ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিল স্কটল্যান্ড

0

এফএনএস স্পোর্টস: সাফইয়ান শরিফের দুর্দান্ত ইয়র্কার পায়ে লাগল মার্ক উডের। যেন একসঙ্গে আবেদন করল গোটা গ্যালারি! আম্পায়ারের আঙুল উঠতেই সেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। বাঁধ ভাঙা আনন্দে দর্শকের অনেকে ছুটে গেলেন মাঠের ভেতরে। উপলক্ষ্যটাই এমন। রান উৎসবের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে স্কটল্যান্ড হারিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। স্কটিশদের ক্রিকেট ইতিহাসেই যা সেরা জয়গুলি একটি।

রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ওয়ানডেতে রোববার ইংল্যান্ডকে ৬ রানে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড। জিম্বাবুয়ে ছাড়া অন্য কোনো টেস্ট দলের বিপক্ষে স্কটিশদের ওয়ানডেতে জয় এটিই প্রথম।

এডিনবরায় চমক জাগানিয়া ব্যাটিং পারফরম্যান্সে স্কটিশরা তুলেছিল ৩৭১ রান। সহযোগী দেশগুলোর যা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ইংল্যান্ড সেই রান তাড়ায়ও ছিল জয়ের পথে। কিন্তু স্কটিশরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংলিশদের আটকে দেয় ৩৬৫ রানে।

শেষ দিকে উইকেট পড়ছিল নিয়মিত, তবে জয়টাও ছিল ইংল্যান্ডের নাগালে। শেষ ১২ বলে ইংলিশদের দরকার ছিল ১১ রান। হাতে ২ উইকেট। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে দ্বিতীয় রানের চেষ্টায় রান আউট আদিল রশিদ। পঞ্চম বলে শরিফের সেই ইয়র্কার। লোয়ার অর্ডারে দারুণ ব্যাট করা লিয়াম প্লাঙ্কেটকে আরেকপাশে অপরাজিত রেখেই অল আউট ইংল্যান্ড।

প্রায় সাড়ে সাতশ রানের ম্যাচে আলাদা করে ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছেন দুজন। তিনে নেমে ৯৪ বলে ১৪০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন ক্যালাম ম্যাক্লাউড। স্কটল্যান্ডের হয়ে আগেই ৬টি সেঞ্চুরি তার, যার তিনটি দেড়শ ছাড়ানো। তবে সবকটিই ছিল সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে। এবার বড় দলের বিপক্ষেও চেনালেন নিজের জাত।

রান তাড়ায় ইংল্যান্ডকে বিস্ফোরক সূচনা এনে দিয়েছেন জনি বেয়ারস্টো। দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছেন ওয়ানডেতে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি। সবশেষ গত মার্চে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬ বলে ১৩৮, ৬০ বলে ১০৪ রানের ইনিংসের পর এবার ৫৯ বলে ১০৫। দিন শেষে যদিও পুড়েছেন হারের যন্ত্রণায়।

টস হেরে ব্যাটিং নামা স্কটিশদের দুর্দান্ত শুরু এনে দেন ম্যাথু ক্রস ও কাইল কোয়েটজার। ৮২ বলে ১০৩ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুজন। ৪৯ বলে ৫৮ রান করে অধিনায়ক কোয়েটজারের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। পরের ওভারেই ক্রস ফেরেন ৩৯ বলে ৪৮ রান করে।

তবে স্কটিশ ঝড় থামেনি। তিনে নেমে দারুণ খেলতে থাকেন মাক্লাউড। তৃতীয় উইকেটে রিচি বেরিংটনের সঙ্গে গড়েন ৯৩ রানের জুটি। চতুর্থ উইকেটে জর্জ মানজির সঙ্গে জুটি ১০৭ রানের।

মানজি ফেরেন ৫১ বলে ৫৫ করে। ম্যাক্লাউডকে থামাতে পারেননি কেউ। ১৬ চার ও ৩ ছক্কায় শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৯৪ বলে ১৪০ করে।

রেকর্ড স্কোর, কিন্তু এখনকার ইংল্যান্ডের সামনে তো নিরাপদ নয় কোনো রানই। সেটির প্রমাণ দিতে থাকে তারা শুরু থেকেই। তা-ব চালান বেয়ারস্টো, সঙ্গ দেন জেসন রয়।

দুজনের শুরুর জুটিতে ১২৯ রান ওঠে মাত্র ৭৬ বলেই। তাতে রয়ের অবদান ছিল কেবল ৩২ বলে ৩৪। ইংল্যান্ডের সবশেষ ওয়ানডেতে বেয়ারস্টো সেঞ্চুরি করেছিলেন ৫৮ বলে। এবার করলেন ৫৪ বলে।

১৮ ওভারের মধ্যে সেঞ্চুরি করে আউটও হয়ে যান বেয়ারস্টো। এক ডজন চার ও আধ ডজন ছক্কায় ৫৯ বলে ১০৫।

২৪ ওভারেই ইংল্যান্ড ছাড়িয়ে যায় দুইশ। রান রেট ঠিকই ছিল তাদের। তবে এরপর প্রয়োজনীয় বড় ইনিংসটি খেলতে পারেননি কেউ। রান এসেছে, উইকেটও পড়েছে।

তিনে নামা অ্যালেক্স হেলস করেছেন ৫৬ বলে ৫২। মাঝে জো রুট ২৫ বলে ২৯, ওয়েন মর্গ্যান ১৫ বলে ২০। স্যাম বিলিংস ও ডেভিড উইলি ব্যর্থ।

অষ্টম জুটিতে আবার ইংল্যান্ডের জয়ের আশা জাগান মইন আলি ও প্লাঙ্কেট। ৭১ রানের জুটি গড়েন দুজন। ৩৩ বলে ৪৬ করে ৪৬তম ওভারে আউট হয়ে যান মইন। ম্যাচে ফেরার সেই সুযোগ আর হতাছাড়া করেনি স্কটিশরা।

৪৫ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন প্লাঙ্কেট। কিন্তু আরেকপাশে সঙ্গ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হতাশায়।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

স্কটল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৭১/৫ (ক্রস ৪৮, কোয়েটজার ৫৮, ম্যাক্লাউড ১৪০*, বেরিংটন ৩৯, মানজি ৫৫, বাজ ১১, লিস্ক ১০*; উড ১/৭১, উইলি ০/৭২, রশিদ ২/৭২, প্লাঙ্কেট ২/৮৫, মইন ০/৬৬)

ইংল্যান্ড: ৪৮.৫ ওভারে ৩৬৫ (রয় ৩৪, বেয়ারস্টো ১০৫, হেলস ৫২, রুট ২৯, মর্গ্যান ২০, বিলিংস ১২, মইন ৪৬, উইলি ৭, প্লানকেট ৪৭, রশিদ ৫, উড ১; শরিফ ১/৭১, সোল ০/৭২, ওয়াট ৩/৫৫, লিস্ক ০/৫০, ইভান্স ২/৫০, বেরিংটন ২/৬৭)

ফল: স্কটল্যান্ড ৬ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্যালাম ম্যাক্লাউড

Share.

Leave A Reply