পাবনা সদরে অপ্রত্যাশিত প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ, হাজারো নেতাকর্মীর হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ

0

আঁখিনূর ইসলাম রেমন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মার্কা নির্ধারণ হয়ে গেছে। প্রার্থীদের দল বা সমর্থকরা শুরু করে দিয়েছে জোর প্রচার প্রচারণা। কিন্তু শশ্মান নিরবতা বিরাজ করছে পাবনা-৫ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী প্রখ্যাত পরিবহণ শ্রমিক নেতা এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অনুসারীদের শিবিরে। প্রায় ৪০ বছরের রাজনীতির জীবনে যারা তার হাসি কান্নার সাথে জড়িত তারা হতবাক হয়ে গেছে শিমুল বিশ্বাসের দল বা জোটের সিদ্ধান্তে।

এখনো তারা বিশ্বাস করতে পারছে না যে তার দল বা জোট এমন অবিচার শিমুল বিশ্বাসের প্রতি করতে পারে? কারণ ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে পাবনা-৫ (সদরে) ধানের শীষ প্রতিক পেয়েছেন অপ্রত্যাশিত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ইকবাল হোসেন।

মার্কা নির্ধারনের আগে কাকডাকা ভোর থেকেই সদরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা গ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনার জন্য দলে দলে ঘুরতে দেখা গেছে। কিন্তু মার্কা জামায়াতের পক্ষে চলে যাওয়ার পর তাদের পদচারণা পাড়া মহল্লা গ্রামে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপির অনেক নেতা কর্মী ইতিমধ্যে ভোটের মাঠ ছেড়ে দিয়ে নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কার্যক্রম থেকে অনেকে সরে গিয়েছে। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ শিমুল বিশ্বাসের দলের জন্য ত্যাগের মূল্যায়ন নিয়ে।

১৯৫৮ সালে শহরের পুরাতন কুঠিপাড়া মহল্লার স¤্রান্ত বিশ্বাস পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিমুল বিশ্বাস। পিতা মরহুম আজিজুল ইসলাম বিশ্বাসের তৃতীয় সন্তান। মাতা শেফালি বিশ্বাস এখনও জীবিত।

শিমুল বিশ্বাসের শিক্ষার হাতে খড়ি পুরাতন কুঠিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালচন্দ্র ইনষ্টিটিউশন, সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজ, এডওয়ার্ড কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করার পর তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হয়ে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন। সে সময় তিনি বিনাপয়সায় বিচার প্রার্থীদের জন্য আদালতে লড়তেন যা সর্বজন বিদিত। তার আইন ব্যবসার জীবন ছাপিয়ে যেতে থাকে রাজনীতিক জীবন।

এর পাশাপাশি তিনি জড়িয়ে পড়েন শ্রমিক রাজনীতিতে। অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রম করে পরিবহণ শ্রমিকদের জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন। দেশের প্রভাবশালী পরিবহণ সংগঠন সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন।

ছাত্র জীবন থেকেই তিনি কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রামে সামিল হন। মৌলবাদ বিরোধী ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার কারণে ছাত্র অবস্থায় তাকে বার বার কারাবরণ করতে হয়।

পাবনার রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার কারণে ২০০০ সালে কয়েক হাজার নেতা কর্মিকে নিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে বিএনপি জোট রাষ্ট ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরণী নৌ-করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসাবে তাকে নিয়োগ দেন। দুর্নীতি অনিয়ম আর অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি তার মেধা যোগ্যতা আর সততা দিয়ে টেনে তোলেন। তার ৫ বছর মেয়াদকালে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক লাভজনক ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। সে সময় পাবনার কয়েক শ যুবক বিনা পয়সায় সরকারি চাকরি পান তার চেষ্টায়। বেকার তরুণদের জীবন যাত্রার মান উন্নতিকল্পেও তিনি সচেষ্ট। তার অসাধারণ দরদী মন ও কর্ম প্রবাহের মধ্যে দীপ্ত হয়ে ওঠে দেশ উন্নয়নের লক্ষ্য। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পাবনাবাসীর অনগ্রসরতা তাকে ব্যথিত করে বলেই কর্মহীনদের কর্মে আত্মনিয়োগের সুযোগ করে দেন।

২০০৩-২০০৪ সালে পাবনা জেলায় ভায়াবহ বন্য দেখা দিলে বহু মানুষ দূর্গত হয়ে পড়েন এবং গৃহহারা হয়ে পড়েন, সে সময় কল্যাণকার্মী শিমুল বিশ্বাস তার কর্মঠ দেড় শতাধিক কর্মী নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এর সহযোগিতায় বন্যা দূর্গতদের আশ্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন ২০ হাজার করে রুটি তৈরী করে প্রায় ২০ দিন সরবরাহ করেন। বন্যা পরবর্তী পুর্নবাসনের জন্য তিনি কয়েক হাজার মানুষকে ঘর তৈরী করে দেন। কর্মসংস্থানের জন্য তাদের হাতে তুলে দেন রিকশা, ভ্যান, চাউল-ডাউল, তেল, লবণ, আলু, দুধ ইত্যাদি। এটা অবিস্মরণীয় ঘটনা।

