তদন্ত শুরু নওয়াজের দলের বিরুদ্ধে

0

এফএনএস আর্ন্তজাতিক: পাকিস্তানে নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে কারান্তরীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

যদিও নির্বাচনের আগে কোনো নেতাকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক মন্ত্রী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মন্ত্রী শওকত জাভেদ রোববার বলেন, “আমরা পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছি। তবে নির্বাচনের আগে কোনো নেতাকে গ্রেপ্তার করা হবে না।”

আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন। আদালত নওয়াজ শরিফকে আজীবনের জন্য রাজনীতিতে অযোগ্য ঘোষণা করায় তিনি এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

সম্পদের বিবরণীতে তথ্য গোপন করার অভিযোগে গতবছর জুলাই মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করলে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।

২০১৫ সালে ফাঁস হওয়া পানামা পেপার্সে যুক্তরাজ্যে নওয়াজ শরিফের পরিবারের বিপুল সম্পদের বিষয়টি সামনে আসে।

পরে আদালতের রায়ে দলীয় প্রধানের পদ ছাড়তেও বাধ্য হন নওয়াজ।পিএমএল-এন এর নেতৃত্বে আসেন তার ভাই শাহবাজ শরিফ।

এ বছর এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজ শরিফকে আজীবন রাষ্ট্রীয় পদে অযোগ্য ঘোষণা করলে তার ক্ষমতায় ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

লন্ডনে চারটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিকানা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে গত ৬ জুলাই পাকিস্তানের একটি আদালত নওয়াজকে ১০ বছর ও তার মেয়ে মরিয়মকে সাত বছরের কারাদ- দেয়।

অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গত কয়েক মাস ধরে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন নওয়াজ ও তার মেয়ে মরিয়ম। তাদের অনুপস্থিতিতেই আদালত ওই রায় ঘোষণা করে।

এদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারলেও দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে দ- মাথায় নিয়েই গত শুক্রবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন নওয়াজ।

যদিও বিমানবন্দরেই নওয়াজ ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এখন ইসলামাবাদের আদিয়ালা কারাগারে আছেন।

নওয়াজের দেশে ফেরা উপলক্ষে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পিএমএল-এন মিছিল করায় দলটির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পৃথক দুইটি এফআইআরে শাহবাজ শরিফসহ অন্যান্য নেতাদের আসামি করা হয়েছে।

শাহবাজের নেতৃত্বেই লাহোরে শুক্রবারের মিছিল হয়। হাজার হাজার মানুষ ওই মিছিলে অংশ নিয়েছে। যা তাদের প্রতি এখনও জনগণের আস্থা থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যদিও জনমত জরিপে পিএমএল-এন ও ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

দেশটির সেনাবাহিনী পিটিআই কে জেতাতে কাজ করছে বলেও অভিযোগ পিএমএল-এন নেতাদের।

পিএমএল-এন নেতাদের দমিয়ে রাখতে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নওয়াজ রাজনীতিতে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর পিএমএল-এন নেতা শহিদ আব্বাসি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন এবং জুনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাগ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

তার বিরুদ্ধেও সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে বলে জানায় রয়টার্স।

Share.

Leave A Reply