নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার সুর্বনা নদী তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে হত্যাকান্ডে জড়িত মুখোশধারী অনেকের চেহারা

0

বিশেষ প্রতিনিধি :  আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের প্রত্যান্ত অঞ্চল একদন্ত গ্রামের হতদরিদ্র কৃষি শ্রমিক পরিবারের মেয়ে সম্পা থেকে জেলা শহর পাবনার সাংবাদিক সুবর্না নদী। একান্ত দরিদ্র পরিবার থেকে নিজ প্রচেষ্টায় পাবনার দিলালপুরের সম্ভ্রান্ত এলাকায় মাসিক ১২ হাজার টাকায় আধুনিক সুসজ্জিত ফ্লাট নিয়ে বসবাস শুরু হয় সাংবাদিক সুর্বনা নদীর। দরিদ্র কৃষক পিতা আইয়ুব আলী মাতা মর্জিনা বেগম এর ২য় কন্যা সম্পা ওরফে সুবর্ন্ াআখতার ওরফে  নদী আখতার ওরফে মোছাঃ সুবর্না আখতার নদী। শিক্ষা জীবনের শুরু একদন্ত প্রথমিক বিদ্যালয় থেকে। শিক্ষা জীবনের শেষ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। যতটুকু যানা যায় পাবনায় সুবর্না নদীর কর্ম জীবনের শুরু রাস্তায় চুরি মালা বিক্রির মধ্য দিয়ে পরবর্তিতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বড় বোন চম্পার সঙ্গে বহিরাগত রুগিদের দালালি, ট্রলি ঠেলে রুগীদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পৌছে দিয়ে বকশিষ বা দালালি আদায়, নৈশ প্রহরীর কাজ করার মধ্যে সীমিত ছিল । বড় বোন চম্পা বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে একই কাজে নিয়জিত থাকলেও পেশার পরিবর্তন ঘঠেছিল সম্পা ওরফে সুবর্না নদীর। ইদানিং কালে বিভিন্ন বই এর দোকান থেকে বই সংগ্রহ করে পাবনা একুশে বই মেলায় নিজ নামে বুক স্টল দিয়ে বই বিক্রি করতে দেখা গেছে। মাতা মর্জিনা বেগম পাবনায় বাসা বাড়িতে বুয়ার কাজে বর্তমানে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানা গেছে। যিনি সুবর্না নদীর দিলালপুরের ফ্লাটে থেকেই তার কর্ম জীবন পরিচালনা করছেন। তার এই মাতা বাদী হয়ে সুর্বনা নদীর খুনের মামলা দায়ের করেছেন বলে পুলিশসুত্রে জানা যায়। সুবর্না নদী নৃশংস ভাবে খুন হওয়ার আনুমানিক এক বছর পূর্ব থেকে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে ভিন্ন কর্ম জীবনে প্রবেশ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকার পরিচয় পত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে জাগ্রত বাংলা নামে একটি অন লাইন নিউজ পোর্টাল তৈরী করে সুবর্না নদী এবং আনন্দ টি ভি নামে একটি অন লাইন টিভির প্রাথমিক রিপোর্টার হিসাবে নিজের পরিচয় দিতে থাকা অবস্থায় গত ২৮ আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধার পর আনুমানিক রাত্রি আটটার দিকে মুখোশধারী  আততায়ির ছুরিকাঘাতে নিজ বাড়িতে নৃশংস ভাবে খুন হয় সাংবাদিক সুবর্না নদী। তার কর্ম জীবনের এই সংক্ষিপ্ত ইতিহসের মধ্যে হতবাক করা নানা কাহিনি সামনে এসেছে। যে কাহিনির সিড়ি বেয়ে এত অল্প সময়ের ব্যাবধানে গ্রামের দরিদ্র জীবন থেকে বিলাস বহুল আধুনিক জীবনের দোরগোড়ায় পৌছে যায় সুবর্না নদী। আয়ের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিস্ট কোন তথ্য জানা না গেলেও পাবনা শহরের প্রানকেন্দ্র আব্দুল হামিদ রোড সংলগ্ন প্রেসক্লাব সড়ক (নতুন সড়ক) এ অবস্থিত রানা টাওয়ারের ৪র্থ তলায় আধুনিক ভাবে সজ্জিত নিজস্ব অফিস প্রতিষ্ঠা  করতে সমর্থ হয় সাংবাদিক সুবর্না নদী। অফিসে অন্য কোন কর্মচারী না থাকলেও দুই সেট কম্পোউটার সহ আধুনিক ডেকোরেশন চোখে পড়ার মত। পাবনা শহরে সুবর্না নদীর চলাফেরা অনেকের মনে নানা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছিল। সন্ধ্যার পরে নিত্য নতুন বিভিন্ন বয়সের মানুষের মটর সাইকেলের পিছনে চড়ে সুর্বনা নদীর ঘুরে বেড়ান, শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে চেনা অচেনা পুরুষদের সঙ্গে আড্ডা রত অবস্থায় প্রায়শই দেখা যেত সুবর্না নদীকে। নৃশংস ভাবে খুন হওয়ার সময় নদী রেখে যায় তার বার বৎসরের এক কন্যা সন্তান । বৈবাহিক জীবন সম্পর্কে যতদুর জানা যায় পাবনার শিল্পপতি আবুল হোসেনের ছেলে রাজিব নদীর ছয় নম্বর স্বামী। যে বিবাহ সংগঠিত হয় পাবনা