এছাড়া পরবর্তিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তার দাদার নামে আহেদ আলী বিশ্বাস ট্রাষ্ট, পরিবারের মূল্যবান সম্পত্তি দান করে সেখানে গড়ে তোলেন আহেদ আলী বিশ্বাস কলেজ ও স্কুল। প্রায় ১৫০ বিঘার মত জমি পরিবারের পক্ষ থেকে দান করেন দাদার নামে ট্রাষ্টে। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে এতিম খানা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি ট্রাষ্টের তরফ থেকে অনেক দুস্থ মানুষ অর্থনৈতিক সুবিধাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়ে থাকেন।

এ কথাগুলি লেখার কারণ বিষয়গুলি উল্লেখ করে তার একজন সমর্থক বলেছিলেন, একজন ভোট প্রার্থীর ভোট প্রার্থনার পিছনে কিছু কাজকর্ম থাকতে হয় সমাজে কিছু না কিছু অবদান রাখতে হয়, শুধু রাজনৈতিক আর জোট মার্কায় ভোট আসে না। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন ভোট আসবেনা এটা তো দলের ব্যাপার জোটের ব্যাপার। তিনিই পাল্টা প্রশ্ন করে বসলেন যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তার সমাজে কি অবদান আছে? সদরের মানুষের জন্য তিনি কী করেছেন? ভোটারদের কাছে তার কি কাজের অবদানের কথা উল্লেখ করবো? শুধু রাজনৈতিক দলের বড় নেতা হলেই হবে না। শিমুল বিশ্বাসের মত মানব সমাজের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু ধর্মীয় লেবাস পরে ধর্মের কথা বললেই চলবে না। দেখুন এত বিপদ আপনাদের মাঝেও তিনি সদরের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ১৫ থেকে ২০টি মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন বিদেশী সংস্থার সহযোগিতায়।

তার দীর্ঘ দিনের সহকর্মী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর সাবেক সিনেট সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবুর কাছে শিমুল বিশ্বাসের চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, জিয়া পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণে শিমুল বিশ্বাসের উপর যে অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে ১১৩টি সাজানো মামলা দিয়ে দীর্ঘ দিন কারাগারে রাখা হয়েছে এমনকি সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এসব অন্যায় অবিচারের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়ার জন্য পাবনা সদরের মানুষ প্রস্তুত হয়েছিল। তার বিজয় প্রায় নিশ্চিত ছিল কিন্তু জোটের কারণে তাকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে যায় ১/১১ এর সেনা সমর্থিত সরকারের সময়। সে সময় তার দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলে শিমুল বিশ্বাস তার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘর সংসার স্বজন সমর্থকদের সকল বাধা উপেক্ষা করে দলীয় প্রধানের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। বলতে গেলে একাই তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সংগ্রামের মুখপাত্র হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে তাকে বেগম জিয়ার বিশেষ সহকারী হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই থেকেই বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার সময় পর্যন্ত তিনি তার ছায়াসঙ্গী ছিলেন। দলের প্রতি এবং দলীয় প্রধানের প্রতি অগাধ আনুগত্যের কারণে তাকে সরকারের রোষানলে পড়তে হয়। কোন ঘটনার ধারের কাছে না থাকলেও তাকে ১১৩টি মামলার আসামী করা হয়। বেগম খালেদা জিয়াকে যে দিন কারাগারে পাঠানো হয় সে দিনই তাকে গ্রেফতার করে দফায় দফায় পুলিশী রিমান্ডে নেওয়া হয়। দীর্ঘ দিন রিমান্ড শেষে তাকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকেই তিনি সেখানে কারাবন্দি জীবন যাপন করছেন।

আলাপচারিতায় শিমুল বিশ্বাসের ব্যাপারে তার দলের একজন যুবনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, “শিমুল বিশ্বাস মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের রাজনৈতিক বাণিজ্যের কারণে। তা না হলে তার ত্যাগ দলের প্রতি আনুগত্য ভালবাসার পুরস্কার এটা হতে পারে না। কি ভাবে ধানের শীষ প্রতীক রাতারাতি হাইজ্যাক হয়ে জামায়াতের ঘরে চলে গেল? এতে করে হাজারো নেতা কর্মির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কি দেখতে বা বুঝতে পারবেন ঐ সব নীতি নির্ধারকরা?

