার তরুণদের ছড়াছড়ি, সীমাহীন অভাব যেখানে হতাশা ডেকে আনে সেখানে গণশিল্পীর কার্যক্রম প্রদর্শনের প্রয়োজন আছে। এই সব ভেবে তিনি গণশিল্পীর হাল ধরেন শক্ত হাতে। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ প্রকাশ করতে থাকেন।

গণশিল্পী সংস্থা পাবনা শাখার বিকাশ

১৯৮৩ সালের অক্টোবরে পাবনায় গঠিত হয় গণশিল্পী সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি। আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম বকুল। তিনি এখন টিভি নাট্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৮৪ সালের আগষ্টে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি হন শিবজিত নাগ। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন খোকন।
গণশিল্পীর তরুণ-তরুণীরা ক্রমাগত নাটক দেখিয়ে জাগরণী গান শুনিয়ে সাধারণ মানুষের ঘুমন্ত চেতনাকে জাগাতে চেষ্টা করে যায়। রিখটার স্কেলে ধরা না পড়লেও জেলার ভূগোলে কান পাতলে এখনো সাংস্কৃতিক সোর-গোলের শব্দ শোনা যায়। ঢাকা থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরের এক উচ্চ নি¤œবিত্ত প্রধান প্রাচীন শহর পাবনা। সংস্থায় বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী যোগ দেন। জড়িত ছিলেন বেকার যুবকেরাও। নব্বই দশকের সামরিক বাতাসে তখন গণতন্ত্র নিরুদ্দেশ। তরুণ কর্মিরা একই নি:শ্বাসে সক্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন। গণতন্ত্র কোন্ দেশের বা দলের সম্পত্তি নয়। গণতন্ত্র হলো স্বাধীনতার অপর পিঠ। যারাই শুভবোধে আচ্ছন্ন রাখতে চান তামাম দেশ, তারাই শিক্ষায়, শিল্পে, সংস্কৃতি, অর্থনীতি আর রাজনীতিতে এক অশুভ সময় দিয়ে ঘিরিয়ে রাখেন দেশটা। এ পরিস্থিতিতে গণশিল্পীর উত্তরণের আভায় তরুণ শিল্পীরা বেড়ে উঠতে থাকে। স্বাভাবিক সুষমায় যারা বেড়ে উঠতে পারেননি তারা সংগঠন ছেড়ে যান। দেশপ্রেমি আগ্রহীরা ধরে থাকেন।

বিভিন্ন সংগঠনের অলংকার

১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ পাবনা জেলা শাখা দুবছর মেয়াদের ২১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটিতে সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক শিবজিত নাগ।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা পাবনা শাখা প্রতিষ্ঠাকালিন ১৫ জন সদস্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রফেসর শিবজিত নাগ।
বনমালীতে ১৯৮৮র মে মাসে অনুষ্ঠিত আবৃত্তি সংসদের প্রথম সম্মেলনে নতুন করে গঠন করা হয় কার্যকরী পরিষদ। এতে উপদেষ্টা পরিষদে রাখা হয় শিবজিত নাগসহ কয়েকজনকে।
শিবজিত নাগের যাবতীয় সারস্বত কীর্তি, অর্জন, সম্মান, আনন্দ ও আঘাতের কথা কিছু অজানা। সাংস্কৃতিক জীবন আরম্ভ করে তিনি তাঁর স্বতন্ত্র পরিচয় অর্জন করে নিতে পেরেছেন। তার সাংস্কৃতিক ভুবন বেশ বড় সড়। সচেতন মানুষের মধ্যে নিমগ্ন থাকাই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে। অনুজ ভাই-বোনের অকালে জীবনাবসান ঘটায় তাঁর জীবন হয়ে ওঠে শোকার্ত। এসবের তাপ-অনুতাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়াতে থাকেন। এসবের মধ্যে পাবনা প্রেসক্লাব আর গণশিল্পী সংস্থা যেন তাঁর ডান বাম হাত।

