আটঘরিয়া বাজার মোড়ে অবৈধ সিএনজি স্টেশন ছাত্র ছাত্রীসহ সাধারন মানুষ দূর্ভোগের শিকার

0

আটঘরিয়া প্রতিনিধি : আটঘরিয়া বাজার ত্রি-রাস্তা মোড়ের ওপর অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি স্টেশন । এতে ব্যাপক যানযটের সৃষ্টির কারনে ছাত্র/ছাত্রী ও পথচারীরা চরম দূভোর্গের স্বীকার হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনে বহাল তবিয়তে গড়ে উঠা এই সিএনজি স্টেশন যেন মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,আটঘরিয়া বাজার ত্রি-রাস্তা মোড়ে দীর্ঘ দিন ধরে সিএনজির মালিক ও চালকরা অবৈধ ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গড়ে তুলেছে সিএনজি স্টেশন। এতে দূগটনার কবলে পড়তে হচ্ছে পথচারি ছাত্র-ছাত্রীর ও চালকদের। এই সিএনজির স্টেশন গড়ে তোলার কারনে অনেক সময় দেখা যায় বাসের ড্রাইভার হেলপার,সিএনজি চালক ও অটোরিকসা চালকদের সাথে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ফলে পাবনা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক আটঘরিয়া বাজারে এসে পৌছা মাত্রই এই সিএনজি স্টেশনের কারনে ব্যাপক যানযটের সৃষ্টি হয় এবং তারাও এই যানযটের স্বীকার হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তির স্বীকার পোহাতে   হচ্ছে যাত্রীদের। সময় মত রাস্তা পারা পার করতে পারি না এখানকার স্কুল, কলেজ এর ছাত্র/ছাত্রীরা। অনেক সময় তাড়াহুড়া করে রাস্তা পাড় হতে গেলে তারা দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। আটঘরিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেলাল খানের সাথে এবিষয়ে আলাপকালে জানা গেছে,বর্তমান এই মোড়ে ব্যাপক যানযট লেগে থাকে। অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা এই যানযটের কবলে পড়ে সময় মতো পরীক্ষা দিতে দেরিতে আসে। তবে আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে সব সময় আমরা আতংকের মধ্যে থাকি। এই বাজারে ত্রি-রাস্তা মোড়ে সিএনজি ষ্টেশন থাকায় এতোই যানযট লেগে থাকে যার কারনে আমাদের ছেলে মেয়েরা রাস্তা পার না। তবে এই বাজারে সিএনজি ষ্টেশন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলেমনে করেন তিনি।

আটঘরিয়া উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল হক জানান, সিএনজি স্টেশন অবৈধ ভাবে গড়ে উঠায় যানযট নিত্য দিনের সঙ্গি হয়ে পড়েছে। প্রশাসন একটু নজর দিলে এই বাজার ত্রি-রাস্তা মোড়ে  যানযট নিরসন করা সম্ভাব। প্রশাসন পারেনা এমন কোন কাজ নেই। আটঘরিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বলেন,ত্রি-রাস্তা মোড়ের উপর দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় কিছু লোকজনের সহায়তায় এই মোড় দখল করে রেখে সিএনজি ষ্টেশন গড়ে হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। বিষয়টি  কর্র্তৃপক্ষের দেখা অতি জরুরী বলে মনে করছেন ভূক্তভোগীরা। শুধু তাই নয়, উপজেলা সদর ও আটঘরিয়া পৌরসভাসহ বিভিন্ন রাস্তায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, ভটভটি নছিমন, ও অটোরিকসা চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশের বৈধ কাগজপত্র সহ চালকের লাইসেন্স নেই। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও লাইসেন্স বিহীন চালকদের কারণে যানযটের সৃষ্টি ও অহরহ দূর্ঘটনা ঘটছে। আইন প্রয়োগকারি সংস্থার নজরদারি না থাকায় এর প্রবনতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা যায়,আটঘরিয়া উপজেলা সদর দেবোত্তর, কয়রাবাড়ী, একদন্ত, শিবপুর, দেবোত্তর সড়াবাড়িয়া, খিদিরপুর, পারখিদিরপুর, চাঁদভাসহ বিভিন্ন রাস্তায় প্রায় কয়েক হাজার সিএনজি,ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা, ইজিবাইক,ভটভটি ও অটোটেম্পু চলাচল করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে,এসব যানবাহনের অধিকাংশের চালক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এছাড়া অধিকাংশ যানবাহনের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। সমিতি দেওয়া যানবহনের মালিকানা ও চালকের পরিচয় পত্র সংক্রান্ত কাগজ দিয়ে চালানা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন এলোপাথীবাবে চলাচল করার ফলে একদিকে যেমন রাস্তায় যাটজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তেমনি প্রায় দিনই দূর্ঘটনায় অকালে অনেক যাত্রীকে প্রাণ দিতে হচ্ছে। আবার অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে। যাত্রীদের অনেকটা বাধা হয়েই যানবাহনে চলাচল করতে হয়। পুলিশ মাঝে মধ্যে কিছু যানবাহনের তল্লাশি করলেও একই কায়দায় আবারো চলাচল শুরু করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেখভাল করা দরকার বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Share.

Leave A Reply