হত্যার প্রমাণ লোপাটে কনস্যুলেটে বিশেষজ্ঞ পাঠায় সৌদি

0

এফএনএস ডেস্ক: ইস্তানবুলের সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার পর সেখানে দুইজন বিশেষজ্ঞ পাঠায় সৌদি আরব। এদের একজন টক্সিকোলজিস্ট বা বিষতত্ত্ববিদ, অন্যজন রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ। তুরস্কের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এর আগে তুর্কি সংবাদমাধ্যমেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, খুনের প্রমাণ লোপাটে পাঠানো দুই ব্যক্তি হচ্ছেন আহমেদ আবদুলআজিজ আলজানোবি এবং খালেদ ইয়াহিয়া আল জাহরান। তারা যথাক্রমে রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ এবং বিষতত্ত্ববিদ। ১২ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন তারা কনস্যুলেট ভবন পরিদর্শন করেন। এদিকে সাংবাদিক জামাল খাশোগির মৃতদেহ ফেরত চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার সন্তানেরা। ৪ নভেম্বর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাশোগির দুই ছেলে বলেছেন, তারা বাবাকে কবর দিতে সৌদি আরবে ফিরতে চান। বাবাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত করতে চান তারা। ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। কনস্যুলেট ভবনে তার হত্যাকা- সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কিংবা অন্য কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে আসছে দেশটি। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি মানছে না তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। ইউরোপীয় দেশগুলো এ ইস্যুতে রিয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জার্মানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চাপের মুখে পড়েন তার সৌদি সখ্য নিয়ে। দেশের ভেতরে কেবল বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির নয়,নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরেও সমালোচিত হওয়ার একপর্যায়ে তিনি এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হন। খাশোগি নিহত হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার মরদেহের হদিস এখনও মেলেনি। বাবাকে যথাযথভাবে দাফন করতে পারাটাই এখন সন্তানদের চাওয়া। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাশোগির দুই ছেলে সালাহ ও আব্দুল্লাহ নিজেদের সে ইচ্ছার কথাই ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী সালাহ বলেন, ‘এটা কোনও স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়, কোনভাবেই এটা স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এই মুহূর্তে আমরা যেটা চাই, তাহলো তাকে মদিনার জান্নাতুল-বাকি কবরস্থানে পরিবারের অন্য মৃত সদস্যদের কবরের পাশে সমাহিত করা। আমি এ ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি তারা শিগগিরই বাবার লাশ ফেরত দেবে।’

Share.

Leave A Reply