নাইজেরিয়ায় আকস্মিক পার্লামেন্ট দখল, গোয়েন্দা প্রধান বরখাস্তের পর গ্রেফতার

0

এফএনএস ডেস্ক: নাইজেরিয়ায় আকস্মিকভাবে পার্লামেন্ট দখল করে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য। মুখোশ পরিহিত এসব সদস্য আইনপ্রণেতা ছাড়া কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়নি। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর এই দখলকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়েমি ওসিনবাজো তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেন ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট সার্ভিসের প্রধান লাওয়াল মুসা দাউরাকে। বরখাস্তের পরই তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি ছুটিতে লন্ডনে থাকা অবস্থায় এই ঘটনা ঘটলো।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বুহারি এখন লন্ডনে ছুটি কাটাচ্ছেন। এরইমধ্যে গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানী আবুজারে পার্লামেন্ট ভবনের দুটি কক্ষের সামনেই মুখোশ পরে অবস্থান নেয় পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট সার্ভিসের সদস্যরা। তারা সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ-এর সামনে অবস্থান নিয়ে আইনপ্রণেতা, কর্মচারী, সাংবাদিক ও অন্য দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, মুখোশ পরা ব্যক্তিরা আইনপ্রণেতাদের ভিতরে ঢুকতে দিলেও সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়নি। ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরই ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়েমি ওসিনবাজো ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট সার্ভিসের প্রধান লাওয়াল মুসা দাউরাকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ বরখাস্ত করেন। তিনি বলেন, পার্লামেন্টের ‘অননুমোদিত এই কর্তৃত্ব গ্রহণ’  আইনের শাসন ও সাংবিধানিক নীতির ভয়ঙ্কর লঙ্ঘন। বরখাস্ত করার পরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। খবরে বলা হয়, পার্লামেন্ট দখল করার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা বিপদে ফেলার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পার্লামেন্টে এভাবে সশস্ত্র ও মুখো পরিহিত হামলার ঘটনায় বিরোধী দলগুলো চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত আনার অভিযোগ করছেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ফেডারেশনের মহাসচিব ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ কয়েকজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেন।

আল জাজিরা বলছে, স্বাধীন সূত্রগুলোর ধারণা মঙ্গলবারের এই পদক্ষেপ আগামি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টারি নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সংকটে শক্তির প্রদর্শন। বুহারির অনুগত অল প্রোগ্রেসিভস কংগ্রেসের (এপিসি) দলগুলোর আইনপ্রণেতারা মনে করছেন, সিনেট প্রেসিডেন্ট বুকোলা সারাকিকে উৎখাতের জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। সাকারি দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ মর্যাদার রাজনীতিক। তিনি গত সপ্তাহে এপিসি ছেড়ে প্রধান বিরোধী দল পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-পিডিপি’তে যোগ দেন। এরপর এপিসি তাকে পদত্যাগ করতে বলেন। তাদের ধারণা সাকারি এমন কোনও ষড়যন্ত্র করছেন যাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় আর বুহারি পুনরায় নির্বাচন করতে না পারেন। বুহারি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।  তবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পদত্যাগ ও দলের মধ্যে বিভাজনের কারণে এই নির্বাচনে তাকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

Share.

Leave A Reply