‘ভারতে গিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের নাম প্রথম শুনেছি’

0

এফএনএস স্পোর্টস: বিশ্ব ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকার জীবন্ত এক কিংবদন্তি। পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে লিটল মাস্টারের ভক্ত। কিন্তু ফুটবলার কেভিন বেলফোর্টের কাছে অজানাই ছিল টেন্ডুলকারের নাম। ২০১৬ সালে টেন্ডুলকার নামটি প্রথম শোনেন তিনি। সেটিও টেন্ডুলকার ক্লাবের মালিক বলে। ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল আইএসএলে টেন্ডুলকারের মালিকানায় থাকা দলটির নাম কেরালা ব্লাস্টার্স। হাইতির সেই ফুটবলার বেলফোর্ট বাংলাদেশে খেলছেন আবাহনী লিমিটেডের জার্সিতে। ক্লাবে বসেই শোনালেন টেন্ডুলকারকে প্রথম চেনা ও তাঁর প্রতি রোমাঞ্চের কথা। ২০১৬ সালে কেরালায় নাম লেখান হাইতি জাতীয় দলের স্ট্রাইকার বেলফোর্ট। ভারতে পা রাখার পর থেকে তাঁর কাছে গণমাধ্যমের প্রশ্ন ছিল, মালিক হিসেবে লিটল মাস্টারকে কেমন লাগছে? কিন্তু লিটল মাস্টার আবার কী, টেন্ডুলকার আবার কে! ইন্টারনেটে ঘেঁটে বেলফোর্টের চক্ষু চড়কগাছ। ক্লাবের মালিক তো মহাতারকা, রীতিমতো কিংবদন্তি! আবাহনী ক্লাবে বসে টেন্ডুলকারকে নিয়ে সেই মজার গল্পটাই শোনালেন, ‘ভারতে খেলার সময় প্রথম দিকে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হতো লিটল মাস্টারের কথা। কিন্তু আমি তো আর তাঁকে চিনি না। পরে ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখতে পেলাম, আমার ক্লাবের মালিক টেন্ডুলকারই লিটল মাস্টার, সে বিশাল তারকা। অথচ ভারতে এসেই টেন্ডুলকারের নামটা প্রথম শুনেছি।’ হাইতিতে ক্রিকেট ততটা পরিচিত খেলা নয়। টেন্ডুলকারকে না চেনাটাও দোষের কিছু নয়। কিন্তু টেন্ডুলকারকে চেনার পর আবার অন্য রকম মুগ্ধতা কাজ করছিল বলেও জানালেন, ‘এত বড় একজন তারকা, অথচ তাঁর মধ্যে কোনো অহমিকা নেই। সবার সঙ্গে খুব আন্তরিকভাবে মিশতেন। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ, সবার খোঁজখবরই নিতেন।’ টেন্ডুলকারের দলের হয়ে ১৫ ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন বেলফোর্ট। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত শতবর্ষী কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টে হাইতির হয়ে তিনটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন বেলফোর্ট। কোপায় তিনটি ম্যাচে মোট ১৩৮ মিনিট মাঠে ছিলেন হাইতিয়ান এই তারকা। ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪৯, ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৭০ আর পেরুর বিপক্ষে ১৯ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। হাইতির হয়ে অভিষেক ২০১০ সালে। ৪০ ম্যাচ খেলে করেছেন ১৪ গোল। এর মধ্যে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৩ ম্যাচ খেলে করেছেন ৪ গোল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও গোল আছে আবাহনীতে নাম লেখানো এই স্ট্রাইকারের। কিন্তু বাংলাদেশ পর্বটা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। তাঁকে দলে ভেড়ানোর জন্য হাইতি থেকে উড়িয়ে এনেছিল নবাগত বসুন্ধরা কিংস। বসুন্ধরার জার্সিতে নীলফামারীতে মালদ্বীপ চ্যাম্পিয়ন নিউ রেডিয়ান্টের বিপক্ষে খেলেছিলেন প্রস্তুতি ম্যাচও। কিন্তু বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজুনের মন ভরেনি বলে তাঁকে ছেড়ে দেয় বসুন্ধরা। পরে দলে ভেড়ায় আবাহনী। ইতোমধ্যে আকাশি-নীলদের জার্সিতে জিতেছেন ফেডারেশন কাপের শিরোপা। ফাইনালে বসুন্ধরার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচে একটি গোল ও করেছিলেন বেলফোর্ট। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের তিনটি ম্যাচ খেলে এখনো পাননি গোলের দেখা। ভারতে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। প্রতিবেশী দুই দেশের ফুটবলের পার্থক্যটা তাঁর ভালোই জানা, ‘বাংলাদেশের ফুটবলে পেশাদারত্ব নেই বললেই চলে। মানুষের আগ্রহ খুবই কম। কেরালায় যখন ছিলাম, সমর্থকদের জন্য রাস্তায় বের হতে পারতাম না। সবাই ছবি তুলতে চাইত। অথচ এখানে ফুটবলের কোনো আমেজই নেই।’

Share.

Leave A Reply