রেলওয়ের জমি বেহাত হয়ে যাচ্ছে ভাঙ্গুড়ায়

0

মাসুদ রানা : ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রেল লাইনের দু’ধারে রয়েছে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি। এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল শর্ত সাপেক্ষে এসব জমি ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছেন। দখলকারীদের অনেকেই এরই মধ্যে এসব জমিতে অবৈধভাবে বহুতল ভবনের ভিত দিয়ে দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন। কেউ আবার একতলা ভবন নির্মাণ শেষ করে সুবিধামতো সময়ে দোতালার কাজ শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছেন। এদের নির্মাণ কাজ দেখে এখন অন্যরাও তাদের দখলকৃত ফেলে রাখা জমিতে রাতারাতি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। এদিকে দ্রুতগতিতে এসব ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চললেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ভাঙ্গুড়া পৌর শহরে রেলের শত কোটি টাকা মূল্যের জমি দিনদিন বেহাত হয়ে যাচ্ছে। অথচ, সুষ্ঠু তত্ত্বাবধায়নের মাধ্যমে রেলের এসব জমি থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে বলে অভিমত তাদের। সরেজমিন দেখা যায়, পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজারের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত রেলের পরিত্যক্ত হাফ কিলোমিটার লাইনের দু’ধার এবং বড়াল সেতুর পূর্বপাড় ও এর আশেপাশের শরৎনগর বাজার এলাকায় প্রধান প্রধান সড়কের দু’ধারের জমিতে দখলকারীরা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে কয়েক যুগ ধরে দখল করে রেখেছেন। এরইমধ্যে প্রভাবশালীদের অনেকেই অস্থায়ী স্থাপনা সড়িয়ে তৈরি করছেন বহুতল ভিত বিশিষ্ট একতলা পাকা ভবন ও বিপনীবিতান। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দ্বিতল ভবনও নির্মাণ করেছেন। নির্মাণের পর এসব ভবন কেউ কেউ নিজেরা ব্যবহার করছেন, কেউ বা ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। এখন প্রভাবশালীদের ভবন নির্মাণ দেখে অন্যরাও রেলের অনুমতি ছাড়াই রাতারাতি আরসিসি ভিত দিয়ে ভবন ও দোকান-পাট নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। রেলওয়ের সূত্রমতে, রেলের জমি বাণিজ্যিকভাবে ইজারা নিয়ে সেখানে অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাবে, কিন্তু স্থায়ী ভবন নির্মাণ বেআইনি। এছাড়া রেলের এসব জায়গা শর্ত সাপেক্ষে ইজারা নিয়ে দখলকারীরা অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করে বসবাসও করতে পারবেন। কিন্তু কেউই এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আরসিসি ভিত দিয়ে স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করেই চলেছেন। সম্প্রতি দেখা যায়, পৌর শহরের পুরাতন খেয়াঘাট এলাকায় ব্যবসায়ী মাসুম ও আক্কাছ আলী যৌথভাবে তাদের দখলকৃত রেলের জায়গায় থাকা টিনের ঘর সড়িয়ে রাতারাতি তিনতলা বিশিষ্ট আরসিসি ভিত দিয়ে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। নির্মাণ কাজের চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে শ্রমিকরা কয়েকদিন একটানা সেই ভবন তৈরির কাজ করছেন। এরপর কেউ বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করে গত শুক্রবার রাতে ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়। অনুমতি ছাড়াই ভবন নির্মাণের বিষয়ে আক্কাছ আলী জানান, ‘রেলের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ অবৈধ সেটা আমরা জানি। কিন্তু অন্যদের ভবন নির্মাণ দেখে আমরা এটা করেছি।’ এছাড়া শহরের বকুলতলা এলাকায় বিদ্যুৎ হোসেন ও হাসপাতাল পাড়ায় সবুর আলী নামে দুই ব্যক্তি তাদের নির্মণাধীন ভবনের দোতলার কাজ শুরু করেছেন। নির্মাণাধীন দোতলা ভবনের মালিক বিদ্যুৎ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিশেষ প্রক্রিয়ায় রেলের অনুমতি নিয়ে দোতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।’ খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এসব ভবন নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে পাকশী রেলওয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে বাধা প্রদান করেন। কিন্তু পরে তাদের সাথে ভবন নির্মাণকারীদের বনিবুনা হয়ে গেলে নির্মাণ কাজ পুনরায় চলতে থাকে। এভাবেই শহরের রেলের জমিতে একের পর এক গড়ে উঠছে প্রভাবশালীদের অধীনে প্রায় অর্ধশত স্থায়ী পাকা ভবন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, রেলওয়ে কর্তারা গোপনে বিল্ডিং নির্মাণকারীদের সহযোগিতা করে তাদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নেন। আর এ কারণে রেল হারাতে বসেছে তাদের জমি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাছুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, রেলের জমি রক্ষার দায়িত্ব তাদেরই। তবে তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইলে সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়া হবে। ভাঙ্গুড়ায় রেলের জমিতে অবৈধভাবে বহু স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইউনুস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ এসব ভবন আমাদের অগোচরে হয়ে গেছে। তাতে অসুবিধা নেই। দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ ভবন উচ্ছেদ করা হবে।’

Share.

Leave A Reply