দুই ওভারে নায়ক মুস্তাফিজ

0

এফএনএস স্পোর্টস: ৪ ওভারে রান দিয়েছেন ১৭, উইকেট নেই একটিও। নায়ক তবু মুস্তাফিজুর রহমানই। বাঁহাতি এই পেসারের শেষ দুই ওভারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের জবাব পেল না ব্যাটসম্যানরা। রংপুর রাইডার্সের মুঠো থেকে জয় বের করে আনল রাজশাহী কিংস।

বিপিএলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে রংপুর রাইডার্সকে ৫ রানে হারিয়েছে রাজশাহী কিংস। মিরপুরে রোববার রাজশাহীর ১৩৫ রান তাড়ায় রংপুর থমকে যায় ১৩০ রানে।

শেষ ৩ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। উইকেট ছিল ৫টি, ক্রিজে ছিলেন থিতু হয়ে যাওয়া রাইলি রুশো। সেই সহজ সমীকরণও রংপুর মেলাতে পারেনি মুস্তাফিজের বোলিং নৈপুণ্যে।

অষ্টাদশ ওভারে বোলিংয়ে এসে মুস্তাফিজ দেন ৪ রান। ইসুরু উদানার করা পরের ওভার থেকে আসে ৮ রান। ওভারের শেষ বলে আউট হন নাহিদুল ইসলাম।

শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ৯ রান। মুস্তোফিজের প্রথম বলে রুশো নেন সিঙ্গেল। পরের তিন বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেনি ফরহাদ রেজা। তার ব্যাট বলের নাগাল পায়নি পঞ্চম বলেও, তবে পড়িমড়ি দৌড়ে একটি রান আসে বাই থেকে। শেষ বলে ছক্কা মারতে পারলেও ম্যাচ যেত সুপার ওভারে, কিন্তু রুশো নিতে পারেননি এক রানের বেশি।

ফিল্ডিংয়ের সময় দ্বাদশ ওভারে রাজশাহী অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ‘ফেইক’ ফিল্ডিংয়ে’ (ডাইভ দিয়ে বল ধরার ভান করে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা) রংপুর পেনাল্টি থেকে পায় ৫ রান। কঠিন সমীকরণের ম্যাচে সেটির খেসারত দিতে হচ্ছিল দলকে। শেষ পর্যন্ত তাদের আফসোস করতে হয়নি মুস্তাফিজের সৌজন্যে।

রংপুরের রান তাড়ার শুরুটা ছিল চমক দিয়ে। মেহেদী মারুফ এ দিন একাদশে ছিলেন না, ক্রিস গেইলের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা! তবে সেই ফাটকা কাজে লাগেনি। প্রথম ওভারেই কামরুল ইসলাম রাব্বির দুর্দান্ত এক ডেলিভারি শূন্যতেই ফেরায় মাশরাফিকে।

রয়ে-সয়ে শুরুর পর গেইল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ঝড়ের। রাব্বির এক ওভারেই মারেন দুটি করে চার ও ছক্কা। কিন্তু সেই ওভারেই স্লোয়ার ফুল টসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৪ বলে ২৩ রান করে।

রংপুরের বিপদ টের পাওয়া যায়নি তখনও। মোহাম্মদ মিঠুন শুরু করেন প্রথম বলে ছক্কায়। ফর্মে থাকা রাইলি রুশো দলকে ছিলেন ছন্দেই। দুজনের ব্যাটে এগিয়ে যায় রংপুর।

রাজশাহীকে ম্যাচে ফেরান মোহাম্মদ হাফিজ। ৩০ রান করা মিঠুনকে ফেরানোর পর রবি বোপারাকেও আউট করে দেন অফ স্পিনে। বেনি হাওয়েল ফেরেন রান আউটে।

রুশো ছিলেন বলেই তবু ম্যাচ হেলে ছিল রংপুরের দিকে। নাহিদুলও সঙ্গ দিচ্ছিলেন ভালো। কিন্তু শেষে এসে সব গড়বড় মুস্তাফিজের সামনে। শেষ ওভারে ফরহাদের মতো অভিজ্ঞ একজনও সিঙ্গেল নিয়ে রুশোকে স্ট্রাইক দেওয়ার বদলে টানা তিন বলে চাইলেন বড় শট খেলতে। কাজের কাজ হলো না। ৪৪ রানে অপরাজিত রুশো অসহায় হয়ে দেখলেন সম্ভাবনার মৃত্যু।

অথচ ম্যাচের শুরুটা রংপুরের ছিল দারুণ। বল হাতে মাশরাফি ছিলেন আবারও দুর্দান্ত, বাকিরাও করেছেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং।

মেহেদী হাসান মিরাজের ওপেনিংয়ে নামার ফাটকা এ দিন কাজে লাগেনি। মাশরাফির বলে শূন্য রানে আউট হয়েছেন শফিউল ইসলামের দারুণ ক্যাচে। আরেক ওপেনার মুমিনুল হক ১৬ বলে ১৪ রান করে স্টাম্পড হন সোহাগ গাজীর বলে।

তিনে নামা সৌম্য সরকারের ব্যাটে ছিল ভালো কিছুর ইঙ্গিত। কিন্তু পূর্ণতা পায়নি সম্ভাবনা। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ১৮ করে তিনি শিকার মাশরাফির। ষষ্ঠ ওভারে রাজশাহীর রান তখন ৩ উইকেট ৩৬।

ধুঁকতে থাকা দলকে উদ্ধার করেন মোহাম্মদ হাফিজ ও জাকির। চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন ৫৪ রানের জুটি। রানের গতি যদিও বেশি ছিল না, কিন্তু দলকে ভদ্রস্থ একটি পর্যায়ে অন্তত নিতে পারেন দুজন। ২৯ বলে ২৬ করে হাফিজ রান আউট হন রবি বোপারার সরাসরি থ্রোয়ে।

এরপর সুবিধা করতে পারেননি লরি ইভান্স। টুর্নামেন্টে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া রায়ান টেন ডেসকাট রান আউট হন একটি ছক্কা ও চারে ১৪ রান করে।

শেষ দিকেও আসেনি প্রত্যাশিত গতিতে রান। জাকির শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৬ বলে ৪২ রান করে।

৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের শিকার মাশরাফি নিয়ে গেছেন দশে। ম্যাচ শেষে তবু হতাশ মনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। উইকেট না নিয়েও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (মুমিনুল ১৪, মিরাজ ০, সৌম্য ১৮, হাফিজ ২৬, জাকির ৪১*, ইভান্স ২, ডেসকাট ১৪, উদানা ৮, সানি ১, রাব্বি ১*; সোহাগ ৩-০-২৫-১, মাশরাফি ৪-০-২২-২, নাহিদুল ২-০-১৪-০, নাজমুল ২-০-১৪-০, হাওয়েল ৩-০-২০-০, শফিউল ৪-০-১৯-১, ফরহাদ ২-০-১৭-২)।

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভোরে ১৩০/৬ (গেইল ২৩, মাশরাফি ০, মিঠুন ৩০, রুশো ৪৪*, বোপারা ১, হাওয়েল ৪, নাহিদুল ১৬, ফরহাদ ০*; রাব্বি ২-০-২২-২, মিরাজ ৪-০-২৬-০, উদানা ৪-০-২২-১, মুস্তাফিজ ৪-০-১৭-০, সানি ২-০-১২-০, হাফিজ ৪-০-২২-২)

ফল: রাজশাহী কিংস ৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: জাকির হাসান

Share.

Leave A Reply