কবে মিলবে এলএনজি? অনিশ্চয়তার দ্রুত অবসান কাম্য

0

গত ২৪ এপ্রিল ০.৬৫ মিলিয়ন টন এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো ভেসেল যখন কক্সবাজারের মহেশখালীতে নোঙর করে তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) যুগে প্রবেশ করেছে।

আশা করা হয়েছিল, এই কার্গো ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে এলএনজি যুক্ত হবে মূল টার্মিনালে। ১২ মে পাইপলাইনের মাধ্যমে এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, গত আড়াই মাসেও সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেনি দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের শিল্প খাত। কারণ প্রাথমিকভাবে এই গ্যাস শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সার কারখানা ও অর্থনৈতিক জোনগুলোতে দেয়ার কথা।

এপ্রিলে নিশ্চিত গ্যাস সংযোগ পাবেন ধরে নিয়ে শিল্পে বিনিয়োগও করেছেন অনেক উদ্যোক্তা। অথচ এলএনজির সরবরাহ কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিলম্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলাও। কারণ পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে উড়ে যাচ্ছে গ্যাস। এতে ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। যদিও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেছেন, কার্গো অপেক্ষায় রাখার জন্য সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না, এটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বহন করবে; তবে বাস্তবে কী ঘটে তা ভবিষ্যতে দেখার বিষয়।

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালকে সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে যুক্ত করার দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। তারা সময়ক্ষেপণ করছে কখনও পাইপলাইনের ত্রুটি, কখনও সাগরের তীব্র ¯্রােতের অজুহাত দেখিয়ে। তারা বলছে, সাগরে এমন ¯্রােত অব্যাহত থাকলে তাদের পক্ষে এলএনজি দ্রুত পাইপলাইনে দেয়া সম্ভব হবে না। এ পরিস্থিতি দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য হতাশাজনক।

উল্লেখ্য, দেশে গ্যাসের উৎপাদন সীমিত হওয়ায় চাহিদা থাকার পরও সার, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত এবং বাসাবাড়ি ও বাণজ্যিক খাতে সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সরকার প্রায় ২ হাজার নতুন শিল্প-কারখানাকে গ্যাস সংযোগের অনুমোদন দেয়। কথা ছিল এপ্রিলে এলএনজি যুক্ত হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন অজুহাতে তা পিছিয়ে দেয়া হয়।

এ অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। অনেকে সব ধরনের অবকাঠামো তৈরি, জনবল নিয়োগসহ বিদেশি বিশেষজ্ঞ এনেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছেন না। নতুন শিল্প-কারখানা চালু না হওয়ায় শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে সুযোগ তৈরি হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থানের। বাড়ছে বেকারত্বের হার।

আমরা মনে করি, এ বাস্তবতায় এলএনজি সংযোগ সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। তা না হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর বর্তাবে। এ কাজে যাতে আর কালক্ষেপণ না হয় সে ব্যাপারে পেট্রোবাংলাকেও সজাগ থাকতে হবে। এলএনজি নিয়ে অনিশ্চয়তার দ্রুত অবসান কাম্য।

Share.

Leave A Reply