শহিদুল আলমের নিঃশর্ত মুক্তি চায় সিপিজে

0

এফএনএস: দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-সিপিজে। গত রোববার বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন এই সংগঠনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। শহিদুলের পরিবারের লোকজন ও সহকর্মীরা জানায়, গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাতরা ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়। গতকাল সোমবার সকালে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, শহিদুলকে ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে’। সিপিজের এশিয়াবিষয়ক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর স্টিভেন বাটলার বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই শহিদুল আলমকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের উচিত আলমসহ ঢাকার সংঘাতের খবর সংগ্রহে নিয়োজিত সব সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন তারা হামলা ও গ্রেফতার আতঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে।’

সিপিজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের সদস্য পরিচয় দিয়ে এক দল লোক বাংলাদেশি ফটোগ্রাফার এবং দৃক ও পাঠশালা মিডিয়া ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার সময় এপির ফটো সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচ সংবাদকর্মীর ওপর হামলা হয়েছে।

বিবৃতিতে শহিদুল আলমের বাসার নিরাপত্তারক্ষীদের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের সদস্য পরিচয় দিয়ে কমপক্ষে ৪০ জনের একটি দল জোর করে শহিদুলকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই দলটি ভবনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থা নষ্ট করে দিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে শহীদুল আলম ফেসবুকে বিক্ষোভের ভিডিও পোস্ট করেন ও আল জাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেন।

স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে শহিদুল আলমের গ্রেফতার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সিপিজে। নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ বাংলাদেশ (ইউএনবি) এ প্রকাশিত এক খবরের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, ফেসবুক পোস্ট নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শহিদুল আলমকে আটক করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়েছে, তার (শহিদুল আলম) আটকের খবর নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

সিপিজে জানিয়েছে, সংগঠনটির পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ডিএমপি কমিশনার ও ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চকে ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি। ডিএমপি কমিশনারের কাছে একটি ই-মেইলও করা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ই-মেইলের উত্তরও পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত কমিশনারের কাছেও ফোন করেছে সিপিজে। এক ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করে বলেছিলেন, তিনি গ্রেফতারের ব্যাপারে নিশ্চিত নন। এরপর ফোনটি কেটে যায়। ধানমন্ডি পুলিশ স্টেশনেও ফোন করে সাড়া পায়নি সিপিজে। গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে শহীদুল আলমকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ বলেছেন, ‘যারা তুলে নিয়ে গেছে তারা অফিসিয়ালি আমায় কিছু বলেননি। কোন তথ্যও দেওয়া হয়নি। আমি সত্যিকার অর্থেই জানতে চাই, তার কী অপরাধ?’

Share.

Leave A Reply