হাডসন নদীতে পাওয়া দুই সৌদি নারীর মরদেহ নিয়ে রহস্য

0

এফএনএস ডেস্ক: গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্কের হাডসন নদী থেকে উদ্ধার করা দুই সৌদি নারীর মরদেহ নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দারা ধারণা করেছিল, ব্রিজ থেকে হাডসন নদীতে লাফ দিয়েছেন ওই দুই সহোদরা। তবে বাড়ি থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ওই দুই মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দারা তাই এখন একে সুনিশ্চিত আত্মহত্যা আকারে দেখছেন না। আত্মহত্যার জন্য কেন ওই দুই নারীকে আড়াইশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, সে প্রশ্নও ভাবিয়ে তুলেছে তাদের। এদিকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি নিউ ইয়র্ক পুলিশ সূত্রে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন ওই দুই নারী। মরদেহ উদ্ধারের একদিন আগেই সৌদি দূতাবাস থেকে তাদের মাকে দেশ ছাড়তে বলা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দুই বোন সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুরহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে। গত ২৪ অক্টোবর নিউ ইয়র্কের হাডসন নদী থেকে উদ্ধার করা করা হয় তালা ফারিয়া (১৬) ও রোতানা ফারিয়া (২২) নামে দুই বোনের মরদেহ। তারা সৌদি আরবের নাগরিক ছিলেন। ২০১৫ সালে সৌদি আরব থেকে মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় পাড়ি জমান দুই বোন। গত বুধবার রিভারসাইড পার্ক থেকে যখন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তখন তাদের পরনে ছিল কালো লেগিন্স ও জ্যাকেট। হাত-পা বাঁধা ছিল টেপ দিয়ে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাশাপাশি দুই মরদেহ দেখে মনে হয়, তারা যেন পরস্পরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। চেহারায় ছিল না কোনও আতঙ্ক, পোশাকও ছিল সাবলীল।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও গোয়েন্দারা অনুমান করেছিল, ওই দুই বোন জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে শরীরে তেমন কোনও ক্ষতচিহ্ন না থাকায় নিজেদের অনুমানের ব্যাপারে নিজেরাই সংশয়ী হয়ে উঠেছে তারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে তাদের। কিন্তু বাড়ি থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে একটি নদীতে তাদের মরদেহ কীভাবে পাওয়া গেল সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না তদন্তকারীরা।

এক বিবৃতিতে সৌদি কনস্যুলেট জেনারেল জানান, দূতাবাস কর্মকর্তারা ওই দুই বোনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা তার ভাইয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনে ছিল। তবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস-এএফপি নিউ ইয়র্ক পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের একদিন আগেই তাদের মাকে ফোন দিয়ে দেশ ছাড়তে বলা হয় দূতাবাস থেকে। পুলিশ সূত্রে এএফপি জানিয়েছে, রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার কারণেই তাদের দেশ ছাড়তে বলা হয়। ওই নারীদের পরিচয় খুঁজে বের করতে প্রথমে তাদের স্কেচ তৈরি করে পুলিশ। সেই স্কেচের মাধ্যমে ২৬ অক্টোবর তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এখন ওই দুই বোনের পরিচিতজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্কের গোয়েন্দা প্রধান বলেন, তারা ওই দুই বোনের ব্যাপারে তথ্য পেয়েছেন। তদন্তকারীরা সেই তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে মৃত্যুরহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

Share.

Leave A Reply