মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী নিগ্রহ সরকারের পদক্ষেপ জরুরি

0

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী নারী গৃহকর্মীর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা। সৌদি আরবে এটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুধু সৌদি আরব নয়, আরব আমিরাত, জর্ডান থেকেও একইভাবে নারীকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিমাসে ২শ থেকে ৩শ নারীকর্মী দেশে ফিরে আসছেন। তাদের অনেকেই ফিরে যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করছেন। ফেরত আসার আগে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে পালিয়ে বা বিতাড়িত হয়ে তাদের প্রত্যেকেই আশ্রয় নিয়েছেন সেফহোমে। পাসপোর্টও ছিল না অনেকেরই। দূতাবাস থেকে দেয়া ট্রাভেল আউটপাসে এসেছেন দেশে। এমন খবর প্রতিদিন কোনো না কোনো গণমাধ্যমে উঠে আসছে। আমরা এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন।

পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনৈতিক মুক্তির উদ্দেশ্যে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীকর্মী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩১ জন। নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশের এমন একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য দেশের জন্য বিশাল শ্রমবাজার। কিন্তু সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে দালালচক্রের মাধ্যমে নারীদের সেখানে পাঠানোর কারণে তারা নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরছেন। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। সৌদি ফেরত নারীকর্মীরা বলছেন, হাতেগোনা কিছু বাড়ির কর্মী ছাড়া অধিকাংশ নারীকর্মীই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে আসছেন, আবার অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ পুরনো ও সর্বজনবিদিত এবং এ পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে নারী শ্রমিক পাঠানো স্থগিত রেখেছে। এরপরও বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী পাঠানো শুরু করে। প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, ২০১৫ সালে শ্রমিক পাঠানোর চুক্তিতে নানা ধরনের দুর্বলতা রয়েছে যার খেসারত দিতে হচ্ছে নারী শ্রমিকদের। আইনি সুরক্ষা না থাকায় কম বেতন কিংবা বিনা বেতনে কাজ করা, কাজের সময়ের কোনো পরিসীমা না থাকা, ছুটি না থাকা, শারীরিক-মানসিক নির্যাতনসহ সব ধরনের নিপীড়নের ঝুঁকি থাকে নারী গৃহকর্মীদের। গৃহকর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের। কিন্তু এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ফেরত আসা নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করছি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার ব্যবস্থা রাখা, প্রয়োজনে আইনি সংস্কারের তাগিদ দেয়া, নির্যাতিতদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।

 

Share.

Leave A Reply