দুই যুগ পর নৌকাবাইচ দেখতে হাজারো মানুষের ঢল ঈশ্বরদীতে

0

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ দুই যুগ পর ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শনিবার নৌকা বাইচ দেখতে ঈশ্বরদী, ভেড়ামাড়া, লালপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে নানা বয়সী হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে নদীর দুই পাশে। নৌকা বাইচের নাম দেয়া দেয় ‘গণ আনন্দ নৌকা বাইচ’।

ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে শনিবার বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম যুগে নবাব বাদশারা নৌকা বাইচের আয়োজন করতেন। অনেক নবাব বাদশাদের নৌ বাহিনী দিয়ে নৌকা বাইচ উৎসবের গোড়া পত্তন হয়। বাংলার বারো ভূইয়ারা নৌবলে বলিয়ান হয়ে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ছিলেন। জলদস্যুদের দমন করতে নৌ শক্তি ব্যবহৃত হতো। তাই নৌকা বঙ্গবন্ধুর প্রতিক, নৌকা উন্নয়নের প্রতিক।

লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পাবনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহেদ পারভেজ, ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল মামুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়ের হোসেন।

অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস, আমেরিকা প্রবাসী সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সাব্বির আহমেদ, পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহ্জেবিন শিরিন পিয়া, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস, সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বকুল সরদার ও ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রতিযোগিতায় ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের সোনার বাংলা, সোনার তরী, মায়ের দোয়া পঙ্খীরাজ, ময়ুরপঙ্খী, বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেস ফাইটার, দাদাপুর একাদশ ও আল্লার দান বাইচ দল অংশগ্রহন করে। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথে এ প্রতিযোগিতায় তিনটি রাউন্ডে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের তুফানের ঘাট থেকে শুরু হয়ে কাচারীবাড়ী সামনে বাইচ শেষ হয়।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় লক্ষèীকুন্ডার চরকুড়লিয়া গ্রামের ইউনুছ আলীর বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেস ফাইটার প্রথম স্থান অধিকার করে পান ৫৫ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন। দাদাপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ মাঝির সোনার তরী দ্বিতীয় স্থান অধিকার পান একটি ফ্রিজ এবং দাদাপুর গ্রামের নান্টু মাঝির সোনার বাংলা তৃতীয় স্থান অধিকার পান একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৮টি নৌকা দলের প্রত্যেককে সম্মানী পুরষ্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। এদিকে, গ্রামবাংলার বিলুপ্তপ্রায় এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর  নৌকাবাইচ আয়োজনের দাবি স্থানীয়দের।

Share.

Leave A Reply