জি-৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে

0

সমুদ্র, মহাসমুদ্র ও মহাসমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ আহরণে উন্নত দেশগুলোও সাফল্যের পরিচয় দিতে পারছে না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে মহাসমুদ্র ও মহাসমুদ্রের তলদেশে কী কী খনিজসম্পদ আছে, এ রকম অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও বিজ্ঞানীদের অজানা।

এসব তথ্য থেকেই স্পষ্ট- সমুদ্র ও এর তলদেশের বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ আহরণের কাজটি কতটা কঠিন। এ প্রেক্ষাপটে সমুদ্র ও উপকূলীয় প্রতিবেশের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষায় বাংলাদেশের মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭-এর শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় দেশগুলোর ঝুঁকি কতটা বাড়ছে তা বহুল আলোচিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলায় এবং সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও সমুদ্র ব্যবস্থাপনায় উল্লিখিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং জি-৭ দেশগুলো যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে সব দেশের উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে সাগর-মহাসাগরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত অধিবেশনে প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটজাতীয় প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারে মনোযোগী হওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ববাসী প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারে মনোযোগী না হলে পরিবেশ দূষণের কারণে বহুমুখী সমস্যা সৃষ্টি হবে।

জি-৭-এর শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এ অধিবেশনে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জি-৭-এর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জি-৭ নেতারা এ আহ্বানে সাড়া দেবেন, এটাই কাম্য।

বর্তমান সব দেশই টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিদ্যমান বাস্তবতায় অনেক দেশের পক্ষেই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। যৌথ উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি যত বাড়ানো হবে, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা তত বাড়বে।

Share.

Leave A Reply