চট্টগ্রামে ইফতার সামগ্রী আনতে গিয়ে পদদলনে নিহত ১০

0

এনএনবি : চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বিশিষ্ট শিল্পপতি কেএসআরএমের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহজাহানের পক্ষ থেকে দেওয়া ইফতার সামগ্রী সংগ্রহ করার সময় পদদলিত হয়ে ১০ নারী ও শিশু মারা গেছে।  আহত অন্তত ২৫ জন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের গাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের হাঙ্গরমুখ এলাকার কাদেরিয়া মুঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।  ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আটটি মরদেহ উদ্ধার করেছে।  বাকি দুই জনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার বিকেলে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, সাতকানিয়ায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৫-৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৯ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেনÑ সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের ছগির আহমেদের মেয়ে হাছিনা আক্তার, একই ইউনিয়নের আহমদ শফির মেয়ে রশিদা আক্তার, ঢেমশা ইউনিয়নের মো. হাসানের স্ত্রী রিনা বেগম, একই ইউনিয়নের আবুল কালামের স্ত্রী সাকি, লোহাগাড়ার কলাউজান ইউনিয়নের ছালেহ আহমদের মেয়ে টুনটুনি, একই ইউনিয়নের আব্দুল হাফেজের স্ত্রী জোসনা বেগম, মো. আলাউদ্দিনের মেয়ে নুর জাহান, বান্দারবানের মো. ইব্রাহীমের স্ত্রী নুর আয়েশা এবং দোহাজারীর নুরুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম।

ঘটনাস্থলে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকাল থেকে ইফতার সামগ্রী নিতে আসা নারীদের ভিড় বাড়ছিল। এক পর্যায়ে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে অস্থায়ী গেট ভেঙে পড়ে। এসময় ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে সামনে যারা ছিল তারা পদদলনের শিকার হন। ঘটনাস্থলেই আটজনের মরদেহ পাওয়া যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ১০-১৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাতকানিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, কেএসআরএমের মালিক  গ্রামের বাড়িতে যাকাত দিচ্ছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ স্থানীয় মাদ্রাসার মাঠে জড়ো হন।  অনেকে রোববার (১৩ মে) রাত থেকে এজন্য ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করতে থাকেন।  অতিরিক্ত ভিড়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হিটস্ট্রোকে ১০ নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর দাবি, হিটস্ট্রোকে নয়, পদদলিত হয়েই ১০ নারী-শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদারও পদদলনে মৃত্যুর কথাই বলেছেন। তিনি জানান, সাতকানিয়ায় পদদলিত হয়ে আহত মোস্তফা খাতুনকে (৫০) বিকেল সোয়া চারটায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

Share.

Leave A Reply