কেবল ‘মিরাকল’ই বাঁচাতে পারে কয়লা খনিতে আটকে পড়া ভারতীয় শ্রমিকদের

0

এফএনএস ডেস্ক: ভারতের কয়লাখনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চলমান থাকলেও তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ফুরিয়ে আসছে। দুই সপ্তাহ আগে কয়লা উত্তোলন করতে মেঘালয় রাজ্যের এক খনিতে নেমে আটকে পড়েন তারা। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী বলছেন, ঈশ্বরের কৃপা আর কিছু ‘মিরাকল’ ঘটলেই কেবল তাদের বাঁচাতে পারে। আটকে পড়া ১৫ শ্রমিককে উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের প্রচেষ্টা থামেনি এখনও। তারা যেন নিরাপদে বের হয়ে আসতে পারে; সেজন্য প্রার্থনা করছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। ১৩ ডিসেম্বর পূর্ব জয়ন্তিয়ার জঙ্গলের ভেতর অবৈধ খনি থেকে কয়লা তুলতে নেমেছিলেন ওই ১৫ গ্রামবাসী। এরপরই খনিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে সেখানে আটকে পড়েন তারা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলেও দৃশ্যত শ্রমিকদের জীবিতদের উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। কেননা, অসাধু উপায়ে খোঁড়া খাদ বা গর্ত দিয়ে সেখানে প্রচুর বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। খনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী লিটিয়েন। পাশে নদী বয়ে যাওয়ায় বিপত্তি আরও চরমে পৌঁছায়। খনি সংলগ্ন লিটিয়েন নদী এবং অপর একটি খনি থেকে সেখানে প্রতিনিয়ত পানি ঢুকতে থাকায় তাদের বেঁচে থাকার আশা ক্রমশ কমে আসছে। অবৈধভাবে খনিটিতে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের নিরাপদে উদ্ধার করতে এখন অলৌকিক  কিছুর প্রত্যাশা করছে মেঘালয়ের রাজ্য সরকার। মেঘালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী কিরমেন শিলা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, শুধু ঈশ্বরের অনুগ্রহ এবং কিছু অলৌকিক কাজ তাদের জীবিত বের হতে সাহায্য করতে পারে। পুরনো এই খনিটি থেকে কয়লা আহরণ অবৈধ। ‘র্যাট হোল’ খনি নামে পরিচিত এ ধরণের খনি মেঘালয়ে অনেক রয়েছে। এসব খনি থেকে কয়লা আহরণ বিপদজনক। তবুও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী কর্মীদের মাটির শত শত ফুট নিচে পাঠিয়ে কয়লা আহরণ করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এবারের ঘটনায় বন্যার কারণে গত রবিবার উদ্ধারকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে অবশ্য নতুন করে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। আটকেপড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পানি নিষ্কাশনের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প চেয়েছে রাজ্য সরকার। তবে সরকারের সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সাহায্য চাওয়া হলেও সরকার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

টুইটারে দেওয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, মোদি সরকার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প মেশিন দিতে অস্বীকার করেছে। দুই সপ্তাহ ধরে ১৫ জন শ্রমিক কয়লা খনিতে আটকেপড়া অবস্থায় রয়েছে। আর মোদি বোগীবিল ব্রিজে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ওই শ্রমিকদের বাঁচান।

জানা গেছে, খনিতে আটকেপড়া শ্রমিকদের মধ্যে সাতজন মেঘালয়ের পশ্চিম গারো পার্বত্য জেলার, পাঁচজন আসামের ও বাকি তিনজন প্রত্যন্ত লুমথারি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভারতের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনীর (এনডিআরএফ) প্রায় শতাধিক সদস্য খনি এলাকায় অবস্থান করছেন। দলটির কমান্ডার এসকে শাস্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ব্যহত হচ্ছে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, সেচ দিয়ে খনি থেকে বাইরে পানি ফেলা শুরু করলেও পাশের নদী ও খনি থেকে তা ভরাট হতে থাকায় রবিবার উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নতুন করে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত এর সুফল মেলেনি।

Share.

Leave A Reply