জেলার ঈশ^রদীর কোন এক জায়গায়। কাবিন নামার বর্ননামতে তাকে একজন তালাক প্রাপ্ত মহিলা হিসাবে দেখান হয়েছে যেখানে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মোছাঃ সুবর্না আখতার নদী। ২০১৬ সালের ৬ জুন সম্পাদিত কাবিননামায় ৫,০০,০০০/- টাকা দেনমহর ধার্য্য করে এক হাজর টাকা ওয়াসিল দেখান হয়। কাবিন নামায় জনৈক মোবারক নামে কোন এক ব্যাক্তিকে সাক্ষী এবং একই ব্যাক্তিকে উকিল হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ের পরপরই ছেলের পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো হয় যে সংক্রান্ত মামলা পাবনা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। এই শেষ বিয়ের পুর্বে ৫/৩/২০১৫ তারিখে ধানমন্ডিতে এবং ২৪/০১/২০১৪ তারিখে রংপুরের পীরগঞ্জে আরো দুইটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সুবর্না নদী। এ দুইটি বিবাহের কাবিন নামায় কন্যাকে কুমারী উল্লেখ করে দেনমহর ধার্য্য করা হয় যথাক্রমে ৪,০০,০০০/- এবং ৩,০০,০০০/- লক্ষ টাকা। তিনটি কাবিন নামার বর্ণনায় পিতা মাতার নাম একই থাকলেও কণ্যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে যথাক্রেমে মোছাঃ সুর্বনা আখতার, মোছাঃ নদী আখতার এবং মোছাঃ সুবর্না আকতার নদী হিসাবে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় গরিব পিতার কণ্যা হিসাবে স্কুলে লেখা পড়া করা অবস্থায় অপ্রাপ্ত বয়সে ২০০৫ সনে প্রথম বিয়ে হয় সম্পা ওরফে নদীর, জীবন নামে এক চায়ের দোকানদারের সাথে। যে কারনে পরবর্তিতে আর লেখা পড়া হয় নাই নদীর। জীবন বর্তমানে পাবনা ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় চায়ের দোকানদার। যার সঙ্গে নদীর যৌতুকের মামলা চালু আছে।  প্রথম বৈবাহিক জীবনের প্রথম কন্যা সন্তান এর বয়স বর্তমানে বার বৎসর বলে জানানো হয়েছে। লোক মুখে শোনা যায় উল্লেখিত এ চারটি বিয়ে বাদেও নদী আরও বেশ কিছু বিয়ের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছে এবং প্রত্যেকটি বিয়ে একটি পর্যায়ে টাকা পয়সা লেনদেনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। পুলিশ সুত্রে জানা যায় এই নৃশংস হত্যাকান্ডের তদন্তের সময় নদীর অফিস বাসা থেকে পাওয়া গেছে বিভিন্ন ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানের পাঁচ লাখ থেকে দশ লাখ টাকার ১০ টি চেক। উল্লেখযোগ্য কোন ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও নদীকে বড় বড় অংকের চেক দিতে হয়েছিল কেন এসব ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ? তাদের কি প্রয়োজনে নদীকে এত টাকার চেক দিতে হয়েছে ? পুলিশ তদন্তকালে দেখা গেছে তার ফ্লাটে উচ্চমুল্যের আসবাবপত্র। জনমনে প্রশ্ন উঠছে একজন দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা নদীর এসব অর্থের উৎস কোথায়। জানা যায় শেষ স্বামী ছাড়াও নদী মামলা পরিচালনা করছিল পুর্বের স্বামীদের বিরুদ্ধে। হত্যার সময় নদীর শেষ স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা ছাড়াও অন্য সাবেক স্বামীদের বিরুদ্ধে মামলা  চালু ছিল। সর্বশেষ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার আসামী স্বামী রাজিব তার পিতা আবুল হেসেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তড়িৎ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মামলার প্রধান অসামি আবুল হেসেনকে। তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিবি পুলিশ সুত্রে বলা হয়েছে মামলার ১ নং আসামী রাজিবকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এই সাড়া জাগানো হত্যাকান্ড সম্পর্কে আরও অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তদন্তের সার্থে এখনই সব কিছু বলার সময় আসে নাই, তবে এটুকু বলা যায় নদী হত্যা রহস্যের নতুন এবং গুরুত্বপুর্ন তথ্য পাওয়া গেছে যা সময় মত প্রকাশ করা হবে।  পাবনার সাধ্রাণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকান্ডটির সঠিক তথ্য কি সামনে আসবে ? পর্দার আড়াল থেকে কি সামনে আসবে প্রকৃত খুনিদের পরিচয় ?

Share.

Leave A Reply