চান্দাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেহাল দশা ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

0

মাসুদ রানা : আটঘরিয়া উপজেলার চান্দাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বিশাল আকারে একটি বড়বিল। যা বর্ষা মৌসুমে এই বিলের চারিদিকে পানি থৈ থৈ করে। এতে করে যে কোনো সময় শিশু শিক্ষার্থীদের ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো ঘটনা। বিদ্যালয়টি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও স্বাধীনতার পর পর যাতাযাতের তমন কোনো রাস্তাঘাট ছিল না। শিক্ষক শ্রেণীকক্ষ,বিশুদ্ধ পানি ও খেলার মাঠের অভাবে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সরজমিনে দেখা যায়,একদন্ত ইউনিয়নের ১৯৪৮ সালে ১.২৬ শতাংশের জমি নিয়ে চান্দাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৩ শ ৫০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। একতলা ভবন রয়েছে। শ্রেণী কক্ষ মারাত্মক সংকট থাকায় গাদাগাদি করে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার কার্যক্রম। যাতে করে গরম কালে শিশু শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের ৮টি পদ থাকলেও শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৪ জন। এছাড়াও শিক্ষক সংকট থাকায় মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া। অন্যদিকে হিন্দু শিক্ষক না থাকায় হিন্দু বিষয়ে ক্লাশ নিচ্ছে মুসলমান শিক্ষকরা। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি বোধ করে। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থী শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে আসলেও বিদ্যালয়টি প্রতি কর্তৃপক্ষের সু-নজর পরছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান,শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণী কক্ষ কম ও বিষয় ভিত্তি শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি বর্তমান সভাপতি আমিরুল ইসলাম জানান,আটঘরিয়া উপজেলার মধ্যে এই গ্রামটি অবহেলিত। যোগাযোগের সড়ক ছিল না এর আগে। শিক্ষক সংকট ব্যাপক আকার ধারন করেছে এই বিদ্যালয়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে বিদ্যালয়টি। আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয় গুলো সমাধানের সু-দৃষ্টি রাখবেন। চান্দ্রাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদা বেগম (ভারপ্রাপ্ত) জানান,বিদ্যালয়ের সব কয়েকটি কক্ষ প্লাষ্টার ভেঙ্গে লোহার রড রেব হয়ে গেছে। এমনকি যে কোনো মুহুতই বড় ধরনের দূর্ঘটনার ঘটতে পারে বলে তিনি আতংকের মধ্যে থাকেন ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে। এমনকি অভিভাবদের ও থাকতে হয় দু:শ্চিন্তার মধ্যে। তিনি আরও জানান,এখানে মোট ৮জন শিক্ষকের দরকার। কিন্তু শিক্ষক আছে ৪জন। চার জন শিক্ষক নেই। তাতে ছাত্র ছাত্রীদের লেখা পড়ার নিয়ে আমরা চারজন শিক্ষক চরম চাপের মধ্যে থাকতে হয়।

পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র সাজ্জাত,হাফিজুল জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের বিদ্যালয়ের ছাঁদের প¬াস্টার ধরে  রড বের হয়ে গেছে। যে কোনো মুহুতে আমাদের মাথার উপর ছাঁদ ধ্বসে পড়ার আশংকা রয়েছে। তাই আমরা সব সময় আতংকের মধ্যে থাকে পড়া লেখা করি। একই ক্লাশের তাহমিনা ও জুঁই জানান,স্যারেরা আমাগো  নিয়ে অনেক সময় নেটশনের মধ্যে থাকেন। ক্লাশরুমে জানালা নেই,সিট বেঞ্চের অভাবে অনেক সময় আমাগো ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়। আমাগো বড় স্যাররা কি এই ভাঙ্গা ঘরটি সারবো না। আমরা কি লেহা পড়া করুম না। স্যারগো ছেলে মেয়েরা যদি আমগো মতো স্কুলে পড়া লেহা করতো বড় স্যাররা ঠিকগোই ঢাকার স্যারগো কাছে আমাগো স্কুলের কথা নিয়ে যাইত। দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র নাইদ আলী,স্বাধীন,আফসানা ও সাবিনা জানান,আমাগো কপাল ঠাসা। আমরা এমন একটা স্কুলে পড়ালেহা শিখতাছি যে হানে পড়ালেহার ঘরের কোনো দরজা জাংলা কিছুই নাই। আবার দেহা যার আমাগো ঘরের চালের প্লাষ্টার খসে আমাগো মাথার উপর পড়ে। স্কুলে স্যার কম তাই পেড়া লেহা ভালো হয় না । দুইটি পড়ার রুম ভেঙ্গে পড়ার ভয়ে স্যাররা অনেক আগেই চাবি দিয়ে বন্ধ করে রাখছে।

Share.

Leave A Reply