স্টাইলহীন পোশাক-আশাক

প্রফেসর শিবজিত নাগ পোশাকে শারীরিক সৌন্দর্য আলগা ভাবে বাড়িয়েছেন বলে কেউ দেখেনি। সৌন্দর্য হিসেবে যেটুকু দেখা গেছে, তার মানে স্বাভাবিক তরতাজা ভাবটাকে বজায় রাখা। তাঁর কান ছোঁয়া কাঁচা-পাকা চুলের ঢেউয়ে কলপের ছোঁয়া লাগেনি। তিনি যথা সম্ভব পরিচ্ছন্ন এবং ঝকঝকে থাকার চেষ্টা করেন। দাড়ি-গোমাহীন এই ৬৭ বছরের তরুণ শীতকালে অনেক বছর ধরে একই সোয়েটার ব্যবহার করে আসছেন। প্যান্টের ভেতরে জামা গুঁজে পরাও দেখা যায় নি। পোশাকে তিনি প্রবীণ সেজে থাকেন।
আধুনিক পোশাক নীতির ধার ধারেন না তিনি। তাঁর শরীর ভাষ্যে টাই-স্যুট নেই। পোশাক বিপ্লবের ধারেও যান না। পুরনো দিনের পোশাককে পছন্দের ছাঁকনিতে ছেঁকে নিয়ে ঋতু অনুযায়ী ব্যবহার করেন। তাঁকে টাই-স্যুট-বুট পরতে দেখা যায় নি। তার এলবামে এরকম পোশাক দেখে জিজ্ঞাসা করতেই জানা গেল চাকরি জীবনে বুণিয়াদী প্রশিক্ষণপর্বে টাই-স্যুট পরতে হয়েছিল। সার্টিফিকেট গ্রহণের টাই-স্যুট পরা একটি ফটোগ্রাফ ডেইলি অবজারভাবে ছাপা হয়েছিল। এই ছোটো খাটো মানুষটি কখনও পাঞ্জাবি পরেছেন বলেও মনে পড়ে না।

