জয়েস টেস্ট খেলেই অবসরে

0

এফএনএস স্পোর্টস: বহু আরাধ্য স্বপ্নটি পূরণ হয়েছে কদিন আগে। পেয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ। অ্যাড জয়েসের তাই মনে হলো, এবার সময় হয়েছে থামার। সব ধরনের ক্রিকেটকেই বিদায় জানালেন আয়ারল্যান্ডের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

টেস্ট খেলার হাতছানি ছিল বলে ৩৯ পেরিয়েও খেলে যাচ্ছিলেন জয়েস। গত ১১ মে আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক অভিষেক টেস্ট খেলে মিটিয়েছেন সেই স্বাদ। বৃহস্পতিবার জানালেন অবসরের ঘোষণা।

জয়েসের ঘটনাবহুল ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ছিল বেশ কয়েকটি আলোচিত অধ্যায়। ১৯৭৮ সালে জন্ম আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনেই। ১৯৯৭ সালে অভিষেক কাউন্টি ক্রিকেটে।

জাতীয় দলে আগে খেলেছেন আয়ারল্যান্ডের হয়েই। ২০০৭ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব উতরে আইরিশদের প্রথমবার বিশ্বকাপে তুলে দেওয়ায় রেখেছিলেন বড় অবদান। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত আইসিসি ট্রফিতে আয়ারল্যান্ডের হয়ে ৭৫৮ রান করেছেন ৮৪.২২ গড়ে।

তবে চোখ ছিল তার টেস্ট ক্রিকেটে। আয়ারল্যান্ডের টেস্ট মর্যাদা তখন আলোচনায়ও নেই। কাউন্টিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড দলে ডাক আসার পর তাই লুফে নিলেন। সুযোগ পেয়েছিলেন যদিও ওয়ানডেতে। আন্তর্জাতিক অভিষেক নিজের জন্মভূমির বিপক্ষেই! ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে খেললেন বেলফাস্টে। আধুনিক ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম আইরিশ ক্রিকেটার জয়েসই। সেই ম্যাচে তার ছোট ভাই ডম জয়েসের অভিষেক হয়েছিল আয়ারল্যান্ডের হয়ে।

অভিষেকে ভালো করতে না পারলেও ক্রমেই নিজেকে চেনান। ২০০৭ সালের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো দুটি ইনিংস খেলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন সিডনিতে। যে পারফরম্যান্স তাকে নিয়ে যায় ২০০৭ বিশ্বকাপে।

বিশ্বকাপে কানাডা ও কেনিয়ার বিপক্ষে দুটি ফিফটি করেছিলেন। তবে অন্য ম্যাচগুলোয় ছিলন বিবর্ণ। বিশ্বকাপের পরই জায়গা হারান দলে। একসময় বুঝতে পারেন, ইংল্যান্ডের হয়ে তার ভবিষ্যত ভরা অনিশ্চয়তায়। তাই আবার পাড়ি জমান স্বদেশে।

আইসিসির তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, এক দেশের হয়ে খেলার পর আবার অন্য দেশের হয়ে খেলতে বিরতি থাকতে হবে চার বছরের (এখন কমে হয়েছে তিন বছর)।

২০১১ বিশ্বকাপের আগে সেই চার বছর পূরণের বাকি ছিল মাত্র কিছুদিন। আইসিসি তাকে আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলার অনুমতি দেয় বিশেষ বিবেচনায়। এবার বিশ্বকাপে যান আয়ারল্যান্ডের হয়ে। সেই থেকে অবসর পর্যন্ত ৭ বছর ছিলেন আইরিশ ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ।

ইংল্যান্ডের হয় ক্যারিয়ার ছিল ১৭ ওয়ানডের। ২৭.৭০ গড়ে ১ সেঞ্চুরিতে রান ৪৭১। তুলনায় অনেক উজ্জ্বল আয়ারল্যান্ডের হয়ে ক্যারিয়ার। ৬০ ওয়ানডেতে ৫ সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটিতে ২ হাজার ১৫১ রান করেছেন ৪১.৩৬ গড়ে।

টি-টোয়েন্টি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন দুটি। একটি ম্যাচে ব্যাটিং পেয়ে করেছিলেন ১ রান। যথারীতি এখানেও সাফল্যম-িত আইরিশ ক্যারিয়ার। ১৬ ম্যাচে ৪০৪ রান করেছেন ৩৬.৭২ গড়ে।

দারুণ সফল ছিলেন কাউন্টিতেও। মিডলসেক্স ও সাসেক্সের হয়ে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার, দুই দলকেই দিয়েছেন নেতৃত্ব। ২৫৫ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪৭ সেঞ্চুরিতে ১৮ হাজার ৪৬১ রান করেছেন ৪৭.৯৫ গড়ে।

জয়েসদের পুরো পরিবারই ক্রিকেট পরিবার। তাদের চার ভাই ও চার বোনের চারজনই খেলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। অ্যাড জয়েস দুই দেশের হয়ে, ডম জয়েস খেলেছেন আয়ারল্যান্ডের হয়ে। আরেক ভাই গাস জয়েস ছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। দুই বোন সিসিলিয়া ও এসোবেল জয়েস আয়ারল্যান্ড মেয়েদের জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

খেলা ছাড়লেও তাই ক্রিকেট ছাড়তে পারছেন না অ্যাড জয়েস। আয়ারল্যান্ডের পারফরম্যান্স সিস্টেমে কাজ করবেন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ও ব্যাটিং কোচ হিসেবে।

Share.

Leave A Reply