অভিবাসীদের উদ্ধারকারী জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দিচ্ছে না ইতালি

0

এফএনএস ডেস্ক: অভিবাসনে ইচ্ছুক ৬২৯ জনকে সাগর থেকে উদ্ধার করার পর এখন উদ্ধারকারী জাহাজটিই বিপদে পড়েছে; ইতালি তাদেরকে আর বন্দরে ভিড়তে দিচ্ছে না। লিবিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করা ব্যক্তিদের নিয়ে জাহাজটির অবস্থান এখন ভূমধ্যসাগরে। ইতালির নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জাহাজটিকে বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, খ্রিস্টান ডানপন্থী রাজনৈতিক নেতা সালভিনি মাল্টাকে উদ্ধার করা ওই অভিবাসীদের গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাল্টা সে আহ্বান ফিরিয়ে দিয়েছে। অভিবাসী হতে ইচ্ছুকদের নিয়ে ভূমধ্যসাগরে অপেক্ষা করতে থাকা জাহাজটি জার্মানির সাহায্যসংস্থা ‘এসওএস মেডিটেরানির।’ মাল্টার বক্তব্য জাহাজটি লিবিয়ার উপকূল থেকে অভিবাসনে ইচ্ছুকদের উদ্ধার করেছে। সুতরাং তারা ইতালির সীমানার মধ্যে পড়ে। ‘এসওএস মেডিটেরানি’ জানিয়েছে তাদের জাহাজ অ্যাকুয়ারিসকে ইতালির ‘মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ একই স্থানে অপেক্ষা করতে বলেছে। তাদের বর্তমান অবস্থান ইতালি থেকে ৩৫ নটিকাল মাইল ও মাল্টা থেকে ২৭ নটিকাল মাইল দূরে। সংস্থাটির পক্ষে মাথিলদে অভিল্লাইন বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি কঠিন অবস্থা থেকে উদ্ধার করা মানুষগুলোকে নিরাপদে কোনও একটা বন্দরে নামিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালভেনির দল নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচিত হলে তারা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠিন ভূমিকা গ্রহণ করবে। শনিবার তিনি বলেছেন, মানব পাচার বন্ধ করতে হবে। আর যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীন অভিবাসীদের দিয়ে কাজ করায় তাদেরকেও না বলে দিতে হবে। তার ভাষ্য, ‘মাল্টা কাউকে নেয় না। ফ্রান্স অভিবাসীদের সীমানা থেকেই বের করে দেয়। আর স্পেন তো সীমান্তে গুলি চালায়।’ তিনি আরও বলেছেন, যেসব সংগঠন সমুদ্র থেকে ডুবন্ত অভিবাসীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তিনি মনে করেন, এসব সংগঠন মানব পাচারকারীদের সহযোগী। ওই জাহাজে থাকা মানুষেরা বেশিরভাগই সাব-সাহারান এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনকে উদ্ধার করেছে ইতালির নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বাণিজ্যিক জাহাজ। উদ্ধারকৃতদের ১২৩ জন এমন শিশু যাদের সঙ্গে কোনও অভিভাবক নেই। ১১ জন খুবই ছোট শিশু ও ৭ জন গর্ভবতী নারী রয়েছেন ওই জাহাজে। শিশুগুলোর বেশিরভাগই ইরিত্রিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া ও সুদানের বাসিন্দা। অ্যাকুয়ারিস জাহাজের একজন কর্মী আলেজান্ড্রো পোরো ইতালীয় টিভি চ্যানেল স্কাই টিজি২৪কে বলেছেন, কোন বন্দরে তারা নোঙর করতে পারবেন সেটা জানাটা জরুরিভিত্তিতে দরকার। উদ্ধারকৃতদের অন্তত ৫০ জনকে খুব খারাপ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; তারা প্রায় ডুবে মারা যাচ্ছিল।

 

Share.

Leave A Reply