আল কায়েদাকে অস্ত্র সরবরাহ করছে সৌদি আরব

0

এফএনএস আর্ন্তজাতিক: ইয়েমেনের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে সৌদি আরব অস্ত্র সরবরাহ করছে, প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনে বিচলিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এলিয়ট এঙ্গেল।

সোমবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ও আরব সামরিক জোটে তার প্রধান অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র ইয়েমেনের আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোদ্ধা ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর কাছে হস্তান্তর করছে। এসব অস্ত্রের কিছু অংশ শেষ পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে গিয়ে পড়ছে এবং তাতে ইরানের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

এসব অভিযোগের পর মার্কিন কংগ্রেস সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে আরও বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করবে কি না বুধবার কমিটির এক শুনানিতে এ প্রশ্ন রেখেছেন এঙ্গেল, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

বুধরাত রাতে ওই কমিটির ভোটাভুটিতে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধরত সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশগুলোকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বিরত রাখার একটি প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আসে।

“এই প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত বিচলিত হওয়ার মতো। ট্রাম্প প্রশাসনের অবশ্যই আরও তদন্ত করতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কাজ করতে হবে,” শুনানিতে বলেছেন ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি এঙ্গেল।

সৌদি জোটের কাছে মারণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কংগ্রেস আরও বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করবে কি না, এ প্রশ্নও রাখেন তিনি। বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে পুনর্বিবেচনা ও তা ‘স্থগিত’ রাখার অধিকারও রাখেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে তারা।

এ ধরনের সব প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে মন্তব্য করে মন্ত্রণালয়টির এক কর্মকর্তা বলেছেন, “এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং আরও তথ্য খুঁজছি।”

শুনানিতে সৌদি আরবের বিষয়ে সমালোচনাপূর্ণ মন্তব্য করেন এঙ্গেল ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

তবে সৌদি আরবের বিষয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের হতাশা প্রকাশের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলায় একের পর এক বেসামরিক নিহতের ঘটনা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশুগজির হত্যাকা- ইত্যাদি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা আগে থেকেই সৌদি আরবের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।

গত বছর আইনপ্রণেতারা রিয়াদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লেনদেনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে প্রস্তাবসহ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে অস্ত্র বিক্রিতে বিধিনিষেধ, সামরিক সহযোগিতা বন্ধসহ মানবাধিকার নিয়ে বিয়াদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

তবে এসব বিলের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার ও দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রিকে মার্কিন চাকরির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করে এসব বিলের অধিকাংশেরই বিরোধিতা করেছে।

Share.

Leave A Reply