যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক চায় উত্তর কোরিয়া

0

এফএনএস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার কথা ভাবছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের ঐতিহাসিক বৈঠকের এক দিন আগে নিভৃতচারী দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এমন কথা বলল। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রডং সিনমুনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে সিঙ্গাপুরে গেছেন কিম। নতুন যুগের পরিবর্তিত চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া নতুন সম্পর্ক গড়বে। নানা নাটকীয়তার পর আজ মঙ্গলবার ট্রাম্প ও কিম বৈঠকে বসছেন। বৈঠকে বসতে দুই নেতাই গত রোববার সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন। সিঙ্গাপুরের অবকাশ দ্বীপ সেন্টোসায় এই বৈঠক হবে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের নতুন সম্পর্ক গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যে মন্তব্য করেছে, তা দেশটির অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দেয়। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শত্রুতার সম্পর্ক চলে আসছে। কিন্তু এখন উত্তর কোরিয়া যে ভাষায় কথা বলছে, তাতে নমনীয়তার ছাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। ট্রাম্প ও কিম সিঙ্গাপুরে পৃথক হোটেল উঠেছেন। তাঁদের হোটেলের দূরত্ব খুব বেশি নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সমঝোতার খসড়া তৈরি করতে দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকেরা গতকাল সোমবার বৈঠক করবেন। ট্রাম্প-কিম বৈঠকের মধ্য দিয়ে পুরোনো শত্রুদেশ দুটির মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার সমাপ্তি ঘটতে পারে। শান্তির সুবাতাস বইতে পারে কোরীয় উপদ্বীপে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক বৈরী। দুই দেশের নেতারা এখন পর্যন্ত সামনাসামনি সাক্ষাৎ, এমনকি টেলিফোনেও কথা বলেননি। ফলে ট্রাম্প ও কিমের কালকের ঐতিহাসিক বৈঠক নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববাসীর আগ্রহের কমতি নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের শীর্ষ বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি হলো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে সৃষ্ট সংকট ও কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠা। পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়নে দশকের পর দশক সময় ব্যয় করেছে। চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে ২০১৭ সালে থার্মো নিউক্লিয়ার অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি। তারা এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখ-ে আঘাত হানতে সক্ষম বলে মনে করা হচ্ছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘের প্রবল চাপ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের মধ্যেও পিয়ংইয়ং তার পরমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখে। এ নিয়ে ট্রাম্প ও কিমের মধ্য বাগ্যুদ্ধ ও হুমকি-পাল্টা হুমকি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাতে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

Share.

Leave A Reply