জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে

0

এফএনএস আন্তর্জাতিক : ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নেওয়ার পর এর উদ্বোধন করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার জেরুজালেম দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ও তার স্বামী জারেড কুশনার উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। তারা দুজনেই হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। কুশনার দম্পতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিফেন মুচিন ও উপপরাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার এ সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল প্রশংসা করলেও ফিলিস্তিনিরা মার্কিন এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে এর প্রবল বিরোধিতা করেছে। দূতাবাস উদ্বোধনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদের জন্য জেরুজালেমে জমায়েত হচ্ছে তারা। জেরুজালেমকে নিজেদের ‘শাশ্বত ও অখ-’ রাজধানী বলে বিবেচনা করে ইসরায়েল। অপরদিকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেম দাবি করে আসছে। তারা ট্রাম্পে এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে। গত বছর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ থাকার কয়েক দশক ধরে অনুসৃত নীতি থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রে যে কন্স্যুলেট ভবন আছে সেখানেই ছোট পরিসরে অন্তর্বর্তীকালীন এ দূতাবাসটি চালু করা হচ্ছে। পরে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস ভবন নির্মিত হলে তেল আবিব থেকে দূতাবাসের অপরাপর অংশও এখানে নিয়ে আসা হবে। ইসরায়েলের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সঙ্গে মিলানোর জন্য মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এগিয়ে আনা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বক্তব্য দিবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ)। ইসরায়েলে দূতাবাস থাকা অধিকাংশ দেশের রাষ্ট্রদূতই জেরুজালেমের এই অনুষ্ঠান বর্জন করছেন। তবে হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও চেক রিপাবলিকসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুয়েতেমালা ও প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টদেরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর এই দুই দেশও তাদের রাজধানী জেরুজালেমে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধন তাদের জন্য উদযাপনের একটি বিষয়। অপরদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একে বর্ণনা করেছেন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রচেষ্টার ওপর ‘শতকের সবচেয়ে বড় আঘাত’ হিসেবে।

 

Share.

Leave A Reply