শাহবাগ ও ইস্ট ওয়েস্টের সামনে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

0

এনএনবি : রাজধানীর শাহবাগ এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে পুলিশের সঙ্গে গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।  এ ঘটনায় পুলিশ ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

শাহবাগ : রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার পর প্রায় ২০ মিনিট ধরে এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে। পুলিশের এক সদস্যকেও ইটের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে যেতে দেখা গেছে।

বাসচাপায় দুই ছাত্র-ছাত্রী নিহতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার ঢাকার জিগাতলায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। হেলমেট পড়ে ধারালো অস্ত্র হাতে একদল যুবককে সে সময় হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।

এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনভর বিক্ষোভ মিছিল কওে একদল শিক্ষার্থী। বেলা ১২টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিল শুরুর পর মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন, কার্জন হল, বুয়েট ঘুরে টিএসসি হয়ে বিকাল ৩টার দিকে তারা শাহবাগের দিকে অগ্রসর হন।

কিন্তু সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকা পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের আটকে দিলে বাকবিত-া এবং পরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়৷

পুলিশ তখন টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শিক্ষার্থীরা ঢিল ছুড়তে শুরু করে। ইটের আঘাতে এক পুলিশ আহত হলে পুলিশ জলকামান থেকে পানি ছোড়া শুরু করে। এরপর শুরু হয় পুলিশের লাঠিপেটা।

প্রায় ২০ মিনিটের এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে দুই আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যেতে দেখা যায় পুলিশকে। এরপর পুলিশ চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে টিএসসিতে চলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শতাধিক যুবক শাহবাগ মোড়ে এসে রান্তা বন্ধ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইট ছোড়ে। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।”

বিক্ষোভকারীদের ইটের আঘাতে ইমানুল নাম নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান মারুফ।

দুই শিক্ষার্থীকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “যাচাই বাছাই করে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হব।”

ইস্ট ওয়েস্টের সামনে : নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার রামপুরা ও আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে।

গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে এই সংঘর্ষের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন একজন সংবাদকর্মী। ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের সরাতে টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে মেরুল বাড্ডার দিক থেকে একদল যুবক লাঠি নিয়ে তাদের ধাওয়া দেয়

এক পর্যায়ে ওই যুবকরা রান্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং সাধারণ পথচারীদের ওপর চড়াও হয়।

এক পর্যায়ে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও এপিবিএন সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নেন। তারা শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বললে তারা না গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে টায়ার জ্বালিয়ে দেয়।

পরে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়লে শিক্ষার্থীরা ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভেতরে চলে যায়। লাঠি হাতে রান্তায় অবস্থান নেওয়া যুবকরা তখনও ইউনিভার্সিটির দিকে ঢিল ছুড়ছিল।

এ সময় সেখানে দায়িত্বরত প্রথম আলোর প্রতিবেদক নাসরিন আক্তার সুমির ওপর চড়াও হয় একদল যুবক। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় তারা।

পরে তাকে বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে ফোনের সব তথ্য পুলিশ মুছে ফেলে বলে অভিযোগ করেন সুমি।

Share.

Leave A Reply