প্রেসক্লাবের অগ্রগতি ও প্রাচুর্য

প্রেসক্লাব অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কে অনেকেরই বিশেষ কৌতুহল আছে। ক্লাব নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। বিশেষ করে সদস্যদের হাতে কল্যাণ তহবিলের পাস বই তুলে দেওয়ার পরে সে কৌতুহল আরও বেড়েছে। তা নিবারণের জন্যে কিছু বাড়তি কথা লিখতে হচ্ছে। প্রেসক্লাবের অগ্রগতি বৈচিত্র্যের যেমন প্রাচুর্য এনেছে তেমনি নব্য ঈর্ষান্বিতদেরও চিন্তিত করেছে। পরিশুদ্ধ কর্মতৎপরতায় পরিবর্তনশীল মানসিকতাদের মনে এই প্রাচুর্য ক্রিয়াশীল হয়ে উঠছে ক্রমেই। মিডিয়া যত শক্তিশালী হচ্ছে প্রেসক্লাব ততই সমীহ আদায়ে সমর্থ হচ্ছে। অতি সম্প্রতি ঈশ্বরদীতে ৪জন সাংবাদিক পেটানোর প্রতিবাদে পাবনা প্রেসক্লাবের আন্দোলন প্রবল ভাবে দানা বাধার কারণে সফল হয়েছে। এর নেপথ্য কারণ গণমাধ্যম সৈনিকেরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। ক্ষমতার দম্ভ, শক্তির মত্ততা, অস্ত্রের ঝংকার আর রাজনীতির বড়াই যে আইন প্রয়োগের কাছে কত ঠুনকো, কত অন্তঃসারশূন্য একথা আবার নতুন করে উদয় হলো।
ক্লাবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে শিবজিত-রেমন পরিষদ বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন। এ পরিশ্রম কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রসারিত। ক্লাবে প্রযুক্তি মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা তাদের স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্যে দরকার মৌলিক এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা। এর আলোকে ওয়াইফাই ইন্টারনেট চালু করেন। তাঁরা ক্লাব কেন্দ্রিক কর্মচাঞ্চলে উত্তরোত্তর চমৎকৃত করে চলেছেন। সময় যে মানুষকে কত বদলে দিতে পারে, মানুষের মধ্যে যে কত রকম প্রতিভা সুপ্ত অবস্থায় থাকে তার নিদর্শন এরা দুজনও। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন হওয়া দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে তারা প্যানেল দিয়ে জয়ী হয়ে আসেন ১৭ পদের ১৩টিতে। দায়িত্ব লাভ করে তারুণ্যের উৎসাহে তাঁরা বেশ কিছু কাজ শুরু করে দেন। তাঁদের চমকপদ র্কীতি কল্যাণ তহবিল চালু করণ। প্রয়াত ২ সদস্যকে ১ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে সদস্যদের হাতে তুলে দেন কল্যাণের পাস বই। এ এক বিরাট অর্জন। ক্লাবের ৫৬ বছরের ইতিহাসে এটা নিঃসন্দেহে রেকর্ড। এ থেকে প্রমাণিত হয় পাবনা প্রেসক্লাব সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্যে যে সকল যোগ্যতা প্রয়োজন তার সবগুলোই প্রফেসর শিবজিত নাগের আছে। তাঁর ব্যক্তিত্বই সমীহ আদায়ে সহায়ক। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। সঙ্গী পেয়েছেন আরেকযোগ্য ব্যক্তি আঁখিনূর ইসলাম রেমনকে। আর্থ-সামাজিক ভাবে গুরুত্ব না থাকলে সে বিষয় ক্লাবজীবন বিশ্বাসের আওতায় আসে না। সহকর্মীদের মনে তাৎপর্যও গড়ে ওঠে না। এসব কথা মাথায় রেখেই তাঁরা যেন আদা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। উন্নয়নে ২০০৭-২০১১ সাল পর্যন্ত কোন পদে না থেকে রেমন এ ৪ বছর ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সম্পাদন করেন। এতে অর্জিত প্রিয়তায় ২০১১ সালে নির্বাচিত হন যুগ্ম সম্পাদক। সেই থেকে তার যাত্রা শুরু। বর্তমানে সম্পাদক পদে তিনি যথাযথ দায়িত্ব পালনে একের পর রেকর্ড গড়ে চলেছেন। হয়ে উঠছেন কর্মযোগী।
দায়িত্ববানদের কার্যকলাপের পরিচয় পাওয়া যায় প্রত্যেক পক্ষেই। সভাপতির বিশিষ্টতা ছড়িয়ে আছে তার চিন্তা-চেতনায়, তাঁর মেজাজে, সঞ্চরণশীলতায় ও কর্মসূচি পালনে। তিনি অন্তরের টানে এখানে সময় ঢালেন। ক্লাবকে তিনি প্রায় দিন যাপনের অনুষঙ্গী করে নিয়েছেন। কারণ বাঁধা ধরা জীবনের ছকে অর্থাৎ দাম্পত্য ছকে নিজেকে বাঁধেন নি। তাই তাঁর হাতে অফুরন্ত সময়। এই সময়টুকু তিনি দিয়ে যাচ্ছেন সংস্কৃতি সেবায় আর ক্লাবের জৌলুস বাড়াতে। এক সময় কলেজ শিক্ষকতার পেশায় স্থির ছিলেন। অধ্যক্ষ হিসেবে ২০০৮ সালে অবসর নেন বুলবুল কলেজ থেকে। ১৯৮৩ সালে পাবনায় তিনি গণশিল্পীর শাখা খুলে ৩৫ বছর চালু রেখেছেন। প্রেসক্লাবও তাঁর কাছ থেকে আর্থিক সেবা পেয়েছে তারও বেশি। প্রায় ৪০ বছর। অর্থ সহায়তা দিয়ে আহ্লাদে আস্ফালন করেন না তিনি। এটা তারও বড়গুণ। পারিবারিক শিক্ষা ও সংস্কার তাঁকে খানিকটা বিনয়ী করেছে। রাজকীয় অহঙ্কার করার মত যোগ্যতা তাঁর রয়েছে। তিনি তা করেন না। তারপরেও অনুভব করা যায় তাঁর প্রতি কয়েকজন ঈর্ষান্বিত। ঈর্ষার একটা বড় কারণ হতে পারে তিনি কুসংস্কার মানেন না। দ্বিতীয়ত অর্থনৈতিক বৈষম্য আর তাঁর প্রসারিত হৃদয়। দানের মানসিকতা আছে। তাই দেখে দিনে দিনে অনেকের কাছে এই ঈর্ষা হিংসায় যেন পর্যবসিত না হয় সে প্রত্যাশাও করেন অনেকে।
এই বিদ্যান মানুষটি ক্লাবে এবং শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক জগতে উজ্জল তারকা। এই মানুষটির কৃতিকর্ম, বিদ্যামত্তা, আত্মত্যাগ অনেকেরই অজানা। ক্লাবের প্রতি তাঁর অনুরাগ এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক হাওয়া বেগবান করতে নিজের শ্রম ও মনন নিয়োজিত করেছেন। ক্লাব সমৃদ্ধি কল্পে তাঁর দান অপরিসীম।
দৈনন্দিন ক্লাবচর্চা ও শিক্ষকতার যোগফলে পাওয়া যায় তাঁর এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। তিনি যেবারেই নির্বাচিত হয়েছেন সেবারেই আবহমন্ডলকে পাল্টে দেবার চেষ্টা করেছেন। গতানুগতিক পরিমন্ডল থেকে বের হয়ে এসে নিজস্ব ও নতুন পরিমন্ডল তৈরি করে নিতে প্রয়াসী হয়েছেন। এ রকম দৃষ্টান্তসৃষ্টিকারীকে স্বভাবতই অনুজদের মনে ক্লাবকেন্দ্রিক জীবন সম্বন্ধে বিসময়বোধকে বর্ধিত করে। বিশেষ স্থানের প্রতি, বিশেষ অনুরাগ কোন নিয়ম মেনে চলে না। রুচি এবং রস গ্রহণ ব্যক্তির একান্তই নিজস্ব। স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানীর গৌরব গাথার কথা উঠলে তিনি আমাদের স্বদেশ বাণীতে উৎসাহ দিতেন।

Share.

Leave A Reply