খাশোগিকে মদিনায় কবর দিতে চায় পরিবার, মৃতদেহ ফিরে পাওয়ার আর্তি

0

এফএনএস ডেস্ক: নিহত সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির মৃতদেহ ফেরত চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার সন্তানেরা। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাশোগির দুই ছেলে বলেছেন, তারা বাবাকে কবর দিতে সৌদি আরবে ফিরতে চান। বাবাকে মদিনায় সমাহিত করতে চান তারা।

২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। কনস্যুলেট ভবনে তার হত্যাকা- সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কিংবা অন্য কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে আসছে দেশটি। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি মানছে না তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। ইউরোপীয় দেশগুলো রিয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার,জার্মানি তাদের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চাপের মুখে পড়েছেন তার সৌদি সখ্য নিয়ে। দেশের ভেতরে কেবল বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির নয়,নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরেও সমালোচিত হওয়ার একপর্যায়ে তিনি এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছেন। একই পথ অবলম্বন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। খাশোগি নিহত হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার মরদেহের হদিস এখনও মেলেনি। বাবাকে যথাযথভাবে দাফন করতে পারাটাই এখন সন্তানদের চাওয়া। রোববার সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাশোগির দুই ছেলে সালাহ ও আব্দুল্লাহ নিজেদের সে ইচ্ছার কথাই ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী সালাহ বলেন, ‘এটা কোনও স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়, কোনভাবেই এটা স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এই মুহূর্তে আমরা যেটা চাই, তাহলো তাকে মদিনার আল-বাকি কবরস্থানে পরিবারের অন্য মৃত সদস্যদের কবরের পাশে সমাহিত করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আশা করছি তারা শিগগিরই বাবার লাশ ফেরত দেবে।’ খাশোগির অপর ছেলে ৩৩ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ পিতার নির্মম মৃত্যুর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি সত্যি আশা করছি তিনি কষ্ট পেয়ে মারা যাননি অথবা তাকে দ্রুতই হত্যা করা হয়েছে অথবা শান্তিপূর্ণভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।’ বাবা খাশোগিকে ‘নির্ভীক, উদার ও অত্যন্ত সাহসী বলে উল্লেখ করেন তার দুই ছেলে। বড় ছেলে সালাহ সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। কাজ করেন জেদ্দার একটি ব্যাংকে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তিনি। শিগগিরই জেদ্দাতে ফেরার আশা আছে তার। আর খাশোগির ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সর্বশেষ বাবাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন আব্দুল্লাহ খাশোগি। তিনি জানান, বাবা তুরস্কে যাবেন শুনে তার সঙ্গে দেখা করতে তিনিও সেখানে গিয়েছিলেন। জামাল খাশোগি এবং তার বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিসের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের দুজনকে খুশি দেখাচ্ছিলো। বাবা খুশি ছিলেন। বাবার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর তা ভার্জিনিয়ার অ্যাপার্টমেনেট যান আব্দুল্লাহ। তিনি জানান সেখানে গিয়ে দেখতে পান ঘরের দেয়ালে তার পরিবারের একটি ছবি ঝুলছে। জামাল খাশোগি তার নাতি নাতনিদের সঙ্গে ছবিটি তুলেছিলেন আর তা ঘরে বাঁধাই করে রেখেছিলেন। আব্দুল্লাহ জানান, ওই ছবি দেখে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, তার বাবা পরিবারকে কতটা ভালোবাসতেন।

সালাহ জানান, তিনি অপেক্ষায় আছেন কখন তদন্ত শেষ হবে এবং সত্য বেরিয়ে আসবে তার জন্য। তিনি বলেন, ‘বাদশাহ জোরালোভাবে বলেছেন যে যারা দায়ী তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আমার তাতে আস্থা আছে। এটা হবে। তা না হলে সৌদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করতো না।’ বাদশাহ’র ওপর আস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর দেন সালাহ।

Share.

Leave A Reply