কান্নাভেজা বিদায় দীর্ঘদিনের যোদ্ধা রাজিনের

0

এফএনএস স্পোর্টস: উৎসবের প্রহরেই এল বিদায়ের লগ্ন। সিলেটের টেস্ট অভিষেকের নানা আয়োজনের মধ্যেই ক্যারিয়ার শেষের ঘোষণা দিলেন সিলেটের সন্তান রাজিন সালেহ আলম। দেশের ক্রিকেটে অনেক পালাবদলের সাক্ষী, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের সবচেয়ে পুরোনো ক্রিকেটারদের একজন থামিয়ে দিচ্ছেন পথচলা। আবেগময় কণ্ঠে জানালেন, এবার জাতীয় লিগের শেষ ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারেও শেষ ম্যাচ।

এ দিন রাজিনের মাঠে থাকা ছিল সিলেট ক্রিকেটের স্মরণীয় দিনটির সৌজন্যেই। অভিষেক টেস্ট উপলক্ষে সিলেটের টেস্ট ক্রিকেটারদের বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। হাসিবুল হোসেন, এনামুল হক জুনিয়রদের সঙ্গে রাজিনও এসেছিলেন সেই আয়োজনের অংশ হতে। এর ফাঁকে প্রেসবক্সে এসে জানিয়ে দিলেন ইতি টানার ঘোষণা।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পদচারণা যখন সবে শুরু, সেই সময়ই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন রাজিন। দেড় যুগের পথচলা থামছে সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় লিগের শেষ ম্যাচে। ৩৫ ছুঁইছুঁই ব্যাটসম্যান কক্সবাজারে সিলেটের হয়ে নামবেন ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে।

২০০০ সালের ২২ নভেম্বর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল রাজিনের। তার অবসরের পর প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ক্রিকেটার হয়ে থাকবেন একই দিন অভিষিক্ত মোহাম্মদ আশরাফুল ও তুষার ইমরান।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শুরুর আগেই রাজিন স্বাদ পেয়েছিলেন টেস্ট ক্রিকেটের। উঠতি প্রতিভা হিসেবে দারুণ সাড়া জাগিয়েছিলেন সেই সময়। জায়গা পেয়েছিলেন ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের স্কোয়াডে। একাদশে যদিও জায়গা হয়নি। তবে দারুণ ফিল্ডিং সামর্থ্যরে কারণে তাকেই করা হয়েছিল দ্বাদশ ব্যক্তি। বদলি ফিল্ডার হিসেবে দীর্ঘসময় মাঠে থেকে নজর কেড়েছিলেন দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও মাঠে প্রাণবন্ত উপস্থিতি দিয়ে। ক্যাচ নিয়েছিলেন শচিন টেন্ডুলকার ও মুরালি কার্তিকের।

টেস্ট অভিষেক হয় ২০০৩ সালে, করাচিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রায় ৫ ঘণ্টা উইকেটে কাটিয়ে করেছিলেন ৬০ রান। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা, হার না মানা মানসিকতা, দারুণ টেম্পারামেন্টের জন্য পরিচিতি ছিল ক্যারিয়ারজুড়েই। সেই যুগেও ফিটনেস ছিল দুর্দান্ত, ফিল্ডিং অসাধারণ।

ওই সফরেই অভিষেক হয় ওয়ানডেতে। একসময় তাকে দেওয়া হয় সহ-অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার চোটে ছিটকে যাওয়ায় ইংল্যান্ডে ২০০৪ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন রাজিনই। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে হাবিবুল বাশারের সঙ্গে তার গড়া ১৭৫ রানের জুটি এখনও চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি। ওই ম্যাচেই পেয়েছিলেন একমাত্র আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির স্বাদ।

সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার অবশ্য পূর্ণতা পায়নি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেমে গেছে ২৪ টেস্ট ও ৪৩ ওয়ানডেতে। ২০০৮ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ছিল দেশের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।

লড়াই চালিয়ে গেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। একসময় জাতীয় দলের আশা ফিকে হতে হতে শেষই হয়ে গেছে। তবু নিষ্ঠা আর নিবেদন দিয়ে খেলে গেছেন ঘরোয়াতে। জাতীয় লিগে সিলেট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘদিন। দলটির একরকম প্রতীকই হয়ে উঠেছিলেন তিনি। গত জাতীয় লিগের শেষ ম্যাচেও করেছিলেন সেঞ্চুরি। এবারও ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ৬০, ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছেন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ার যথেষ্টই সমৃদ্ধ। শেষ ম্যাচের আগে ১৪৭ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৮ হাজার ৩২৭। সেঞ্চুরি ১৮টি, হাফ সেঞ্চুরি ৪২টি।

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের সময় প্রেসবক্সে বিদায়ের ছোট্ট কথামালায়ও ধরে এলো রাজিনের গলা। কান্নাভেজা কণ্ঠে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন ক্যারিয়ারজুড়ে তার পাশে দাঁড়ানো সবাইকে।

Share.

Leave A Reply