ফুটপাতে কোটি টাকার বাণিজ্য হকার পুনর্বাসন ও আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার

0

রাজধানীর ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে পসরা সাজানো হকারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। বিশেষ করে রমজানকে ঘিরে আরো জমজমাট হয়ে উঠে চাঁদাবাজি। একটি জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলিস্তান, পল্টন ও মতিঝিল এলাকায় দিন দিন বাড়ছে হকারের সংখ্যা, বাড়ছে চাঁদার হারও। আর এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হকাররা রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে ফুটপাতে ব্যবসা করলেও তাদের আয়ের একটি বড় অংশ চাঁদাবাজদের পকেটে চলে যায়। এটা খুবই দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই দিকে নজরদারি দরকার।

দুই সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতের মধ্যে ১০৮ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ফুটপাতই রয়েছে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে। এছাড়া নগরীর ২ হাজার ২৮৯ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৫৭২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বসেছে পণ্যের পসরা। পথচারীরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন পদে পদে। ফুটপাত নিয়ে চলছে বড় অঙ্কের বাণিজ্য। জানা গেছে, রাজধানীর ফুটপাতে পসরা সাজানো হকারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা পরিচয়ে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নানা ধরনের পণ্যসামগ্রীর দোকান থেকে তোলা হচ্ছে এই বিপুল অঙ্কের চাঁদা। এই চাঁদার ভাগ পাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলিস্তান ও এর আশপাশ এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে প্রায় ১২শ’র বেশি দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকান থেকে সর্বনি¤œ ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা শুধু গুলিস্তান ও আশপাশ এলাকা থেকেই চাঁদা আদায় করা হয়। তবে এই এলাকার সবচেয়ে দামি ফুটপাত হচ্ছে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের ফুটপাত। এখানে ৩-৫ ফুটের একটি দোকান নিতে হলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন জামানত দিতে হয়। এর সঙ্গে মাসিক ভাড়া গুনতে হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। শুধু গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন এলাকাই নয়; রাজধানীর নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় রমজানকে ঘিরে রমরমা ফুটপাত বাণিজ্য চলছে। এদিকে রমজানে রাস্তায় যানজট কমাতে নগরীর রাস্তা ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ডিএমপি। এ নির্দেশনা দেয়া হলেও তা কাজে আসছে না। একাধিকবার সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পরে আবারো ফুটপাত চলে যাচ্ছে হকারদের দখলে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, হকারদের পুনর্বাসন না করে তাদের উচ্ছেদ করলে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না। কেননা, এতে অনেকের স্বার্থ জড়িত। তাদের মদদেই হকাররা ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ পান। কিন্তু এখন এ চক্রকে ভাঙতে হবে। তাই চাঁদাবাজদের এমন দৌরাত্ম্য রোধ করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। সেইসঙ্গে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

Share.

Leave A Reply