শিমুল বিশ্বাসের রাজনীতি জীবনের দীর্ঘ দিনের সহকর্মী পাবনা বারের সাবেক সম্পাদক এড. নাজমুল হোসেন শাহীন আলাপচারিতায় মনোনয়ন না পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জানালেন এটা দলীয় সিদ্ধান্ত যা আমাদের মেনে নিতে হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মিরা কতটুকু মেনে নিতে পারবে তা দেখার অপেক্ষায় আছি। বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা কিছু কিছু জেলায় ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখালেও জেলখানা থেকে শিমুল বিশ্বাসের কঠোর নির্দেশ থাকার কারণে নেতাকর্মীরা এ ব্যাপারে একটি টু শব্দও করেনাই। দল বা জোট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা মেনে নিতে বলেছেন। অথচ এই দলের প্রধানের জন্য দলের আনুগত্যর জন্য ১১৩টি সাজানো মামলার আসামী হয়ে দীর্ঘ দিন কারাগারে আটক অবস্থায় থেকেও দল বা কেন্দ্রীয় নেতাদের সহানুভূতিটুকু পেলেন না? যা দুঃখজনক বেদনাদায়ক। কারণ এবার আমাদের নেতার বিজয় ছিল প্রায় নিশ্চিত।

শিমুল বিশ্বাসের কুঠিপাড়াস্থ বাসভবনেও শশ্মান নিরবতা অথচ কয়েক দিন আগেও নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার পর থেকে সকাল বিকেল শত শত নেতাকর্মী সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো। চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় তার বড় ভাই লুৎফর রহমান বাবুল বিশ্বাসের কাছে, তিনি ক্ষোভের সাথেই বললেন আজ দল এবং দলীয় প্রধানের প্রতি আনুগত্যের কারণে ১১৩টি মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে নারায়ণগঞ্জের কারাগারে দিন যাপন করছে। আমার ভাই যদি বিএনপির নীতি নির্ধারক হতো তা হলে তো সে নমিনেশন পেতো? তা হলে কেন তাকে ১১৩ মামলার আসামী করা হল? আমার ভাই সরকারের কাছে সুবিচার পায় নাই, দলের কাছ থেকেও সুবিচার পেল না। আমরা আদালতের কাছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সুবিচার চাই তাকে জামিন দেয়া হোক। তার দ্রুত সুচিকিৎসার প্রয়োজন। আমরা ভোট/মার্কা বুঝিনা আমরা এখন শুধু বুঝি আমার ভাইয়ের মুক্তি।

পাবনা সদরের একজন কলেজ শিক্ষক তিনি বিএনপির একজন সাধারন সমর্থক ভোট দিয়ে থাকেন ধানের শীষে, ‘তাকে প্রশ্ন এবারও মনে হয় আপনি ধানের শীষে ভোট দেবেন’ তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, গত ২দিন আগে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ দেখলাম জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেছেন, ‘পাবনা সদরে বিএনপি-জামায়াত একট্টা, সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন’। ঐসব নেতারা কোথায় পেলেন বিএনপি-জামায়াত একট্টা? ওনারা কি ভাবে বলেন সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবে। এসব ভেক কথা ও বক্তব্য দিয়ে সাধারণ সমর্থকদের বিভ্রান্ত না করার জন্য সন্মানিত নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করবো। কারণ কয়েকজন ব্যক্তির ঐক্য কখনো সাধারন ভোটারদের ঐক্য হয় না ভোটের ঐক্য চেতনার আর হৃদয়ের।

তার সমর্থক বা ভোটারদের মনে নানা প্রশ্ন। ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বা ধানের শীষের বিপক্ষে নির্বাচন করেছেন ২ বার। এক বার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে, একবার মেয়র পদে। তখন তো তিনি জোটের কথা ভাবেন নি? ধানের শীষের মার্কার কথা ভাবেন নি? আর এখন সেই ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের কৃত্রিম ধোয়া তুলে বিএনপি নেতা কর্মী সমর্থকদের কাছে কোন মুখে ভোট চাইতে যাবেন?

এ দিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষেকদের ধারণা

(১) শিমুল বিশ্বাস মনোনয়ন না পাওয়ায় পাবনা সদর বিএনপির নেতা কর্মী ও তার সমর্থকদের ভোটের মাঠে ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা থেকে যাবে জোট প্রার্থীর। (২) ২০০৮ সালের নির্বাচনে পাবনা সদরে ২০ দলের প্রার্থী ছিলেন বর্ষিয়ান নেতা মাওঃ আব্দুস সূবহান। সে নির্বাচনে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এমনকি শিমুল বিশ্বাসের সহোদোর ভাইও ভোট প্রার্থনার জন্য মাঠে নেমেছিল কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। জিতে ছিলেন গোলাম ফারুক প্রিন্স। তা হলে এবারও ফলাফল কি ভাবনার বিষয়, জোট প্রার্থীর। (৩) বিএনপির এবং শিমুল বিশ্বাসের অনেক কর্মী সমর্থক উগ্র ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি বিরোধী তারা অধিকাংশ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী অতএব এ সকল ভোটারদের ভোট নিয়ে শঙ্কায় থাকবে জোট প্রার্থী।

তবে বিএনপি ও অংগ সংগঠনের কিছু কিছু নেতা কর্মীরা মনে করেন সকল রাগ অভিমান ক্ষোভ থাকনা কেন, শেষ পর্যন্ত সবাই ধানের শীষের পক্ষে থাকবে। অতএব আগামী ৩০ ডিসেম্বর জোট প্রার্থী ব্যালটে এ সব প্রশ্নের কি জবাব পান তা দেখার অপেক্ষা রইল পাবনা সদরের।

Share.

Leave A Reply